• বুধবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ১৪ ১৪২৭

  • || ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আশুরার রোজায় রয়েছে অতীতের এক বছরের গুনাহ ক্ষমার সুযোগ

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২০  

ইসলাম ও মুসলমানের জন্য মহররম মাসে রয়েছে অনেক শিক্ষণীয় ও পালনীয় বিষয়। তাইতো এ মাসের ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ তারিখে ২টি রোজা রাখা উত্তম।

মনে রাখা জরুরি যে, হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। এ মাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মাস। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে দ্বীন প্রচারের জন্য বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রিয় মাতৃভূমি ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করেন। যাকে কেন্দ্র করেই আজকের হিজরি সন। যা আজো মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আলোকবর্তিকা হিসেবে জাগরিত হয়ে আছে।

মুহররম মাস শুধুমাত্র কারবালার ঘটনা স্মরণ করার মাস নয়। কারবালকে কেন্দ্র করে এ মাস মর্যাদার নয়, বরং এ মাস গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মাস, ত্যাগের মাস, ভালো কাজ করার মাস, খারাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকার এবং মুসলিম বিশ্বকে নতুন করে গড়ার তোলার দৃঢ় প্রতিজ্ঞার মাস।

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রোজা রাখার জন্য এত অধিক আগ্রহী হতে দেখিনি যত দেখেছি এই আশুরার দিন এবং রমজান মাসের রোজার প্রতি। (বুখারি)।

মহররম মাস সম্মানিত হওয়ার মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে আশুরা বা মহররমের দশ তারিখ। পৃথিবীর শুরু থেকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা এ দিনে সংঘটিত হয়েছে। ফলে ইসলামি শরীয়তে কিছু দিনে যে স্বতন্ত্র আমলের কথা বলা হয়েছে, তন্মধ্যে আশুরা’র দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহুল।

হাদিসের ভাষ্যে নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) যখন হিজরত করে মদিনা পৌঁছেন, তখন তিনি দেখলেন যে মদিনার ইহুদি সম্প্রদায় আশুরার দিনে রোজা পালন করছে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, আশুরার দিনে তোমরা রোজা রেখেছ কেন? তারা উত্তর দিল, এই দিনটি অনেক বড়। এই পবিত্র দিনে মহান আল্লাহ মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরআউনের কবল থেকে রক্ষা করেছিলেন আর ফেরআউন ও তার বাহিনী কিবতি সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হজরত মুসা (আ.) রোজা রাখতেন, তাই আমরাও আশুরার রোজা পালন করে থাকি। তাদের উত্তর শুনে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, হজরত মুসা (আ.) এর কৃতজ্ঞতার অনুসরণে আমরা তাদের চেয়ে অধিক হকদার। অতঃপর তিনি নিজে আশুরার রোজা রাখেন এবং উম্মতকে তা পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেন। (বুখারি: ৩৩৯৭, মুসলিম: ১১৩৯)।

ইহুদিরাও আশুরার দিন রোজা পালন করতো বিধায় মুসলমানদের জন্য আশুরার পূর্বের বা পরের দিন মিলিয়ে রোজা রাখতে আদেশ করেছেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত- ‘মহানবী (সা.) যখন আশুরার দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করেন, তখন সাহাবিরা অবাক হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইহুদি-নাসারারা তো এই দিনটিকে বড়দিন মনে করে। (আমরা যদি এই দিনে রোজা রাখি, তাহলে তো তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে। তাদের প্রশ্নের উত্তরে রাসূল (সা.) বললেন, ‘তারা যেহেতু এ দিন একটি রোজা পালন করে) আগামী বছর ইনশাআল্লাহ! আমরা এই ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে দুই দিন রোজা পালন করব। (মুসলিম: ১১৩৪)। বর্ণনাকারী বলছেন, আগামী বছর আসার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত হয়ে গিয়েছেন।

অপর হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘তোমরা আশুরার রোজা রাখ এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে; আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোজা রাখো। (মুসনাদে আহমদ ১/২৪১)।

আশুরার রোজায় রয়েছে অতীতের এক বছরের গুনাহ ক্ষমার সুযোগ:

অন্য আরো এক হাদিসে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোজার কারণে আল্লাহ তায়ালা অতীতের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ১/৩৬৭; জামে তিরমিযী: ১/১৫৮)।

ইসলামের দৃষ্টিতে আশুরা উপলক্ষে দু’টি রোজা রাখা মুস্তাহাব। অর্থাৎ ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ তারিখ। 

পরিশেষে...

আশুরার রোজা হয়ে উঠুক মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও মুক্তির মাধ্যম। এবং সেই সঙ্গে হয়ে উঠুক করোনামুক্ত পৃথিবী। 

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা সব মুসলিম উম্মাহকে রাসূলের (সা.) সুন্নত অনুযায়ী আশুরার রোজা রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া