• বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২০ ১৪২৭

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

১১৩২

করোনার সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহে নজরদারির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২০  

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কারচুপি করছেন কি-না তার ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এন-৯৫ লেখা বক্স। কিন্তু ভিতরে যে জিনিসটা সেটা সঠিক কি-না, এটা আপনাদের জানা দরকার। এটাতে একটু নজর দেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) গণভবনে দেশব্যাপী করোনাভাইরাস মোকাবিলার কার্যক্রম সমন্বয় করার লক্ষ্যে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোর সঙ্গে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্স করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে বিভিন্ন সময় চার দফায় ৪৩টি জেলায় জেলা প্রশাসকদের কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়ে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করেন তিনি।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী একজন নার্সের সাথে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় একজন নার্স দায়িত্ব পালনের সময় যাতায়াতের অসুবিধার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরের আনেন।

সিনিয়র স্টাফ নার্স চন্দনা রানী দত্ত করোনাভাইরাস মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করে যাওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘তারপরও আমরা আক্রান্ত হচ্ছি বেশি। ময়মনসিংহে বলতে গেলে পার্সেন্টেজ হিসাবে আমরা স্টাফরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছি।’

এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবু আমি বলি, একটা মহৎ কাজ আপনারা করছেন। আমি জানি আমাদের ডাক্তার নার্স এবং স্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে যারা জড়িত, আমাদের পুলিশবাহিনী, সশস্ত্র বাহিনীসহ প্রত্যেকেই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।’

এ জন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের প্রত্যেক এলাকায় যেখানে যে ডাক্তার ও নার্স ডিউটি করে তাদের দিকে একটু বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। তাদের সুরক্ষার বিষয়টা যাতে হয় এবং আমরা কীভাবে সাহায্য করতে পারি, সেটা বলবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক কাজ করতে পারেন, তাদের যাতায়াতের জন্য মাইক্রোবাস ও মিনিবাসের ব্যবস্থা করে দেওয়া যেতে পারে। সবসময় তো আর অ্যাম্বুলেন্সে যাতায়াত ঠিক হবে না। অ্যাম্বুলেন্স হল রোগী টানার জন্য। ডাক্তার-নার্সদের জন্য আলাদা মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা করে দেন। এটাতে খুব বেশি লাগবে না; দরকার হলে এটা কিনেও দিতে পারি।’

এর পর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কো-অর্ডিনেট করে তাদের ট্রান্সপোর্টের জন্য মাইক্রোবাস আর রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স নির্দিষ্ট করা আছে। আমরা এটাতে আরও বেশি নজর দেবো। জেলা-উপজেলা সব জায়গায় সমানভাবে এটা আমরা করছি। এ বিষয়ে আমরা আরও মনিটর করব।’

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, ‘পিপিই স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই সহায়তা দিয়ে আসছে। ৭০ ভাগই স্থানীয় এবং ৩০ ভাগ বৈদেশিকভাবে আমদানিকৃত। অন্যদিকে এন-৯৫ সহজলভ্য না। এর সমগোত্রীয় কিছু জিনিস আছে, যেটা কাছাকাছি এন-৯৫ বা এফএফপি-২ বা পি-২ মাস্ক বলে। আমরা এটাতে বৈদেশিক আমদানি নির্ভর।’ এছাড়াও তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ পিপিই’র সঙ্গে যেসব বিষয় সম্পৃক্ত তা তুলে ধরেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে এখানে একটা প্রশ্ন আছে? আমি মন্ত্রীর কাছে কিছু ছবি পাঠিয়েছি। যারা সাপ্লাই দেয়, তারা কি সঠিকভাবে সঠিক জিনিসটা দিচ্ছে? মহানগর হাসপাতালে কিছু জিনিস গেছে। পিপিই নাম দিচ্ছে বেশ ভালো। কিন্তু জিনিসগুলি ঠিকমতো বোধহয় যায়নি। এটা একটু আপনাদের খোঁজ করে দেখা উচিত?

এ বিষয়ে সিএমএসডি পরিচালন বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ঔষধাগারসহ একটা কমিটি করা আছে, যখন এই সরবরাহটা আসবে সেটার কারিগরি দিকগুলো ঠিক আছে কি-না, বিশেষ করে যারা স্থানীয়ভাবে যারা দেন, সেগুলা পরীক্ষা করে দেওয়া। ইতোমধ্যে আমরা অনেকগুলা পিপিই দিয়েছি। সেটার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার। এই মজুদগুলো যারা সরবরাহ করছেন। আমরা সর্বাত্মক করে চেষ্টা করছি। দেশের এই জরুরি প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে হয়তো আমাদের ভুল হয়ে থাকতে পারে। এখন আমরা চাচ্ছি যে, যাতে আমাদের এই ভুলগুলো না হয়। সঠিকভাবে বিতরণটা যাতে নিশ্চিত করা যায়, সেই উদ্যোগ নিয়েছি।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা আপনারা যাদের এনগেজড করেন তারাই দেখবে। যাদের ব্যবসাটা দেন বা যারা নেয় বা যারা সাপ্লাই দেয়, তারা সঠিকটা দিল কি-না। এটা দেখা উচিত। বক্স তো ঠিক আছে, কিন্তু বক্সের ভিতরের জিনিসগুলি ঠিক আছে কি-না, এটা আমাদের দেখা উচিত। আমার মনে হয় একটু নজরদারিটা বাড়ানো দরকার।’

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘আমি আশা করব, স্বাস্থ্য অধিদফতর এই কথাগুলো মনে রাখবে এবং বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী যেটা বলেছেন একদিনের ভেতর আপনারা একটু যাচাই করে তাকে জানাবেন ‘

প্রধানমন্ত্রী মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রিতিনিধির বক্তব্য শোনেন এবং দিক নির্দেশনা দেন। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রান্তে যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর