• বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৭ ১৪২৭

  • || ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

১৬২

কেয়া পাতার রসেই শরীর হবে জীবাণুমুক্ত

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২০  

দেশীয় ফুলগুলোর মধ্যে কেয়া অন্যতম। সাধারণত বর্ষাকালেই ফোটে এই ফুল। কেয়া বা কেতকী, ইংরেজিতে একে বলা হয় থ্যাচ স্ক্রুফাইন বা হালাইন কিংবা হালা।

স্প্যানিশ ভাষায় বাকুয়া আর ফরাসি ভাষায় একে বলে ভ্যাকুউস। তবে যে দেশে যাই বলুক না কেন এর বৈজ্ঞানিক নাম পানাডেনুস টেকটোরাস। এই ফুল মুলত মালয়েশিয়া, পূর্ব অস্ট্রেলিয়া, এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় উদ্ভিদ। সংস্কৃততে এটাকে বলে কেতকী। 

কেয়া গুল্মজাতীয় একটি সুগন্ধি উদ্ভিদ। বিরিয়ানী রান্নায় যে কেওড়ার জল ব্যবহৃত হয় তা কেয়া ফুল থেকেই বাস্পীভবন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। বর্ষা ঋতুর এই ফুল ফোটে আষাঢ় ও শ্রাবণে। শুভ্র সাদা ও সুগন্ধিযুক্ত এই ফুলের রয়েছে হাজারো ভেষজ উপকারিতা।

স্ত্রী পুষ্পগুলো পুংপুষ্পের তুলনায় আকারে ছোট হলেও সুগন্ধ বেশি। ফুলে মধু না থাকলে কী হবে ভ্রমর কিন্তু ঠিকই বসে। প্রাচীনকাল থেকেই কেয়া ফুলের সুগন্ধ এবং ভেষজ গুণের কথা সুবিদিত। দ্বাদশ শতাব্দীর কবি জয়দেব কেয়া ফুলের আকার-আকৃতি নিয়েও গান রচনা করেছেন। বিভিন্ন সাহিত্যে লিপিবদ্ধ আছে কেয়ার কথা।

কেয়া মালয়েশিয়া, পূর্ব অস্ট্রেলিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় উদ্ভিদ হলেও বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, জাপান ছাড়াও অনেক দেশে প্রচুর জন্মে। বাংলাদেশের সমতলভূমি ছাড়াও সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন ও কুয়াকাটায় অসংখ্য কেয়া গাছ দেখা যায়।

গাছগুলো একই জায়গায় অনেকগুলো জন্মে। অনেকটা ঝোপের মতো দুর্গম পরিবেশ তৈরি করে। জীবাণুনাশক হিসেবেও এর ভূমিকা রয়েছে। হৃৎপিণ্ড ও যকৃতের জন্য উপকারী এই ফুল। বিষাক্ত পোকার কামড়ে, নিদ্রাহীনতায় এমনকি চুলের খুশকি দূর করতে খুবই উপকারী এই ফুল। ব্রণ, কুষ্ঠ, ডায়াবেটিস রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে কেয়া পাতার রস।   

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর