• রোববার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৭

  • || ২০ রবিউস সানি ১৪৪২

৩০

ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২০  

দেশের প্রায় ৯৮ ভাগ এলাকায় পৌঁছে গেছে বিদ্যুতের আলো। এখন দুর্গম চর এলাকা ও পাহাড়ের বসতিগুলোতেও বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানোর কার্যক্রম চলছে। যেখানে সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে দেওয়া হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। আগামী বছরের মধ্যে দেশে সবার ঘরেই বিদ্যুতের আলো জ্বলবে। তবে বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থায় দুর্বলতার কারণে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে। তাছাড়া সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো বলছে, আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ডিজিটালাইজড হবে। তখন জনগণ মানসম্মত বিদ্যুৎসেবা পাবে।

২০১৬ সালে সরকার ঘোষণা দিয়েছিল ২০২১ সালের মধ্যে সবার ঘরে বিদ্যুৎ যাবে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাবি অনুসারে ইতোমধ্যে দেশের ৯৮ শতাংশ এলাকায় গ্রিড বিদ্যুৎ চলে গেছে। তিন পার্বত্য জেলা ও কিছু চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম চলমান, যা আগামী বছরের মধ্যে শেষ হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক ছিল এক কোটি আট লাখ। গত ১১ বছরে দুই কোটি ৭৬ লাখ নতুন গ্রাহক হয়েছে। মাথাপিছু বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে ২৯২ শতাংশ।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি)। তাদের গ্রাহকসংখ্যা তিন কোটি দুই লাখ। বাকি পাঁচ বিতরণ কোম্পানির অধীনে রয়েছে ৮২ লাখ গ্রাহক। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ। ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) গ্রাহক ১২ লাখ ৪৫ হাজার, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ১০ লাখ গ্রাহক। উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) গ্রাহক ১৪ লাখ। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) দক্ষিণের ২১ জেলার ১৩ লাখ গ্রাহকের ঘরে বিদ্যুৎ দিচ্ছে।

যেখানেই বসতি সেখানেই বিদ্যুৎ :সমুদ্রতীরবর্তী উপজেলা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী। এ উপজেলায় রয়েছে অনেক দুর্গম চর। এখানে জীবন চলে এখনও কুপির আলোয়। সেই দুর্গম এলাকায়ও পৌঁছে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। সাবমেরিন কেবল ও সৌর প্যানেলের মাধ্যমে এ এলাকার দুই লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে আলোকিত করতে যাচ্ছে আরইবি। সংস্থাটি দেশের পল্লি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ইতোমধ্যে ৯৯ ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দিয়েছে আরইবি।

আরইবির চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন জানান, দেশে মোট ৪৬২টি উপজেলার মধ্যে ৪৬১টিতে শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। রাঙ্গাবালী উপজেলাসহ দেশের হাজারখানেক দুর্গম গ্রাম বাকি রয়েছে। তিন ধাপে এই অফগ্রিড এলাকায় এক হাজার ৫৯টি গ্রামে বিদ্যুতায়ন করা হবে। জামালপুর, ভোলা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধাসহ বেশকিছু জেলায় পড়েছে এসব দুর্গম গ্রাম। এসব গ্রামে বিদ্যুৎ নিতে বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৮৫টি নদী অতিক্রম করতে হবে।

চেয়ারম্যান আরও জানান, প্রথম ধাপে ৬৪৬টি গ্রামে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। এজন্য ৩৫টি স্থানে নদীর তলদেশ দিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত সাবমেরিন কেবল নিতে হবে। এরপর ওই গ্রামগুলোতে গ্রিড লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এসব গ্রামের এক লাখ ৫৫ হাজার গ্রাহককে চলতি মাসের মধ্যেই গ্রিড লাইনে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপের ৩৮৪টি গ্রাম দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত। ৫০টি স্থানে সাবমেরিন কেবল দ্বারা নদী অতিক্রম করে গ্রামগুলোতে বিদ্যুতায়ন করা হবে। এসব গ্রামের ৯০ হাজার গ্রাহককে নভেম্বরে গ্রিড বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। অবশিষ্ট ২৯ গ্রাম বেশি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। অধিকাংশ গ্রামেই স্থায়ী জনবসতি নেই। কেবল শুস্ক মৌসুমে বিক্ষিপ্তভাবে মানুষ বসবাস করায় গ্রাহক ঘনত্ব অত্যন্ত কম। এই ২৯ গ্রামের প্রায় ছয় হাজার গ্রাহকের জন্য সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ৩২৬ কোটি টাকার নিজস্ব অর্থায়নের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এই কার্যক্রম শেষ হবে।

পার্বত্য তিন জেলার দুর্গম পাহাড়ে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর দায়িত্ব পালন করছে পিডিবি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন জানান, যেখানে গ্রিড লাইন নেওয়া যাবে না সেখানে সৌরবিদ্যুৎ দেওয়া হবে। পিডিবির প্রকল্প পরিচালক উজ্জ্বল বড়ূয়া জানান, তারা ৫৬ হাজার গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর জন্য কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর বাইরে আরও ৪০ হাজার পরিবার রয়েছে যাদের এত দুর্গম পাহাড়ে বসতি যে গ্রিড লাইন নেওয়া সম্ভব নয়। সেখানে সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কার্যক্রম চলমান।

বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হচ্ছে উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত চর। রংপুর ও রাজশাহীর গ্রিড সুবিধাবঞ্চিত দুর্গম চরে বিনামূল্যে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করছে নেসকো। এতে ১৩টি চরে বসবাসরত ১২ হাজার ৬৯০টি পরিবার সৌরবিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী জাকিউল ইসলাম বলেন, পদ্মা ও তিস্তার কিছু দুর্গম চরে গ্রিড সুবিধা পৌঁছানো দুস্কর। তাই এসব চর এলাকা সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোকিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথমে রাজশাহীর চারটি চর-আসাড়িয়াদহ, আলাতুলী, মাজারদিয়া, খিদিরপুরের ছয় হাজার ২৪০টি পরিবারকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই চারটি চরে এক হাজার ৫৭২টি বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম বসানো হয়েছে। এই প্রকল্পে নেসকোর ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা। রংপুরের ৯টি চরে ছয় হাজার ৪৫০টি পরিবারের মধ্যে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের কাজ শিগগির শুরু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ হবে বলে তিনি জানান।

গ্রিড সুবিধাবঞ্চিত দক্ষিণের চর মনপুরায় নয় হাজার এবং পটুয়াখালীর কলাতলী আট হাজার গ্রাহককে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিক উদ্দিন।

বিদ্যুতে ঘুরছে অর্থনীতির চাকা :দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। পাল্টে গেছে চিরচেনা জীবন চিত্র। বিদ্যুতের কারণে কৃষিতে বিপ্লবের ছোঁয়া লেগেছে। এসেছে পেশায় পরিবর্তন। নতুন নতুন জীবিকার সুযোগ বেড়েছে। পিডিবির তথ্যমতে, ২০০৯ সালে মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল ২২০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১২ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা বলছে, ১০ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লে অর্থনীতিতে বাড়তি যোগ হয় চার কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিদ্যুতের ব্যবহার যত বাড়বে, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি তত বেশি হবে। তবে বিদ্যুতের মূল্য গ্রাহকের সামর্থ্যের মধ্যে থাকতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্নেষকরা।

অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা এবিএম আজিজুল ইসলাম বলেন, গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ায় জীবনমানের উন্নতি হচ্ছে। লেখাপড়ার সুযোগ বেড়েছে। ছোট ছোট শিল্প বিকশিত হচ্ছে। এতে প্রসারিত হচ্ছে অর্থনীতি। বর্তমানে বিদ্যুতের খরচ অনেক বেশি পড়ছে উল্লেখ করে আজিজুল ইসলাম বলেন, এই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী মূল্যে দেওয়া উচিত। তাহলে উন্নয়ন টেকসই হবে।

চ্যালেঞ্জ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ :ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছালেও বিদ্যুৎসেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা। একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। পিডিবির তথ্য অনুসারে, দেশে লোডশেডিংয়ের অস্তিত্ব না থাকলেও গ্রামগুলোতে প্রায়ই বিদ্যুৎবিভ্রাট হচ্ছে। শহরেও দিনে দু-তিনবার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে। সংশ্নিষ্টদের মতে, বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়লেও সরবরাহ ব্যবস্থার যথাযথ উন্নয়ন না হওয়ায় গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। একই সঙ্গে গ্রাহকদের ব্যয়ও বেড়েছে। ১০ বছর আগে যে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচ ছিল ২ টাকা ৬১ পয়সা। সে ব্যয় এখন প্রায় সাত টাকায় পৌঁছেছে। ফলে গ্রাহকদের বাড়তি বিল গুনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে আরইবি চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবার জন্য বিতরণ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। পুরো ব্যবস্থাকে অটোমেশন (স্ক্যাডা) করতে হবে। ইতোমধ্যে নরসিংদীতে স্ক্যাডার জন্য একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ২৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প সফল হলে পরে তা সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি জানান, বর্তমানে আরইবির ১২ লাখ গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছে। আরও পাঁচ লাখ স্মার্ট মিটার বসানোর প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী তিন বছরের মধ্যে ৩৩ লাখ স্মার্ট মিটার স্থাপন করবে পল্লী বিদ্যুৎ। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিতরণ ব্যবস্থা আপগ্রেড করা হবে। অন্যান্য অঞ্চলের বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্যও প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের (বিপিএমআই) মাধ্যমে দুই হাজার ৭০০ জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান জানিয়েছেন, দুই হাজার ৩৮৭ কোটি টাকায় ঢাকার ২২টি সাবস্টেশন আপগ্রেড করা হচ্ছে। রাজধানীর গ্রাহকদের মানসম্মত বিদ্যুৎসেবা দিতে ২০ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা এবং দুই হাজার কোটি টাকার দুটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে ডিপিডিসি। এর মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণসহ বিতরণ লাইন মাটির নিচে নেওয়া হবে। পুরো ব্যবস্থা অটোমেশনের আওতায় আসবে। অ্যাডভান্স মিটারিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার (এএমআই) পদ্ধতির আট লাখ স্মার্ট মিটার বসাতে ৬৫৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিপিডিসির এমডি।

ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আমীর আলী জানান, টঙ্গী অঞ্চলে বড় শিল্প গ্রাহকদের জন্য দুটি শিল্প হাব ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্প হাবের গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ডেসকো তার নিজস্ব ব্যয়ে ডুয়েল সোর্স লাইন স্থাপন করেছে। তারা ইতোমধ্যেই ৩৩ কেভি লাইনগুলো মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী বছরের জুনে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। অন্য বিতরণ লাইন মাটির নিচে নেওয়ার বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। তিনি জানান, ডেসকোতে বর্তমানে স্ক্যাডা ও জিআইএস পদ্ধতির দুটি পৃথক প্রকল্পের কাজ চলছে। এর ফলে পুরো ব্যবস্থা অটোমেশনের আওতায় আসবে।

ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিক উদ্দিন জানান, তারা স্ক্যাডা সিস্টেম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে দুটো প্রকল্প চলমান। তিনি জানান, তাদের আড়াই লাখ গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছে। আরও পাঁচ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ চলছে। ২০২৩ সালের মধ্যে সব গ্রাহক স্মার্ট মিটারের আওতায় আসবে।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সরকার দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে। এখন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। স্ক্যাডা সিস্টেম, স্মার্ট মিটার, স্মার্ট গ্রিডের দিকে দেশ এগোচ্ছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোকে তাদের জনবলকে গ্রাহকবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে বলা হয়েছে। আগামী তিন-চার বছরের মধ্যেই গ্রাহক মানসম্মত বিদ্যুৎসেবা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর