• বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৮ ১৪২৭

  • || ০৫ সফর ১৪৪২

৩৪

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ঢাকা ওয়াসা

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২০  

প্রতিবছরই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় রাজধানীবাসীকে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলেই নগরীর বড় রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আর একটু ভারী বর্ষণে প্রতিবছরই ছন্দপতন ঘটে রাজধানীবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়।

রাজধানীবাসীর কাছে জলাবদ্ধতা একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার নাম। এসব কারণে বিভিন্ন সময় ঢাকা ওয়াসার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে নগরবাসী। যদিও নাগরিক এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে পানি ও পয়োনিষ্কাশনের একক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ওয়াসা। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য নগরীর খাল ও ড্রেনগুলোর দায়িত্বও দেয়া হয়েছে এই সংস্থাকে।

সেই দায়িত্ব থেকে তারা কাজ করলেও মূলত রাজধানীর পানি নিষ্কাশন পথগুলো আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকা, ড্রেনেজ লাইন নিয়মিত পরিষ্কারের পর্যাপ্ত উদ্যোগ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তাগুলো। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারী বৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে পানি ধারণ করার জন্য শহরে উপযুক্ত জলাধার নেই। আর ভারী বৃষ্টির পানি টেনে নেয়ার পাম্পগুলোর ক্ষমতাও সীমিত।

তবুও জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। এবার সংস্থাটি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে পানি সরবরাহে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি ছিল ওয়াসার। শুষ্ক মৌসুমে পানি ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের পানির স্বল্পতার কারণে বিভিন্নভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতো। এরপরই ২০১০ সালে ঘুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা ওয়াসা। ঢাকা ওয়াসা পুনর্গঠনের জন্য ‘ঢাকা ওয়াসা টার্ন অ্যারাউন্ড প্রোগ্রাম’ নামে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ ঢাকা ওয়াসাকে একটি টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও গণমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

‘নাগরিক ভোগান্তি লাঘবে বিগত ১০ বছরে ওয়াসা কী কী কাজ করেছে’-এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াসা সংশ্লিষ্টরা তাদের কর্মকাণ্ডগুলো তুলে ধরে জানান, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ে ঢাকা ওয়াসার উল্লেখযোগ্য অর্জন রয়েছে। সে অনুযায়ী সুফলও পাচ্ছেন নাগরিকরা।

গ্রাহকবান্ধব ঢাকা ওয়াসা

১৬১৬২ হটলাইন নম্বর স্থাপন করে জনসাধারণের কাছ থেকে সার্বক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসেবা গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছে ঢাকা ওয়াসা। ২০০৯ সাল থেকে বিল প্রদান ব্যবস্থাকে অটোমেশন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে গ্রাহক ঘরে বসেই তার ওয়াসা বিলের হালনাগাদ তথ্য জানতে পারছেন।

বর্তমানে অ্যাপ ব্যবহার করে যেকোনো পেমেন্ট গেটওয়ে বা অনলাইন কার্ডের মাধ্যমে বিল প্রদানে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে জনগণের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি স্বচ্ছতা আনারও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

২০০৯ সালের প্রথম দিকে ঢাকা ওয়াসার পরিচালন ব্যয়ের অনুপাত বা অপারেটিং রেশিও ছিল ০.৯০। বর্তমানে তা কমে হয়েছে ০.৬৬ হয়েছে। ঢাকা শহরের ভাসমান জনগোষ্ঠীর সুপেয় পানির চাহিদা মেটানোর জন্য ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন পানির পাম্প কম্পাউন্ডে জনবান্ধব এটিএম বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিপুল সাড়া জাগিয়েছে এবং বিভিন্ন মহলে এর গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বলে দাবি ওয়াসার।

পানি সরবরাহ

গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঢাকা ওয়াসার পানির উৎপাদন ক্ষমতা চাহিদার তুলনায় বেশি হয়েছে। ২০০৯ সালে যেখানে দৈনিক ২১২ কোটি লিটার চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৮৮ কোটি লিটার, সেখানে ২০১৯ সালের দিকে এসে ঢাকা ওয়াসার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা হয়েছে ২৬৫ কোটি লিটার। বর্তমানে দৈনিক চাহিদা ২৪০-২৫০ কোটি লিটার। যা বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে ঢাকা ওয়াসার ইতিহাসে একটি মাইলফলক এবং যুগান্তকারী অগ্রগতি।

ডিজিটালাইজেশনে ঢাকা ওয়াসা

বর্তমানে ই-সেবায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ই-বিলিং, ই-জিপি, ই-পানি ও পয়োসংযোগ, ই-নথি, ই-রিক্রুটমেন্টসহ প্রায় সবক্ষেত্রেই ডিজিটাল সিস্টেম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে ঢাকা ওয়াসা। এছাড়া পানির পাম্পে এসসিএডিএ স্থাপন করে ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ দ্বারা গভীর নলকূপের অপারেশন, কন্ট্রোল ও মনিটরিংয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে ঢাকা ওয়াসা পরিচালন ব্যয় কমিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

অন্যদিকে এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং বাস্তবায়নের পদেক্ষপ গ্রহণ করা হয়েছে। আইওটি ও জিআইএস ব্যবহার করে স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রক্রিয়া চলমান আছে। এর মাধ্যমে সমস্ত মিটার, বাল্বসহ অন্যান্য সবকিছুর ডিজিটালাইজেশন সম্পন্ন হবে।

সিস্টেম লস (নন রেভিনিউ ওয়াটার)

ওয়াসা সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকা ওয়াসার ২০০৯-১০ সালে সিস্টেম লস (নন রেভিনিউ ওয়াটার) ছিল ৪০ শতাংশ। ২০১৯ সালে তা কমে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। ডিস্ট্রিক্ট মিটারিং এরিয়া (ডিএমএ) এলাকায় সিস্টেম লস ৭ শতাংশ।

রাজস্ব আয়

ঢাকা ওয়াসা ২০০৭-০৮ অর্থবছরে যেখানে ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল, সেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে।

অন্যদিকে স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠী বস্তি এলাকায় পানি সুবিধা ১০০ ভাগে উন্নীতকরণে নিরলসভাবে কাজ করে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ঢাকা ওয়াসা। এর আলোকে ইতোমধ্যেই দেশের বৃহত্তম বস্তি হিসেবে পরিচিত ’কড়াইল বস্তিতে’ শতভাগ বৈধ পানির সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য বস্তিতে বৈধ পানির সংযোগ প্রদানের কাজ চলমান রয়েছে বলে ওয়াসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকার ১৫টি খালের ২০ কিলোমিটার ও ৩০০ কিলোমিটার স্টর্ম ওয়াটার পাইপ ড্রেন পরিষ্কারের কাজ করেছে ঢাকা ওয়াসা। এছাড়া চারটি স্থায়ী ও ১৫টি অস্থায়ী পাম্পের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি অপসারণ পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির।

ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ১৬টি খাল উন্নয়নের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, শেরেবাংলা নগর, দারুসসালাম, মিরপুর, পল্লবী, ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা, বিমানবন্দর এলাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, শঙ্কর, ঝিগাতলা, রায়েরবাজার এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করাই এই প্রকল্পের প্রধান কাজ। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত বিদ্যমান খালগুলো খনন ও প্রশস্ত করে তীর উন্নয়ন এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে খালের দুই তীরের পরিবেশ উন্নত করা এ কাজের অংশ ছিল।

ঢাকা ওয়াসা সূত্র জানায়, স্টর্ম ওয়াটার পাইপ ড্রেন ৩০০ কিলোমিটারের পরিষ্কারের কাজ চলছে। ২৪৯ কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কারের কাজ অগ্রগতি হয়েছে। সেই সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত হলে চারটি স্থায়ী ও ১৫টি অস্থায়ী পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণ করা হবে। বর্ষা মৌসুমে রাজধানীতে যেন জলাবদ্ধতা না হয়, সেজন্য গত বছর থেকে ১৭টি খালের ৩০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করছে তারা। পানি যেন দ্রুত ড্রেন দিয়ে চলে যেতে পারে, সেজন্য ৩০০ কিলোমিটার স্টর্ম ওয়াটার পাইপ পরিষ্কারের কাজ চলছে। রাস্তার পানি যেন দ্রুত পাইপ ড্রেনে প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য ৭০০টি ক্যাচপিট (সড়কের পাশে বৃষ্টির পানি প্রবেশের পথ) পুনর্নির্মাণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার পরিচালক (কারিগরি) এ কে এম সহিদ উদ্দিন জানান, রাজধানীতে যেন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সকলের সহযোগিতায় জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কাজগুলো শেষ হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই কমে আসবে।

অতি সম্প্রতি অর্জনগুলোর মধ্যে কী কী রয়েছে-এমন তথ্য জানাতে গিয়ে ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে বলা হয়, ইতোমধ্যেই ঢাকা শহরের জন্য তিনটি আলাদা আলাদা মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ওয়াটার মাস্টারপ্ল্যান, সুয়ারেজ মাস্টারপ্ল্যান এবং ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মাস্টারপ্ল্যান অনুসারে উন্নয়ন কার্যক্রম স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাস্টারপ্ল্যানের আলোকে নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৭ সাল থেকে ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন প্রকল্পে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহের বর্তমান বিনিয়োগ তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট বড় প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে ঢাকা ওয়াসা সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে দাবি তাদের। এর আলোকে তিনটি বৃহৎ পানি শোধনাগার প্রকল্প নির্মাণ কাজ হাতে নেয় সংস্থাটি। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-

পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার প্রকল্প : নদীর উৎস থেকে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রকল্পটি চীন সরকারের আর্থিক সহায়তায় ২০১৮ সালে সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে মোট প্রকল্প ব্যয় ৩৩৭৫ কোটি টাকা।

গন্ধবপুর পানি শোধনাগার প্রকল্প : এ প্রকল্পে মেঘনা নদীর উৎস থেকে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি ঢাকা শহরে সরবরাহ করা হবে। এডিবি, ইআইবি ও এএফডির আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং তা ২০২৩ সাল নাগাদ সম্পন্ন হবে। প্রকল্পটির মোট প্রকল্প ব্যয় ৫২৫০ কোটি টাকা।

সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ-৩) : মেঘনা নদীর উৎস থেকে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি ঢাকা শহরে সরবরাহ করা হবে। ড্যানিডা, ইআইবি, কেএফডি ও এএফডির আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতোমধ্যে পরামর্শক নিয়োগ কাজ চলমান রয়েছে। ২০২৪ সাল নাগাদ প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে ওয়াসা। মোট প্রকল্প ব্যয় ৪৬০০ কোটি টাকা।

এছাড়া বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় পানির চাহিদা পূরণে সাভারের ‘তেঁতুলঝরা-ভাকুর্তা ওয়েলফিল্ড নির্মাণ প্রকল্প’ নামে আরও একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। দৈনিক ১৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্যে কোরিয়া সরকারের আর্থিক সহায়তায় প্রকল্প কাজ ২০১৮ সাল নাগাদ সম্পন্ন হয়েছে। এর মোট প্রকল্প ব্যয় ছিল ৫৭৩ কোটি টাকা।

প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলে নগরীতে পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও গণমুখী পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে বলে বলছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা শহরের পানি সরবরাহে ডিএমএ স্থাপন করে স্মার্ট পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ঢাকা ওয়াসা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে ২৪/৭ প্রেসারাইজড পানি সরবরাহের মাধ্যমে গ্রাহকবান্ধব পানি ব্যবস্থাপনা তৈরি করা হবে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসা সূত্র জানায়, নগরীর ১৪৫টি ডিএমএর (ডিস্ট্রিক্ট মিটারিং এরিয়া) মধ্যে ৬০ ডিএমএর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ডিএমএগুলো বাস্তবায়নের জন্য এডিবি অর্থায়নে প্রকল্প চলমান রয়েছে, যা ২০২২ সাল নাগাদ সম্পন্ন হবে। এভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পানি সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে ঢাকা ওয়াসা পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এক অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে বলে দাবি তাদের।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ঢাকা ওয়াসার সফল ব্যবস্থাপনা নিয়ে ‘ঢাকা ওয়াসা সার্ভিসেস টার্ন অ্যারাউন্ড’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে। ঢাকা ওয়াসাকে ‘ওয়ান অব সাইথ এশিয়াস বেস্ট পাবলিক ওয়াটার ইউটিলিটিস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এডিবি।

ঢাকা ওয়াসা ইতোমধ্যে একটি ’সুয়ারেজ মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন করেছে। মাস্টারপ্ল্যানে ঢাকা শহরের চারদিকে পাঁচটি পয়োশোধনাগার নির্মাণের কথা উল্লেখ রয়েছে। সে অনুযায়ী চীন সরকারের আর্থিক সহায়তায় ৫০০ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন দাশেরকান্দি পয়োশোধনাগার নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পের ব্যয় ৩৩২০ কোটি টাকা, যা ২০২১ সাল নাগাদ সম্পন্ন হবে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০০ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যমান পয়োশোধনাগারটির ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে।

উত্তরায় একটি পয়োশোধনাগার নির্মাণের অর্থায়নেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। তাছাড়া এডিবির সহযোগিতায় মিরপুর ও রায়েরবাজার এলাকায় আরও দুইটি পয়োশোধনাগার নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ২০২৭ সাল নাগাদ পয়োশোধনাগারগুলো নির্মাণ করে ঢাকা শহরে শতভাগ পয়োসুবিধা প্রদানের জন্য ঢাকা ওয়াসা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা ওয়াসা একটি সেবামূলক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যা ‘ওয়াসা অ্যাক্ট ১৯৯৬’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ সেবাদান কাজের দায়িত্ত্ব ঢাকা ওয়াসার ওপর ন্যস্ত। এছাড়া অন্যান্য সেবাদানকারী সংস্থার সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আংশিক দায়িত্ত্বও ঢাকা ওয়াসা পালন করেছে।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর