• বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২০ ১৪২৭

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

১১

দুদকের মানিলন্ডারিং মামলায় শতভাগ অপরাধীর সাজা

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২০  

গত এক বছরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা দায়ের করেছিল। সবকটিতেই অপরাধীদের সাজা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) এক বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার ২০১৯ সালের বাস্তবায়িত প্রতিবেদনের ওপর এক সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

পূর্ণাঙ্গ কমিশনের এ ভার্চুয়াল সভায় মানিলন্ডারিং অনুবিভাগের কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে কমিশনের ১১টি মানিলন্ডারিং মামলার ১১টিতেই অপরাধীদের সাজা হয়েছে। ২০১৮ সালেও শতভাগ মামলায় সাজা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থ পাচার বন্ধ করতে হলে দ্রুততর সময়ে অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে অপরাধলব্ধ সম্পদ উদ্ধার করতে হবে। এক্ষেত্রে বিএফআইইউ, সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ অন্যান্য সংস্থার মধ্যে নিবিড় সমন্বয় থাকতে হবে। কীভাবে এসব সংস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় করা যায়, তা কমিশনের কৌশলপত্রের আলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সভায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, করোনার কারণে কমিশনের নিয়মিত অভিযান স্থগিত রাখা হলেও ত্রাণ এবং স্বাস্থ্যখাতে চিহ্নিত দুর্নীতিপরায়ণদের  বিরুদ্ধে আইনি অভিযান আরও সক্রিয় করা হবে। জনগণের কল্যাণেই এসব অপরাধীদের আইন আমলে আনা হবে। 

দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদকের ১৮ জনের বেশি কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দুই জন প্রতিশ্রুতিশীল কর্মকর্তা মৃত্যুবরণ করেছেন। এর  মধ্যেও আপনারা (কর্মকর্তারা) মামলা করছেন, অপরাধীদের গ্রেফতার করছেন, অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের তলব করছেন, জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। অর্থাৎ দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান, তদন্ত, প্রসিকিউশন,  প্রতিরোধসহ সব ধরনের দাফতরিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটা আপনাদের কৃতিত্ব। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দায়িত্ব পালন করবেন।  প্রয়োজনে বাসায় বসে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই নথির মুভমেন্ট রেজিস্ট্রার অনুসরণ করতে হবে এবং তা কমিশনের সচিবকে অবহিত করতে হবে।

ভার্চুয়াল সভায় দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলপত্র বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এসব কর্মকর্তারা (ফোকালপয়েন্ট কর্মকর্তা)স্ব-স্ব মন্ত্রণালয় বা বিভাগের একটি দুর্নীতির খবরও কমিশনকে জানাননি। তাদেরও জবাদিহিতার দরকার। সৎ, স্বচ্ছ ও দৃঢ় চেতা কর্মকর্তাদের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আরও বলেন, কমিশনের যে সব সততা সংঘ রয়েছে এদের কার্যক্রম দৃশ্যমান করতে হবে। শুধু কমিটি করলে চলবে না।

দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালসহ এ জাতীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি দুদকের গোয়েন্দা নজদারি আরও বাড়াতে হবে।কারণ আমাদের কাছে প্রায়ই অভিযোগ আসছে, এ ধরনের কিছু  প্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সরকারি পরিষেবা দিচ্ছে না। প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা শুরু হওয়ার আগে যেভাবে অভিযান পরিচালনা করা হতো, সেভাবেই অভিযান শুরু করা হবে।

এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত, মহাপরিচালক  আ ন ম আল ফিরোজ, মো. মফিজুর রহমান ভূঞা, মো. জহির রায়হান, মো. রেজানুর রহমান, সাঈদ মাহবুব খান, মো. জাকির হোসেন প্রমুখ। সভাটি পরিচালনা করেন দুদকে আইসিটি ও প্রশিক্ষণ অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল। 

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর