• বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২১ ১৪২৭

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

২২

ধুনটে কৃষি কর্মকর্তার দূর্নীতির বলি চার কৃষক

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২০  

বগুড়ার ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হকের দূর্ণীতির কারণে ভূর্তকী মূল্যে ৪টি ধানকাটা যন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টার) কেনার বরাদ্দকৃত ৫৬ লাখ টাকা ফেরত গেছে। তিনি ঘুষ নিয়ে ভুয়া কৃষি কার্ড তৈরীর মাধ্যমে পাওয়ার অযোগ্য কৃষকদের নামে এই ৪টি ধান কাটার যন্ত্র বরাদ্দ দিয়েছিলেন।  

তিনি চার কৃষকের সাথে চুক্তি করে সরকারি সমুদয় অর্থ লোপাটের চেষ্টা করেন। এ বিষয়টি টের পেয়ে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত করে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির প্রমান পায়। ফলে ঘুষ নিয়ে তৈরী করা চার কৃষকের নামে সরকারি বরাদ্দ বাতিল হয়ে যায়। অথচ এই যন্ত্র গুলো প্রকৃত ৪জন কৃষকের পাবার কথা ছিলো। কিন্ত কৃষি কর্মকর্তার দূর্নীতির কারনে প্রকৃত কৃষকরা ধান কাটার যন্ত্র পাওয়া থেকে বঞ্চিত হলেন।

বৃহস্পতিবার ধুনট উপজেলা কৃষি পূর্নবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তিন জন কৃষকের নামে ধান কাটা যন্ত্র বরাদ্দের প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না। এ কারণে তাদের নাম বাতিল করে নতুন করে তিন জন কৃষকের নামে বরাদ্দের চেষ্টা করা হয়। কিন্ত ২১ জুনের মধ্যে আগ্রহী কৃষক না পাওয়ায় বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে ওই ৪টি যন্ত্রের পুনরায় বরাদ্দ পাওয়ার জন্য চেষ্টা করা হবে।

জানা গেছে, কৃষি পূর্নবাসন কর্মসূচির আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভুর্তকী মূল্যের ৪টি যন্ত্র বরাদ্দ ছিল। যন্ত্র পাওয়ার আবেদন করেছিলেন ১৯ জন কৃষক। এর মধ্যে নাটাবাড়ি গ্রামের ফোরহাদ রেজা, চিকাশি গ্রামের ছানোয়ার হোসেন ও পাঁচথুপি গ্রামের আশরাফুল ইসলামের নামে ধান কাটা যন্ত্রের বরাদ্দ চুড়ান্ত করেছিলেন কৃষি কর্মকর্তা। একই কৌশলে বাকী একজন কৃষকের নাম চুড়ান্তের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধিন ছিল। চারটি যন্ত্রের মূল্য এক কোটি ১২লাখ টাকা। এরমধ্যে ৫৬ লাখ টাকা দেয়ার কথা ছিলো সরকারের।

নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা কৃষি পূর্নবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক কৃষকের নাম চুড়ান্ত করার কথা। কিন্ত কৃষি কর্মকর্তা নিজেই টাকাগুলো লুটপাট করার জন্য মনগড়া ভাবে ৩জন কৃষকের নাম চুড়ান্ত করেছিলেন। অথচ ওই তিন কৃষকের ধান কাটা পুরাতন যন্ত্র ছিল। সেই পুরাতন ৩টি যন্ত্র নতুন করে এবারে ক্রয় দেখিয়ে ভূয়া বিল ভাউচার তৈরী করেছিলেন কৃষি কর্মকর্তা। পুরাতন ৩টি যন্ত্র কাগজ কলমে নতুন দেখিয়ে ২১এপ্রিল তিন কৃষকের হাতে ওই যন্ত্রের চাবি দিয়ে হস্তান্তরের ছবি তোলা হয়েছিল।

ধুনট উপজেলা কৃষি পুর্নবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হক বলেন, তিন জন কৃষক ভুল তথ্য দিয়ে তাদের নামে ধান কাটা যন্ত্র বরাদ্দ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি টের পেয়ে কমিটির সভায় সিন্ধান্ত নিয়ে তাদের নামে বরাদ্দ’র ৩টি যন্ত্র বাতিল করা হয়েছে। 

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
বগুড়া বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর