• বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৭ ১৪২৭

  • || ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

৪৬৬

‘প্রতিটা ইঞ্চি ডিজিটাল কানেক্টিভিটির মধ্যে আনবো’

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯  

 

জুনাইদ আহমেদ পলক। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোরের সিংড়া উপজেলা থেকে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে সরকারের ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে টানা ৭ বছর ছুটে চলেছেন তিনি। সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় আবারো একই মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে এরই মধ্যে নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্ম পরিকল্পণা ঠিক করে ফেলেছেন তিনি।

তার এই পরিকল্পনার কথা জানাতে ডেইলি বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছেন তরুণ এই রাজনীতিবিদ।

বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে অবস্থিত বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম ডাটা সেন্টার নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কি? - এক সময় আমরা ডাটা সংরক্ষনের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নিয়ে থাকতাম। বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে আমরা বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম ডাটা সেন্টার নির্মাণ করেছি। এখন আমরা এই আর বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের ডাটা সংরক্ষন করি না। সরকারের ব্যবহারের পরও আমরা প্রাইভেট সেক্টরে ব্যাংক-বীমা টেলিকমসহ অন্যান্য জায়গায় এই ডাটা সেন্টার ভাড়া দিয়ে আয়ের ব্যবস্থা করেছি। যার মাধ্যমে প্রতি বছর অন্তত পক্ষে ৫০০ কোটি টাকা সরকার আয় করতে পারবে। অর্থাৎ আমরা এই ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের সেবা সরকার এবং সরকারের বাইরে দিতে পারবো এবং আমাদের এই ডাটা সেন্টার নির্মাণের ফলে আমাদের ডাটা সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের যে চারটা অনুষঙ্গ যার একটা হচ্ছে মানবসম্পদ উন্নয়ন, দ্বিতীয় সবার জন্য ইন্টারনেট, তৃতীয় ই-গভর্নেন্স এবং চতুর্থ আইসিটি ইন্ডাস্ট্রিজ। এর মধ্যে অন্যতম একটা ছিল ই-গভর্নেন্স। এখন আমরা ২০০টি সার্ভিস ডিজিটাল প্লাটফর্মে মধ্যে আনতে পেরেছি। ২০২১ সালের মধ্যে আরো ১৬শ' সার্ভিস ই-গভর্নেন্স এর মধ্যে আনতে পারব। তখন প্রায় পাঁচ পেটাবাইট ডাটা আমাদের সরকারের নিজেদের সংরক্ষণ করতে হবে। এই মুহূর্তে আমাদের দুই পেটাবাইট ডাটা সংরক্ষণ করতে হয়। আগামী দুই বছরের মধ্যে এটা পাঁচ পেটাবাইট হয়ে যাবে। এই সকল ডাটা আমাদের দেশের মাটিতে এবং আমাদের নিজেদের ডাটা সেন্টারে আমরা সংরক্ষণ করতে পারবো। এর ফলে আমাদের ডেটা সিকিউরিটি এবং ই-গভর্নেন্স সার্ভিস আমরা নিশ্চিত করতে পারবো।

ডাটা সিকিউরিটি নিশ্চিতের ব্যাপারে কি ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে? -সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট আমরা তৈরি করব এবং ইতিমধ্যে আমরা একটি কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম তৈরি করেছি। আমরা ২২টি ক্রিটিক্যাল ইনফর্মেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার আইডেন্টিফাই করেছি যেখানে আমরা সেন্সর বসিয়েছি, নিয়মিত ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করি। আগে আমাদের সাইবার সিকিউরিটি জন্য বিদেশি এক্সপার্ট এবং কনসালটেন্টের উপর নির্ভর করতে হতো। এখন আমাদের আইসিটি ডিভিশন পুলিশ, সিআইডি, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সক্ষমতা তৈরি করছি। আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট এর আওতায় চারটা প্রতিষ্ঠান করছি- একটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডিজিটাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, দ্বিতীয় কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম, তৃতীয় সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি এবং চতুর্থটি ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব। এই চারটা প্রতিষ্ঠান যেমন প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে তৈরি হবে, পাশাপাশি এই চারটা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের হিউম্যান রিসোর্স তৈরি হবে। এসবের মাধ্যমে আমাদের সাইবার সিকিউরিটির সক্ষমতা তৈরি হবে।

ডিজিটাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বিষয়ে অগ্রগতি কতটুকু? -আইনে পর এখন বিধিমালা প্রনয়নের কাজ চলছে। আর সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি গঠনের জন্য ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এটা আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

আমাদের নিজস্ব ডাটা সেন্টার থেকে সরকারের কতগুলো প্রতিষ্ঠান সেবা নিচ্ছে? বর্তমানে আমাদের ৫৩টা মন্ত্রণালয়ের ২২২টা সংস্থা সার্ভিস নিচ্ছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ন্যাশনাল আইডি, পাসপোর্ট এবং এনবিআর। এছাড়া আমাদের অনেক মন্ত্রণালয় বা সংস্থা এখান থেকে সেবা নিচ্ছে। এরফলে এখন আর আমাদের বিদেশ থেকে এই সেবা নিতে হচ্ছে না। প্রতিবছর আমাদের ৫০০ কোটি টাকা মূল্যমানের সার্ভিস আমরা এই ডাটা সেন্টার থেকে দিচ্ছি। এখন আমরা দেশে ১ হাজার জিবিপিএস ডাটা ব্যবহার করছি এর মধ্যে ৪০ জিবিপিএস আমরা শুধু এই ডাটা সেন্টারের মাধ্যমে সরকার একা ব্যবহার করছে। আমরা আশা করছি ২০২৩ সালের মধ্যে এই ডাটা সেন্টার থেকে ১০০ জিবিপিএস ডাটা সরকারেরই প্রয়োজন হবে। এই টিআর ফোর সার্টিফাইড ডাটা সেন্টার আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দুর্নীতিমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটা বিরাট ভূমিকা রাখবে।

ব্যান্ডউইথ রফতানির অগ্রগতি কতটুকু? আমাদের বাংলাদেশের পার্ট এর কাজ শেষ। যতোটুকু জানি ভুটান, নেপাল এবং ভারতের অনেক অংশের কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন ভারতের করিডরের কিছু অংশের কানেক্টিভিটির কাজ বাকি আছে। আশা করছি ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি দ্রুত হয়ে যাবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে ৬২টি দেশের সঙ্গে এশিয়ান সুপার হাইওয়ে কানেক্টিভিটির একটা বিষয় আছে সেখানে আমাদের ফাইবার অপটিক এর মাধ্যমে ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির বিষয়টিও আমরা প্রস্তাবনায় এনেছি। বর্তমানে আমাদের ব্যান্ডউইথের সক্ষমতা আছে প্রায় ২ হাজার জিবিপিএস এর মতো, এর মধ্যে আমরা ১ হাজার জিবিপিএস ব্যবহার করছি। বাড়তি যেটা থাকবে আমরা চেষ্টা করব সেখান থেকে কিছু রফতানি করতে। বর্তমানে আমরা ভারতের আসামে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রফতানি করছি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো থাইল্যান্ডও আমাদের কাছে ব্যান্ডউইথ আমদানি করতে চায়। এখন ইনফরমেশনের এতো বেশি ব্যবহার, ইন্টারনেট ছাড়া কেউ কিছু কল্পনাও করতে পারছেনা।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে ইন্টারনেট দাম কমার ব্যাপারে একটা সুখবরের আভাস দিয়েছিলেন বিষয়টি একটু বিস্তারিত বলুন। -মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পার এমবিপিএস ৭৮ হাজার টাকা থেকে ছয় দফা ইন্টারনেটের দাম কমিয়েছেন। এটা সপ্তম দফায় আরো কিছু দাম কমবে। যখন আমরা ব্যান্ডউইথ এর উপর থেকে দাম কমিয়ে দেই তখন গ্রাহক পর্যায়ে এর কিছুটা প্রভাব পরে। ইন্টারনাল যে ক্যারিয়ারগুলো আছে তাদের উপর থেকে ভ্যাট ১৫ থেকে ৫ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে। ইতিমধ্যে এনবিআরের অনুমোদন হয়ে গেছে। এখন আইনমন্ত্রীর স্বাক্ষরের অপেক্ষায় আছে, এটা হয়ে গেলেই গ্রাহক পর্যায়ে মূল্য কমে আসবে।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে আমাদের সরকার প্রতিনিয়ত এই সেক্টরে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। আমরা ইনফো সরকার-৩ এর মাধ্যমে ২৬শ' ইউনিয়নে যাচ্ছি। আমাদের নিজস্ব ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরি করে অপারেশনটা দিচ্ছি প্রাইভেট সেক্টরে। ফলে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ এর ভিত্তিতে এসব বিষয়ে আমরা আগামী তিন মাস ইন্টারনেট ফ্রী হিসেবে দিব। এর ফলে গ্রাম পর্যায়ের মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারে আরো বেশি উৎসাহিত হবেন। উপজেলা পর্যায়ে ১ হাজার টাকায় দুই এমবিপিএস অথবা ৫০০ টাকায় এক এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট পাবেন গ্রাহকরা। যেটা ১০ বছর আগে এক লাখ টাকায়ও পাওয়া যেতো না। এভাবে আমরা ইন্টারনেটকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারবো।

আমরা দেখেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহারে গ্রামে শহরের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার যে অঙ্গীকার করেছেন তা বাস্তবায়ন করতে গেলে আমাদের পাঁচটি বিষয়কে নজর দিতে হবে। এর মধ্যে এক হল- গ্রামের সব সন্তান যেন শিক্ষা পায়, দ্বিতীয়তঃ বিদ্যুতের আলো যাতে সবার ঘরে পৌঁছে, তৃতীয়ত আধুনিক পাকা রাস্তা, চতুর্থ: ইন্টারনেট সংযোগ এবং পাঁচ হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। এই পাঁচটি বিষয়ে যদি আমরা গ্রামের মানুষকে নিশ্চিত করতে পারি তাহলে গ্রাম শহরে পরিণত হবে। সুতরাং এই কারণেই আমরা আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে ইন্টারনেটের উপর অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য সরকার এই মেয়াদের মধ্যেই শতভাগ মানুষকে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে চাই।

দেশের দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানো প্রসঙ্গে পলক বলেন, আমরা জরিপ করে দেখেছি দেশের ৭৭২টা ইউনিয়ন দুর্গম এলাকার মধ্যে পড়েছে এসব এলাকার মধ্যে খুব বেশি হলে ১০০ ইউনিয়ন যেমন সন্দীপ, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, হাতিয়া, কুতুবদিয়া-মহেশখালী এগুলো অনেক বেশি দুর্গম। এই সব উপজেলায় আমরা রেডিও লিংক ব্যবহার করে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেব। অথবা সমুদ্রের নিচ দিয়ে ক্যাবলের মাধ্যমে আমরা ইন্টারনেট পৌঁছে দেব। এছাড়া কিছু উপজেলায় আমরা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দেব। আমরা ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি চুক্তিও করেছি, যার মাধ্যমে আমরা বিদ্যুতের পোল বা খুঁটি ব্যবহার করে ইন্টারনেট সেবা গ্রামে নিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া সার্ক স্যাটেলাইট এবং বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমরা ব্যান্ডউইথ দুর্গম এলাকায় পৌঁছে দেব। এর ফলে আমাদের দেশের প্রত্যেকটা ইঞ্চি ডিজিটাল কানেক্টিভিটির মধ্যে চলে আসবে।

আগামী পাঁচ বছরে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্যগুলো কি কি? -আমাদের আগামী পাঁচ বছরে প্রধান টার্গেট হলো হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপ করা। কারণ আমাদের হাইটেক পার্ক হয়ে গেছে, আমাদের কানেক্টিভিটি সব জায়গায় চলে গেছে। এখন আমাদের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো হিউম্যান ব্রেইন তৈরি করা। কারণ আমাদের লোহা-লক্কর, ইট-কাঠ-পাথরের দরকার নেই, আমাদের মূল যেটা চালিকাশক্তি সেটা হচ্ছে ব্রেন। এ কারণে আমরা প্রতিটি স্কুল পর্যায়ে ল্যাবগুলোকে অ্যাক্টিভ করবো। আমাদের ৯ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব আছে। ২০২৩ এর মধ্যে আমরা আরো ২৫ হাজার ৫শ' ডিজিটাল ল্যাব করবো। এখন আমাদের প্রধান টার্গেট প্রতিটি ল্যাবকে অ্যাক্টিভ করা আর আমাদের শিক্ষার্থীদের ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে যোগ্য করা। আমাদের এখন টার্গেট এটাই দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা।

বর্তমানে আমাদের যে হাইটেক পার্কগুলো আছে এখানে আগামী পাঁচ বছরে তিন লাখ জনশক্তির প্রয়োজন হবে। এখন আমাদের এই বিষয়গুলোর সঙ্গে মাথায় রেখে আমরা শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব, শেখ কামাল আইটি পার্ক এগুলোকে আরো এক্টিভেট করতে চাই। সরকারের সমস্ত সার্ভিস আমরা ডিজিটাল মাধ্যমে দিতে চাই। এর ফলে যেমন কমবে দুর্নীতি, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। যেমন আমাদের কাস্টমসে ডিজিটালাইজড করার কারণে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আয় বেড়েছে। দ্বিতীয় বিষয় হলো আমাদের ই-গভর্নেন্সকে অ্যাক্টিভ করা। আর তৃতীয় কম মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়া। এই তিনটা বিষয়কে নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
স্বাক্ষাৎকার বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর