• মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২০ ১৪২৭

  • || ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

৪২

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরে ঘুমাচ্ছেন শেরপুরের সেই ভিক্ষুক

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২০  

করোনা দুর্যোগে অসহায়দের জন্য সরকারের নেয়া বিভিন্ন খাদ্য কর্মসূচি ও ত্রাণ কার্যক্রমে যখন বিত্তবানদের দুর্নীতির খবরে সবাই হতাশ, তখন মহানুভবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেরপুরের এক ভিক্ষুক।

করোনার এ সময়ে তিনিই এখন সত্যিকারের হিরো। তার এই মহানুভবতার খবর দেশ পেরিয়ে পুরো বিশ্বকে দৃষ্টান্ত হিসেবে চমক দেখিয়েছে। ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের এ উদারতায় খুশি হয়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে ১২ শতক জমি ও পাকা বাড়ি দিয়েছেন। সেই বাড়ির নির্মাণকাজ এখন শেষ দিকে।

গত ২১ এপ্রিল কর্মহীনদের খাদ্য সহায়তার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ত্রাণ তহবিলে নিজের ভাঙা বসতঘর মেরামত করার জন্য ভিক্ষা করে দুই বছরে সঞ্চয়ের ১০ হাজার টাকা দান করেন ওই ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিন।

এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নাজিম উদ্দিনকে দেয়া হচ্ছে ১২ শতক জমি এবং পাকা বাড়ি। এছাড়া জীবিকা নির্বাহের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে একটি মুদি দোকান। শুধু তাই নয় নাজিম উদ্দিনের এমন উদারতায় মুগ্ধ হন চিত্রনায়ক ওমর সানি। তিনি নাজিম উদ্দিনকে বাবা ডেকে পায়ে সালাম করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন ১৯৪০ সালের ৭ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ব্যক্তি জীবনে তিনি তিনটি বিয়ে করেছেন। তার প্রথম স্ত্রীর নাম ময়না খাতুন। সেই ঘরে মমেন আলী নামে তার এক ছেলে রয়েছে। 

দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম হালেমা বেগম। ওই ঘরে নজেদা খাতুন নামে এক কন্যাসন্তান আছে তার। এ মেয়েটি মানসিক রোগী। ওই দুই স্ত্রীর সাথে অনেক আগেই তার ছাড়াছাড়ি হয়েছে। বর্তমান স্ত্রীর নাম আবেদা খাতুন। আবেদা বিকলাঙ্গ ও মানসিক রোগী।এ ঘরে আসকর আলী, সুন্দরী, তানজিলা ও আব্দুল্লাহ নামে চার সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে ছেলে আসকর আলী বিয়ে করে আলাদা থাকে। মেয়ে সুন্দরীর বিয়ে হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে।একসময় গারো পাহাড়ে লাকড়ি সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতেন তিনি। এরপর কোদালের জন্য কাঠ (আঁছারি) বানিয়ে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। নাজিম উদ্দিন ‘গারো পাহাড় থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে পাহাড়ের ড্রেনে  পড়ে গিয়ে পা ভেঙ্গে ফেলেন, এরপর থেকে তিনি  ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পরেন।

এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবিএম এহছানুল মামুন বলেন, ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি দোকান করে দেয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই দোকানের কাজ শুরু হবে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে প্রয়োজনীয় সব কিছুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া