• শনিবার   ১৫ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ৩০ ১৪২৭

  • || ২৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

১৯

‘প্রধানমন্ত্রীর সবুজায়নের ডাক, বিশ্বে রোল মডেল হতে পারে’

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২০  

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক ওয়েববিনারে বক্তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবুজায়নের ডাক দিয়ে পরিবেশ রক্ষার যে কাজ করে যাচ্ছেন তা পৃথিবীর জন্য একটি উদাহরণ। পৃথিবীর অনেক দেশ ও মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতির মুখে আছেন। একমাত্র সুষ্ঠু পরিবেশ ও প্রকৃতিই এ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষা নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। পরিবেশ রক্ষায় তার উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী রোল মডেল হতে পারে বলে ওয়েবিনার আলোচনায় বক্তারা এমন মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘মুজিব বর্ষে বাংলাদেশ: বৃক্ষরোপণে বিশুদ্ধ হোক পরিবেশ' শীর্ষক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে তারা এ সব কথা বলেন। ওয়েবিনারের সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাপরিষদ সদস্য ও কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দাকর বজলুল হকের সভাপতিত্বে এতে জুম আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্ট্যাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ উপাচার্য ড. নাসরিন আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক ড. অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন, আওয়ামী লীগের সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত এমপি, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিনসহ অন্যরা।

ফারুক খান বলেন, ‘পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট অব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যান্ড জননেত্রী শেখ হাসিনা; ওনার দুজনে তাদের সময়ে পলিটিক্যাল কমিটমেন্টটা দেখিয়েছেন যে পরিবেশ রক্ষার মাধ্যমে শুধু আমাদের দেশ নয়, বিশ্বকে রক্ষা করতে হবে। সুতরাং তাদের এই পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট ভেরি ইম্পর্টেন্ট।’

‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানরা এ দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছিল তাই জাতির পিতা মুক্তিযুদ্ধের পরে বারবার বৃক্ষরোপণ করার কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি। এ লক্ষে তিনি উপকূলব্যাপী ঝাউ গাছ লাগিয়েছিলেন। যা এখনও আমাদের জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করে।’

ফারুক খান বলেন, ‘আমার মনে আছে যখন তিনি উত্তরা গণভবনে প্রথম কেবিনেট মিটিয়ে যান। সেই কেবিনেট মিটিংয়ে আমি আমার কন্টিনজেন্ট নিয়ে গার্ড অব অনার দিয়েছিলাম এবং সেইদিন তিনি ওখানে গাছ লাগিয়েছিলেন। সুতরাং আমি জানি বঙ্গবন্ধু কতটা পরিবেশবান্ধব ছিলেন।’

তিনি আলোচক অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিনের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘তিনি সঠিক বলেছেন বিএনপি-জামায়াত জাতীয় পার্টির সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার যাই বলি, তারা কিন্তু পরিবেশ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত ছিল না, খুব একটা কাজও করেননি।’

জননেত্রী শেখ হাসিনার দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পরে আমরা দেখেছি তিনিও প্রতিবছর গাছ লাগানো এবং পরিবেশ রক্ষায় সূদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা করে কাজ করে যাচ্ছেন।

আওয়ামী সভাপতি শেখ হাসিনার প্রত্যেককে তিনটি করে গাছ লাগানোর আহ্বানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে সচেতন করে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এটাকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছেন যে আমাদের যে ডেল্টা প্লান সেখানেও বৃক্ষরোপণকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারগুলিতে আমরা যখন যাই, তখন আমাদের অর্জনগুলো আরও বেশি করে তুলে ধরতে হবে। যেন বাংলাদেশ পরিবেশ রক্ষায় একটি রোল মডেল হতে পারে।’

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সবুজায়নের ডাক পৃথিবীব্যাপী সাড়া ফেলেছে। দেশে যেমন তার দৃঢ় ও সুযোগ্য নেতৃত্বে পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ হচ্ছে তেমনি বিশ্বও তা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তার এসব উদ্যোগ বিশ্বে স্বীকৃতিও পেয়েছে। এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ হলো পরিবেশ রক্ষায় অবদানের কারণে তার একাধীক পুরস্কার।’

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সব উপাদান বাংলাদেশে দৃশ্যমান। পরিবেশ রক্ষায় ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পুরস্কার চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ' পুরস্কারে তিনি মনোনীত হয়েছেন। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরপর ১৯৮৩ সালে দুই বছরব্যাপী তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করে আসছেন।’

তিনি আরও বলেন: সে সময়ে তার যে স্লোগান ছিল সেটি এখনো আছে। সেটি হচ্ছে একটি করে ভেষজ, বনজ এবং ঔষুধি গাছ লাগান। ৩০-৪০ বছর আগে মনে প্রচুর গাছ ছিল। কিন্তু এখন আপনারা দেখবেন বসতি এলাকায় প্রচুর গাছ রয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার সামাজিক বনায়নলর ডাকের কারণে। বৃক্ষরোপনকে তিনি একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তর করেছেন।

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে প্রকৃতির অবস্থা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাবেক এই বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বলেন, ‘এখনকার যে প্রকৃতি সে প্রকৃতি অনেক নির্মোহ-নির্মল। কারণ এই সময়ে প্রকৃতি তার আপন নিজস্বতায় বিকশিত হতে পারছে। এটি প্রমাণ করে আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় প্রকৃতির উপর এরকম অত্যাচার করি।’

অধ্যাাপক ড. নাসরিন আহমেদ বলেন, ‘এটা ঠিক, আমি অত্যন্ত ভাগ্যবতী আমি বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকেছি। শুধু থেকেছি না অনেক কাল ধরে আমি বঙ্গবন্ধু জানি, চিনি; মানে তার পাশাপাশি ঘিরেই বড় হয়েছি। তারপরও এই আজকের দিনে যেটা বড় কথা আমি কিন্তু বনের মধ্যেই বড় হয়েছি। কারণ আমার বাবা ছিলেন সেই বিট্রিশ আমল থেকে ফরেস্ট অফিসার। পরবর্তীতে উনি ছিলেন বাংলাদেশের ফাস্ট ফরেস্ট সেক্রেটারি..।’

‘সুতরাং সেইগুলো আমি জানি। বঙ্গবন্ধুর বন সম্পর্কে একটি কথা বলি, বঙ্গবন্ধু যখন এই কক্সবাজার অঞ্চলে কোস্টাল ফরেস্টেশনের ওপরে জোর দিচ্ছেন, তখন তিনি ওই অঞ্চলের উপর দিয়ে হেলিকাপ্টার দিয়ে উড়ে যাচ্ছিলেন তখন দেখা গেল, চট্টগ্রাম রিজার্ভ ফরেস্টের জায়গায় জায়গায় একদম খালি হয়ে আছে। তখন আবার বাবা সাথে ছিলেন। তখন ওনি বললেন, এই খালি হওয়ার মানেটা কি? তখন আমার বাবা বললেন যে, অনেক সময় হয় যে আমরা যখন যত্মআত্মি করি না, তখন গাছের ক্ষতি হয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় মানুষের জন্য। তখন বঙ্গবন্ধু অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন যে হ্যাঁ এই বিশ্বের মানুষ যেমন দেশের জন্য ক্ষতিকর, মানুষ তেমনি বনের জন্যও ক্ষতিকর’ বলেন ড. নাসরিন আহমেদ।

‘এই যে মুজিববর্ষে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি অঙ্গীকার যেখানে তিনি বলছেন, দেশের কোন মানুষ যেন গৃহহীন না হয়ে থাকে, গৃহায়ন যেন হয়। একইভাবে বনের আচ্ছাদন বাড়াতেই হবে। বঙ্গবন্ধুর একশ বছরে আমরা যদি এক কোটি গাছ লাগাতে পারি নিঃসন্দেহে সেটা কিন্তু একটা অনেক বড় কাজ হবে। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, যত্মটাও নিতে হবে।’

নাসরিন আহমদ আরও বলেন, ‘আইন তো অনেক আছে কিন্তু আইনের প্রয়োগটা কতখানি। কেন প্রয়োগ হয় না? আপনারা হয়ত মামলা করছেন। কিন্তু তারপরে পাহাড়টা যখন কেটেই ফেলেন, তখন সে আইন করে তো আর আবার পাহাড়টা ফিরে পাওয়া যায় না। এটিই হচ্ছে সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার। পাহাড়গুলো একদিনে কাটা হয় না। কয়েকদিন ধরে কাটা হয়। যখন কাটা হল তখন হয়ত আইন (মামলা) করছেন কিন্তু যখন কাটতে শুরু করল তখন কিন কেউ নেই, এটি দেখার জন্য। আমার তো মনে হয়, এ ধরনের দেখাশোনার প্রয়োজন আছে।’

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর