• শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৪ ১৪২৭

  • || ০২ সফর ১৪৪২

২২

বাংলার বাঁশিওয়ালা

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২০  

সাতশ বছর আগের জার্মানি শহর আজকের মতো আধুনিক ছিল না। যেমন এলোমেলো ছিল জার্মানির ছোট্ট শহর হ্যামিলন। জার্মানির হানোভারের ৩৩ মাইল দক্ষিণে ছোট্ট শহরের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছিল ইঁদুরের অত্যাচারে। মেয়রের নেতৃত্বে সবাই মিলে একজোট হয়ে ঠিক করলো, শহরকে ইঁদুরের হাত থেকে যে বাঁচাতে পারবে তাকে মোটা অঙ্কের পুরস্কার দেয়া হবে।

সেই ঘোষণায় সাড়া দিয়ে শহরে এসে হাজির হলেন রহস্যময় এক বাঁশিওয়ালা। তিনি জানালেন, তার বাঁশির সুরে শহরকে ইঁদুরমুক্ত করা সম্ভব। বাঁশিওয়ালাকে মোটা অঙ্কের পুরস্কারের বিনিময়ে শহরকে ইঁদুরমুক্ত করার আদেশ দিলেন মেয়র। বাঁশি বাজাতে শুরু করলেন বাঁশিওয়ালা। বড় অদ্ভুত সেই সুর। তার বাঁশির শব্দ শুনে গর্ত থেকে বেরিয়ে এলো সব ইঁদুর। যেখানে যেরকম ইঁদুর ছিল সবই বেরিয়ে এলো বাঁশিওয়ালার মায়াবী সুরের টানে। একসময় ইঁদুরগুলোকে নিয়ে গিয়ে ওয়েজার নদীতে ফেলে দিলেন বাঁশিওয়ালা। ইঁদুরমুক্ত হলো হ্যামিলন। বিশ্ববিখ্যাত এই জার্মান গল্পটি ১২৮৪ সালের ২২ জুলাইয়ের।

ছয়শ সাতাশি বছর পর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবারের স্থান নাৎসীদের দেশ জার্মান নয়; পূর্ব বাংলা। জার্মানির ইদুরের চেয়েও ভয়ংকর শত্রু পাকিস্তানের হাতে প্রতিমুহূর্তে শোষিত-নিষ্পেষিত হচ্ছিল বাংলাদেশ। স্বাধীনতার জন্য ব্যাকূল সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাংলার বাঁশিওয়ালা শোনালেন তার অমর কবিতা। রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) উত্তাল সমুদ্রে দাঁড়িয়ে বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুললেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ মোহনীয় সুরের লহরীতে উত্তাল বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়লো দেশমাতৃকার শত্রু নিধনে। অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত কুখ্যাত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে হটিয়ে মুক্ত করলো বাংলাদেশ। বিশ্বের মানচিত্রে ঠাঁই পেলো স্বাধীন ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল।

সারাজীবন রাজনীতিচর্চা করলেও রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা এবং প্রভাব সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সাতচল্লিশের দেশভাগের পর থেকে। বাংলার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের নানারকম বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে বাঙালিরা যখন প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠতে থাকে তখন তাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখানো এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সংগঠিত করা, সর্বোপরি স্বাধীনতা সংগ্রামে বলিষ্ঠ নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাই তাকে অবিসংবাদিত করে তোলে।মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে কোনো রাষ্ট্রের স্বাধীনতাপ্রাপ্তি এবং রক্তগঙ্গায় তিরিশ লাখ মানুষের আত্মাহুতি পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমিক বিভিন্ন আন্দোলনের পথ পাড়ি দিয়ে একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ, করাভোগ এবং নেতৃত্বদান তাকে তার দেশ ও জাতির কাছে মহীয়ান করে তোলে। বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ পরিণত হয় সমার্থক শব্দে।কালের খেয়ায় আজ শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নামই নয়, মুক্তির পথ, একটি বিশ্বাসের নাম, বাঙালি জাতির চেতনার নাম। বাংলার ইতিহাসে একমাত্র দেবতার নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কবি অজয় দাশের ‘বঙ্গবন্ধু : আদিগন্ত যে সূর্য’ কবিতা যেন ষোল কোটি বাঙালির হৃদয়ের প্রতিধ্বনি-

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর