• বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১২ ১৪২৭

  • || ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

১৭৪

বাস্তবায়ন হচ্ছে মেয়র আনিসুল হকের সেই ‘ইউটার্ন প্রকল্প’

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২০  

তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড় থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কের ১১টি স্থানে ইউটার্ন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। কিন্তু নানা বাধার কারণে এই প্রকল্পটি আর এগোতে পারেনি সেই সময়। পরবর্তীতে যানজট কমাতে ফের সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

শুরুতে ১১টি ইউটার্ন নির্মাণের জন্য ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। সংশোধিত প্রকল্পে একটি ইউটার্ন কমিয়ে আনা হয়। ফলে ১০টির জন্য ব্যয় বাড়িয়ে সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ কোটি ৮০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএম কনস্ট্রাকশন ইউটার্ন নির্মাণের কাজ শুরু করে। কিন্তু শুরুতে কিছু জটিলতা দেখা দেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কিছু স্থাপনা ভাঙতে গেলে বাধা দেয় তারা। সংশোধিত প্রকল্পে সওজের স্থাপনার জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করায় সমস্যা কেটে গেছে।

প্রকল্প এলাকায় এখন মোট ১০টি ইউটার্ন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, উত্তরা রাজলক্ষ্মী, উত্তরা র‌্যাব-১ অফিসের সামনে, কাওলা, বনানী ওভারপাসের নিচে, বনানী কবরস্থান ও কাকলী মোড়ের মাঝখানে, বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি, মহাখালী মোড়, মহাখালী বাস টার্মিনাল, নাবিস্কো মোড় এবং বিজি প্রেসের সামনে ইউটার্নগুলো নির্মাণ করা হবে। এগুলোর মধ্যে উত্তরায় দুটি ইউটার্ন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলমান রয়েছে।

ইউটার্নগুলো নির্মাণ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তরা থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত ১০টি ইউটার্ন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হবে। আমরা দেখেছি, উত্তরায় রাজলক্ষ্মীর সামনে এবং জসীমউদ্দীন মোড়ে কী রকম জ্যাম হতো। এই কাজটির পরিকল্পনা ২০১৬ সালে নেয়া হয়েছিল। মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে কাজটি থমকে গিয়েছিল। আমি ৯ মাসের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পরে আমার একটা কমিটমেন্ট ছিল যে, আনিসুল হকের এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। তার স্বপ্নগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম ছিল। পরবর্তীতে দেখা গেল, এখানে সড়ক ও জনপদের জমি আছে। এছাড়া আরও অনেকগুলো বাধা ছিল। আমরা মিটিং করে সবগুলো বাধা নিষ্পন্ন করি। রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজের জায়গা আমাদেরকে কিনে নিতে হয়েছে, ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় অতিবাহিত হয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরা থেকে তেজগাঁও নাবিস্কো পর্যন্ত যেতে এখন যে সময় ব্যয় হয় তার শতকরা ৭০ ভাগ সময় কমে যাবে। এই কাজটি শেষ করতে পারলে জনগণ অনেক উপকৃত হবে। এর প্রমাণ আমরা পেয়েছি উত্তরায় রাজলক্ষ্মী এবং জসিম উদ্দিন মোড়ে। ভালো কাজগুলো কোনোভাবেই বন্ধ রাখা যাবে না। এই শহরকে সুন্দর করতেই হবে।

জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় সড়ক উন্নয়নসহ ইউটার্ন নির্মাণের মাধ্যমে ইন্টারসেকশনকে সিগন্যাল যুক্তকরণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভ্রমণের সময় হ্রাস করে যানজট হ্রাস করা সম্ভব হবে। এছাড়া পথচারীদের হাঁটার সুবিধাও প্রদান করা হবে।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর