• বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২০ ১৪২৭

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

১৫

মদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২০  

নেত্রকোনার মদন উপজেলার সদর ইউনিয়নে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। নলকূপ স্থাপন করতে গিয়ে স্থানীয় কুলিয়াটি (আরগিলা) গ্রামে গ্যাসের অস্তিত্ব মেলে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে ভিড় করেন হাজারো উৎসুক জনতা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাপেক্সের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আলমগীর হোসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নমুনা হিসেবে গ্যাস সংগ্রহ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাপেক্স জিএম আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা চার সদস্যের টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। নমুনা হিসেবে আমাদের ল্যাবে গ্যাস নিয়ে যাচ্ছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে। তবে তিনি বলেন, এখানে যে গ্যাস ক্ষেত্রটি উৎপত্তি হয়েছে প্রেশার অনেক কম। বিভিন্ন জৈব পদার্থ থেকে এর উৎপত্তি হতে পারে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কুলিয়াটি গ্রামের প্রয়াত সাংবাদিক শাহজাহান ভূঁইয়ার বাড়িতে নলকূপ স্থাপন শেষে পাইপের গোড়া বাঁধার সময় বুদবুদ আকারে ধোঁয়া আকৃতির গ্যাস উঠতে দেখেন মিস্ত্রিরা। নিশ্চিত হওয়ার জন্য মিস্ত্রিরা দিয়াশলাই ঠুকে দিতেই আগুন জ্বলে ওঠে।

নলকূপের মালিক বিলকিছ খানম বলেন, পাইপ ১৮০ ফুট বসাতেই আটকে ধরে। আর বসানো যাচ্ছিল না, পরে গোবর ও মাটি দেয়া হলে নরম হয়। মোট ২৭০ ফুট পাইপ বসানো হয়েছে। নলকূপ স্থাপনের পর থেকে বুদ বুদ শব্দ হলে টিউবয়েলের মাথাটি কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে রাখি। পরে দেখি কাগজটি ফুলে যাচ্ছে।

গ্রামবাসী বলছে এই টিউবয়েলে গ্যাস আছে। দিয়াশলাই দিয়ে আগুন দিলেই জ্বলে উঠছে। সেই থেকে পাইপের গোড়ায় একটি সরু পাইপ বসিয়ে দিয়ে গ্যাসে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে। আজ দুদিন ধরে এ গ্যাস দিয়ে রান্না করছি।

মিস্ত্রি মিলন মিয়া বলেন, নলকূপ স্থাপনের উদ্দেশ্যে সেখানে ২৭০ ফুট পাইপ বসানো হয়েছে। এরপর থেকেই গ্যাসের সন্ধান।

 

এদিকে, গ্যাস ওঠার খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন শত শত উৎসুক জনতা ভিড় করছেন। কেউ কেউ সেলফি তুলছেন, আবার কেউ কেউ আগুন লিভিয়ে পুনরায় তা জ্বালিয়ে দেখছেন।

মদন সদর ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান শেখ মানিক বলেন, লোকমুখে ঘটনাটি জানতে পেরে নিজেও দেখতে গিয়েছিলাম। আমার দাবি, দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করুক।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমিজুল হক জানান, ওই বাড়ির লোকজন ও গ্রামবাসীকে সতর্কতা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো বিশেষজ্ঞ দল না আসা পর্যন্ত নলকূপটি ওই অবস্থায় থাকবে। কেননা এখন নলকূপটি সরাতে গেলে অতিমাত্রায় আগুন জ্বলে সেটির বিস্ফোরণও হতে পারে। নলকূপটি ব্যবহার না করতেও বলা হয়েছে।

মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বুলবুল আহমেদ বলেন, গ্যাসের সন্ধান মিলেছে এমন খবরের প্রেক্ষিতে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। বাপেক্সের জিএম আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে শুক্রবার একটি দল ঘটনাস্থলে এসেছিল। তারা নমুনা হিসেবে ঢাকায় গ্যাস নিয়ে গেছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা যাবে।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর