• মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭

  • || ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহক কমলেও বেড়েছে ব্রডব্যান্ডের

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২০  

করোনাকালে মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহক (ব্যবহারকারী) কমলেও বেড়েছে ব্রডব্যান্ডের (উচ্চগতি) ব্যবহারকারী। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে (মে মাস পর্যন্ত) দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮০ লাখ ৮৪ হাজার। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যা ছিল ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার। গত তিন মাসে গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে ২৩ লাখ ৪১ হাজার।

তবে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি বলছে, গ্রাহক সংখ্যা আরও বেশি হবে। জুন মাসের প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। জুলাই মাসও শেষ হওয়ার পথে। গ্রাহক সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

এদিকে মোবাইল অপারেটরগুলোর ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা হিসাব করে দেখা গেছে, গত তিন মাসে অপারেটরগুলোর ২ লাখ ৮ হাজার গ্রাহক কমেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী (মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ) ছিল ৯ কোটি ৪২ লাখ ৩৬ হাজার। মে মাসে প্রকাশিত বিটিআরসির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটি ৪০ লাখ ২৮ হাজার। মাঝে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়লেও পরে কমে যায়।

বিটিআরসির প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার। গত তিন মাসে ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেনি। স্থিতিশীল রয়েছে। মূলত করোনাকাল তথা লকডাউন শুরুর পরে শুরু হয় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’। ফলে বাসাবাড়িতে ব্রডব্যান্ড সংযোগ নেওয়ার হার বেড়ে যায়। বেশিরভাগ নতুন গ্রাহক বাসা থেকে অফিসের যাবতীয় কাজ করছেন। সন্তানদের ক্লাস হচ্ছে অনলাইনে। বিভিন্ন স্ট্রিমিং সাইট, অ্যাপসে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারও বেড়েছে বাসাবাড়িতে।

আম্বার আইটি সূত্রে জানা গেছে, করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে তাদের প্রতিদিন ৩০টি নতুন সংযোগের ফরমায়েশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৬০টি।

অপটিম্যাক্স সলিউশন ‍লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, তাদেরও নতুন সংযোগের হার বেড়েছে। বেড়েছে অন্যদেরও।

জানতে চাইলে আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, এই সময়ে বাসাবাড়িতে নতুন সংযোগ গ্রহণের হার বেড়েছে। সব মিলিয়ে গ্রাহকও বেড়েছে আমাদের। কিন্তু সেই হারে আমাদের আয় বাড়েনি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরা যাক আগে আমাদের গ্রাহকরা ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করতেন। বর্তমানে সেই পরিমাণ হয়েছে ১৬-১৭ জিবিপিএস। অনেক গ্রাহক ব্যান্ডউইথ বাড়িয়ে নিয়েছেন কিন্তু তাদের বিল বাড়ানো যায়নি। কারণ, ব্যান্ডউইথ না বাড়ালে তারা অন্য আইএসপিতে চলে যাবেন। এটাও আমাদের দেখতে হয়েছে। ঘরে ঘরে নতুন সংযোগ বেড়ে যাওয়ার কারণে আমাদের লোকবল বাড়াতে হয়েছে, তাদের সুরক্ষা সামগ্রী দিতে হচ্ছে, ইঞ্জিনিয়ার ও লাইনম্যানদের গাড়িতে করে আনা নেওয়া করতে হচ্ছে, এতে খরচ বেড়েছে। এ অবস্থা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে হয়তো ভালো হবে। বেশিরভাগ আইএসপির এই অবস্থা। ছোট আইএসপিগুলো (যারা শুধু অফিস বা শুধু বাসায় সংযোগ দিতো) খারাপ অবস্থায় আছে।

প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে এক হাজার ৭৫০ জিবিপিএস’র বেশি ব্যান্ডউই্থ ব্যবহার হচ্ছে। এরমধ্যে ৯৫০ থেকে এক হাজার জিবিপিএস ব্যবহার হয় পিএসটিএন (ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে) অপারেটরগুলোতে। এই পরিমাণের মধ্যে বর্তমানে বাসাবাড়িতে ব্যবহার হয় প্রায় ৮৫ ভাগ ব্যান্ডউইথ, করোনা শুরুর আগে যা ছিল প্রায় ৬০ শতাংশের মতো। আর মোবাইল অপারেটরগুলোতে ব্যবহার হয় ৭৫০ থেকে ৮০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর