• সোমবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ১২ ১৪২৭

  • || ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

৮১

যেভাবে সচেতন থাকবেন এইডস থেকে

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর ২০২০  

আজ বিশ্ব এইডস দিবস। প্রতি বছর ১লা ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালন করা হয়। বছর অতিক্রান্ত করে একেবারে শেষ মাসে খানিকটা চুপিসারে উঁকি দিল দিনটা। মহামারি এক ভাইরাসে সারাবিশ্ব একেবারে চুপচাপ ছিল এই বছরটা।  

সেই নয়ের দশক অর্থাৎ ১৯৮৮ সালের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত যে ভাবে এই দিনটি আসার সাড়া পাওয়া যেত এখন তা যেন অতীত। এইডস অর্থাৎ অ্যাকুয়ারড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিন্ড্রোম যা এইচআইভি ভাইরাস থেকে সংক্রামিত হয়। ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতি বছর ১ লা ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালন করা হচ্ছে। যার মূল কারণ এইডস রোগের প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। তাই আজকের এই দিনটাকে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন - এর পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য প্রচারের দিন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। 

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮১ সালে সর্বপ্রথম এই মারণ রোগের সন্ধান পাওয়া যায়। তারপর মহাদেশ , সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। বিশেষ করে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলিতে বেশি দেখা দেয় এই রোগের প্রকোপ। ২০১৮ সালে ডাব্লুএইচও এর রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে এইচআইভি আক্রান্ত লোকের সংখ্যা ৩৭.৯ মিলিয়ন। মারা যায় প্রায় ৭৭০,০০০ মানুষ এবং ১.৭ মিলিয়ন মানুষ নতুনভাবে সংক্রামিত হয়েছিল।

এই মারণ রোগ এইডস কে প্রতিহত করার জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের সহায়তায় ১৯৯৪ সালে 'ইউএন এইডস' সংস্থাটি তৈরি হয়। এইডস রোগীদের চিকিৎসা ও তাদের সুরক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যায় এই সংস্থা। এর পরেই এইচআইভি এবং এইডস সংক্রমণ নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছুটা সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। ভারতবর্ষে এইডস নিয়ন্ত্রণের আলাদা সংস্থা তৈরি হয়। ন্যাশনাল এইডস কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন। এই সমস্ত সংস্থার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচার এর কিছুটা সুফল হলেও বর্তমানে তা কোথাও যেন আবার শৈথিল্য হয়ে গেছে। 

এইডস নিয়ে যে পরিমাণ সচেতনতা আর সহানুভূতির দরকার সেখানে ঘটে চলেছে তার ঠিক উল্টোটা। তবুও আজকের দিনে পালিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস। যে উদ্দেশ্যে এই দিন পালন করা হচ্ছে তা কি আদৌ সফল হচ্ছে প্রশ্ন এখানেই। এইডস রোগটি শুধু যৌন মিলনের জন্যই হয় তা কিন্তু না। 

এইডস বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তার কয়েকটি জেনে রাখুন- 

> এই আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যৌন মিলনে লিপ্ত হলে শরীরে এইচআইভি জীবাণু প্রবেশ করে। 

> এই রোগে আক্রান্ত মায়ের থেকে গর্ভস্থ শিশু বা বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে শিশুর দেহে এই ভাইরাস প্রবেশ করে। 

> এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত যদি কোনো সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে তবে আক্রান্ত হতে পারেন।

> এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করা ইনজেকশনের সিরিঞ্জ , অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সুস্থ ব্যক্তির দেহে ভুলবশত ব্যবহার হলে তা থেকে রোগ ছড়ায়। 

রোগের লক্ষণ  
> জ্বর, ১০ দিন বা তারও বেশি সময় ধরে জ্বর চলতে থাকে। 
> জিভে,ঠোঁটে,গলায় ও যৌনাঙ্গে ঘা হয়ে যাওয়া। 
> শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়া। 
> কোনো কিছু খাওয়ার সময় মুখে ও গলায় ব্যথা অনুভূত হওয়া। 
> শুকনো কাশি চলতেই থাকে।
> সারা শরীরে রাত্রিকালীন ঘাম দেখা দেয়া। 
> শরীরের লিম্ফ নোড বা লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া। 
> লাগাতার ডায়রিয়া চলতেই থাকে।
> শরীরের ওজন কমে যাওয়া। 
> ধীরে ধীরে শরীরের অঙ্গ অকেজো হওয়া। 

রোগ নির্ণয়
লক্ষণগুলোর উপর ভিত্তি করে এবং এইচআইভি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগনির্ণয় করা হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে অঙ্গে সংক্রমণের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। 

চিকিৎসা  
সাধারণত এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু অনিবার্য। কারণ এর কোনো সঠিক চিকিৎসা নেই। তবে, কিছু কিছু ঔষধ আছে যা আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে ভালো করে তুলতে সাহায্য করে। 

>ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং সঠিক চিকিৎসা করান। 
> উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি এআরটি-র সাহায্য নিন। 
> আক্রান্ত রোগিকে এক ঘরে না করে দিয়ে পাশে থাকুন এবং মনের জোর বাড়ান। 
> সময় মাফিক ঔষধ, জল ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। 
> এইচআইভি অক্রান্তদের দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে বঞ্চিত না করে কাজ করায় উৎসাহিত করতে হবে। 

প্রতিরোধের উপায় 

> সাধারণ মানুষের মধ্যে এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। 
> শারীরিক মিলনের সময় কন্ডোম ব্যবহার করতে হবে। 
> যৌন রোগের যথাযথ নির্ণয় ও চিকিৎসা করা খুবই জরুরি। যেকোনো যৌনরোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
> রক্ত দেয়া বা নেয়ার সময় অথবা ইনজেকশনের সময়ে একটি সিরিঞ্জ একবারই ব্যবহার করুন। 
> বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করান। 
> গর্ভের প্রথম অবস্থায়ই মায়ের এইচআইভি পরীক্ষা করানো উচিত।

এইচআইভি আক্রান্ত মানে যে মৃত্যু তা কিন্তু কখনোই নয়। কারণ এইচআইভি, এইডসের নানান চিকিৎসা ও নতুন পরীক্ষা রয়েছে বর্তমান দিনে। নিজেকে সমাজের থেকে লুকিয়ে না রেখে সাহায্য নিন বিশেষজ্ঞের। বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে প্রচার, হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে পদযাত্রার থেকেও কোথাও মানুষ যেন সিনেমার ভাষাটা বেশি বোঝে। সেই ভাষাতেই বললে ' ফির মিলেঙ্গে ' ছবিতে এইচআইভি আক্রান্ত প্রেমিকের পাশে দাঁড়িয়েছিল তার প্রেমিকা। ' মাই ব্রাদার নিখিল ' সিনেমায় আক্রান্ত ভাইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছিল পুরো পরিবার। তাই সহজ হয়েছিল জীবনের এই কঠিন পথ অতিক্রম করার। 

সমাজ থেকে নিজেকে না লুকিয়ে, একঘরে নিজেকে বন্ধ না রেখে আলোর পথে এসে চিকিৎসা করান। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব থেকে পরিবারের সকলে। চিকিৎসার পাশাপাশি সাহস যোগান তাদের। তবেই হয়তো সিনেমার মতো বাস্তবেও জীবনের কঠিন পথ সহজ হয়ে উঠবে। তবেই সফল হবে আজকের এই এইডস দিবস পালন। 

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর