• বুধবার   ০৮ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৪ ১৪২৭

  • || ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

১১

রুকইয়াহ কি ও কেন?

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২০  

আমরা রুকইয়াহ শব্দের সঙ্গে পরিচিত না হলেও আমাদের দেশের মানুষ ঝাড়ফুঁক শব্দটির সঙ্গে বেশ পরিচিত।

এখন সবচেয়ে বড় এবং প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, রুকইয়াহ কি?

তো চলুন জেনে নিই রুকইয়াহ সম্পর্কে বিস্তারিত-

(১) শাব্দিক অর্থে রুকইয়াহ মানে হলো, ঝাড়ফুঁক, মন্ত্র, তাবিজ কবচ ইত্যাদি। 
(২) তবে ব্যবহারিক অর্থে রুকইয়াহ বলতে সাধারণত ঝাড়ফুঁকই বুঝায়।
(৩) রুকইয়ার পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে, কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নামের জিকির, হাদিসে রাসূল (সা.) অথবা সালাফে সালেহীন থেকে বর্ণিত দোয়া পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কোনো বিপদ থেকে মুক্তি চাওয়া কিংবা রোগ থেকে আরোগ্য কামনা করা। 
আর এটাই রুকইয়াহ শারইয়াহ’র উত্তম সংজ্ঞা।

আচ্ছা! এবার যদি জিজ্ঞেস করা হয়- এই রুকইয়াহ জিনিসটা আসলে কি?

রুকইয়াহ হলো একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, আধুনিক ভাষায় পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলে এটাকে spiritual healing বলা যায়। অর্থাৎ আধ্যাত্মিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা।

রুকইয়াহ শারইয়াহ যা নয়:

এটা মনের আশা পূরণ কিংবা অসাধ্য সাধনের কোনো তদবির না, স্বামীকে বশ করার কোন মন্ত্র না, এটা নামাজ-রোজা কিংবা হজ-জাকাতের মতন বিশেষ কোনো ইবাদাত না। এটা একটা চিকিৎসা পদ্ধতি।

এ ব্যাপারে ইসলাম যা বলে:

এই চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে শরীয়তের নির্ধারিত গণ্ডি অতিক্রম না করলেই এটা জায়েজ। এব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রুকইয়াতে যদি শিরক না থাকে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৫৫৪৪)।

এক্ষেত্রে আলেমদের মত হচ্ছে, এটা তো অবশ্যই শিরক এবং কুফর থেকে মুক্ত হতে হবে, এমনকি এসবের সন্দেহও থাকা যাবে না। এজন্য ওলামায়ে কিরাম কয়েকটি শর্তের ব্যাপারে একমত হয়েছেন, সেসব হচ্ছে-

(১) কোনো শিরক-কুফর অথবা হারাম বাক্য থাকা যাবে না। 
(২) যা দ্বারা রুকইয়াহ করা হবে সেটা স্পষ্ট বাক্যে হতে হবে, যার অর্থ ভালভাবে বোঝা যায়। 
(৩) দুর্বোধ্য কোনো সংকেত বা ভাষায় হওয়া যাবে না, যার অর্থ স্বাভাবিকভাবে মানুষ বুঝে না। 

(উদাহরণস্বরূপ আপনি বাংলাদেশে ল্যাটিন ভাষার রুকইয়াহ করতে পারবেন না, কারণ এখানকার মানুষ সেটা বুঝবে না। এজন্যই সালাফের মাঝে কেউ কেউ ঝাড়ফুঁক আরবিতে হওয়াকেও শর্ত বলেছেন। তবে মূলত: স্বাভাবিকভাবে বোধগম্য ভাষায় হলে, আরবি হওয়া আবশ্যক না।)

আর হ্যাঁ! রুকইয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই আকিদা রাখতে হবে, রাক্বির কোনো সাধ্য নেই কাউকে সুস্থ করার কিংবা বিপদ দূর করার। সুস্থতা এবং বিপদমুক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, এখানে রুকইয়াহ কেবল দোয়ার অনুরূপ ভূমিকা পালন করছে। অর্থাৎ রুকইয়াহ আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার একটি পদ্ধতি মাত্র।

নোট: যিনি রুকইয়াহ করেন, তাকে রাক্বী বলা হয়।

এবারের প্রশ্ন হচ্ছে, কে রুকইয়াহ করতে পারে?

উত্তর হলো- নিজের জন্য বা পরিবারের জন্য যে কেউ রুকইয়াহ করতে পারে! এজন্য বিরাট বুজুর্গ হওয়া শর্ত না। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে এমন যেকোনো ব্যক্তি, যদি দেখে-দেখে কিংবা মুখস্থ দোয়া অথবা কোরআনের আয়াত পড়তে পারে, তাহলে সেই সেলফ রুকইয়াহ করতে পারবে।

তবে হ্যাঁ, আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদে অথবা জনগণের জন্য ব্যাপকভাবে রুকইয়াহ করতে চান, তাহলে অবশ্যই এ বিষয়ে আপনাকে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখতে হবে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কেউ যদি চিকিৎসার জ্ঞান না রেখেই চিকিৎসা করে, তবে (কিছু ঘটলে) সেই দায়ী হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪৫৮৬)।

নোট: নিজে নিজে রুকইয়াহ করাকে সেলফ রুকইয়াহ বলা হয়।

শেষ প্রশ্ন, আমি কিভাবে রুকইয়াহ বিষয়ে জানতে পারি? অথবা আমি কিভাবে রুকইয়াহ করা শিখতে পারি?

এ বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের প্রবন্ধ অথবা বই থেকে জানতে পারেন। অথবা তাদের দরস, বয়ান কিংবা লেকচার থেকে জানতে পারেন।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ারা আমাদেরকে শিরক মুক্ত রুকইয়াহ গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর