• মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭

  • || ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

৮৬৭

রোহিঙ্গা শিবির লকডাউনে কঠোর অবস্থানে সেনাবাহিনী

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২০  

করোনাভাইরাসের এই মহাদুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সামাজিক দূরত্ব বা হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতের বৃত্তের ভেতরই নিজেদের বন্দি না করে মানবিক হৃদয় নিয়েই দেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় করোনার ছোবলে নিঃস্ব, অভাবী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে সেনারা নিজেদের সমর্পণ করছেন। এরই অংশ হিসেবে গত মার্চ মাস থেকে বেসমারিক প্রশাসনকে সহায়তায় কক্সবাজারের মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন। কক্সবাজারের পাশাপাশি বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৪টি উপজেলায়ও একইভাবে কাজ করছেন সেনা সদস্যরা। গত ৮ এপ্রিল থেকে পর্যটননগরী কক্সবাজারকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। লকডাউনের পর থেকে সেনা সদস্যরা দিন-রাত খাটছেন।

করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে বৃহত্তম রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরসমূহ। গত তিন দিনে চারজন রোহিঙ্গার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। এ পরিস্থিতিতে উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় ১১ লক্ষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ৩৪টি ক্যাম্পে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করছে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের সেনা সদস্যরা। 

করোনারোগী শনাক্ত হওয়ার আগে থেকেই সেনা সদস্যরা সচেতনতামূলক তৎপরতা পরিচালনা করছে। রামু সেনানিবাস সূত্র জানিয়েছে, করোনারোধে ক্যাম্পে সামাজিক দূরত্ব, লকডাউন নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর টহল ও চেকপোস্টের কার্যক্রম বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রবেশদ্বার উখিয়াতে ডিজইনফেকশন বুথ স্থাপন করে সকল গাড়ি জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করানো হচ্ছে। 

এর মধ্যে করেনা আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের সংস্পর্শে আসা পরিবার ও অন্য ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতসহ জায়গাগুলো লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা রোহিঙ্গাদের লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। সংক্রমণরোধে এর মধ্যে ওই ব্লকের ১২৭৫টি ঘর রেড মার্ক করে লাল পতাকা দিয়ে লকডাউন করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রবেশদ্বারে উখিয়াতে ডিজইনফেকশন বুথের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী বহনকারী ছোট বড় সকল যানবাহন, জরুরি প্রয়োজনে প্রবেশকৃত গাড়িসমূহকে জীবাণুমুক্ত করার পাশাপাশি প্রত্যেক গাড়ির বারকোড স্ক্যান করে শুধুমাত্র অনুমতিপত্রসাপেক্ষে প্রবেশ করতে দিচ্ছে সেনা সদস্যরা।

পাশাপাশি সেনা সদস্যরা ক্যাম্পসমূহে মাইকিং করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সম্যক জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনাপ্রয়োজনে ক্যাম্প থেকে বের না হতে সকলকে অনুরোধ জানাচ্ছেন। পাশাপাশি বেশি বেশি হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ করছেন। ক্যাম্পে আতঙ্ক না ছড়িয়ে সকলকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় স্থাপিত সেনাবাহিনীর চেকপোস্টসমূহে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে বহিরাগতদের চলাচলেও।

অপরদিকে কক্সবাজারের প্রবেশমুখ লোহাগাড়া-চকরিয়া সীমানায় ইতিপূর্বেই সেনা সদস্যরা অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। জরুরি মালামাল নিয়ে আসা যানবাহনগুলোর গায়ে লেগে যেন করোনাভাইরাস জেলায় প্রবেশ না করতে পারে, সে কারণে গাড়িগুলোকে জীবাণুমুক্ত করে দিচ্ছে সেনাবাহিনী। এ লক্ষ্যে সীমান্ত প্রবেশদ্বারে বিশেষায়িত একটি বুথ নির্মাণ করেছেন তারা নিজস্ব উদ্ভাবনী সক্ষমতায়।

সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় 'আপনার সুস্থতাই আমাদের কাম্য'- এ প্রতিপাদ্যে সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের জন্য নির্ধারিত রেশনসামগ্রীর একাংশ বাঁচিয়ে প্রতিদিনই জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে খেটে খাওয়া, হতদরিদ্র, কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বীজ বিতরণ কার্যক্রম করা হচ্ছে। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ, আটা এবং সবজি ও মৌসুমি ফসলের উন্নত জাতের বীজ। 

খাবার সহায়তার পাশাপাশি কক্সবাজারের অনেক জায়গায় সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানেও সেনা চিকিৎসক, নার্সসহ সেনা সদস্যরা করোনা মোকাবেলায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। লকডাউন পরিস্থিতিতে ঘরবন্দি মানুষের নানাবিধ সংকট দূর করতেই সেনাবাহিনী এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানায় ওই সূত্র।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর