• শুক্রবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৩ ১৪২৭

  • || ৩০ মুহররম ১৪৪২

৮৪

শিবগঞ্জে বিশেষ অভিযানে চুরি হওয়া ৫লক্ষ টাকা ২৪ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২০  

বগুড়ার শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম বদিউজ্জামানের বুদ্ধিমত্তায় সাড়াশি অভিযানে চুরি হওয়া ৫ লক্ষ টাকা ২৪ ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।

থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার বন্তেঘরী গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে পান ব্যবসায়ী শাহিদুল ইসলাম ২০১৪ সালে বিএনপি জামায়ত জোট আন্দোলনের সময় বগুড়ায় পেট্রোল বোমা হামলায় নিহত হয়।

সেই সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিহতের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা অনুদান দেবার ঘোষনা দেন। অনুদানের ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে নিহতের স্ত্রী সাবিনা ৫ লক্ষ টাকা ছেলে সামিউল ২লক্ষ টাকা পিতা আফজাল হোসেন ৩ লক্ষ টাকা গত কয়েক দিন আগে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন।

এ দিকে শহিদুল ইসলাম নিহত হওয়ার পর তার পিতা আফজাল হোসেন এর ছোট ছেলে ওমর ফারুকের সাথে সাবিনার নিকাহ্ দেয়। এরপর তারা শহিদুুলের ছেলের ও ওয়ারিশের টাকা আত্মসাৎ করার চক্রান্ত করতে থাকে।

এক পর্যায়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে ব্যাংক থেকে উত্তোলনকৃত টাকা বাড়ীতে নিজেদের হেফাজতে রাখে। এরপর তারা টাকা চুরি হয়ে যাওয়ার মিথ্যা নাটক সাজায়। স্ত্রী সাবিনা থানা গেটের সামনে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে গত শুক্রবার নামাজের পর টাকা হারানোর কারণে মিথ্যা অভিনয় করে কান্নাকাটি ও প্রলাপ বকতে থাকে। এ সময় উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করতে থাকে।

ঘটনাটি থানার সিসি ক্যামেরায় অবলোকন করেন শিবগঞ্জ অফিসার ইনচার্জ এসএম বদিউজ্জামান। এর পর সাবিনাকে থানায় ডেকে নেয়। এর এক পর্যায়ে গত শুক্রবার স্বামী-স্ত্রী ফারুক ও সাবিনা মিলে থানায় অভিযোগ করে যে, তাদের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ১০ লক্ষ টাকা ব্যাংকে এফডিআর করেন। এর মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে বাড়ীতে রাখে ।

রাখার পর চুরি হয়েছে। চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম বদিউজ্জামানের নির্দেশে এসআই আলী আকবর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তারপর ঘটনা উদঘাটন করতে শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম বদিউজ্জামান নিজেই দায়িত্ব নিয়ে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ছানোয়ার হোসেন ও এসআই মোস্তাফিজুর কে সঙ্গে নিয়ে গত শনিবার রাত ১০.০০টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে আফজাল হোসেনের ছেলে সাবিনার দ্বিতীয় স্বামী ফারুক সহ পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেড়িয়ে আসে আসল রহস্য। ফারুক ও সাবিনা মিলে তার পিতার ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তারা ৫ লক্ষ টাকা চুরির ঘটনা সাজায়। তাদের ৫ লক্ষ টাকা স্থানীয় ব্যাংক এশিয়ায় জমা রাখে।

এব্যাপারে অফিসার ইনচার্জ এসএম বদিউজ্জামান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া টাকা চুরি হয়েছে শুনে আমরা অনুসন্ধান শুরু করি। আফজালের ছেলে ও ছেলের বউ কে জিজ্ঞাসাবাদ করে আসল রহস্য বেরিয়ে আসে। আফজাল হোসেনের ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে এই চুরির ঘটনার নাটক সাজিয়েছেন ।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
বগুড়া বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর