• শনিবার   ১১ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৭ ১৪২৭

  • || ২১ জ্বিলকদ ১৪৪১

২৬

সংসার নয় বিয়ে বাণিজ্যই মনিরা’র পেশা

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২০  

বগুড়ার শাজাহানপুরের ২৪ বছর বয়সে মনিরা আকতার মনি নামের এক নারী চারটি বিয়ে করেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ. মনিরা টাউট প্রকৃতির মেয়ে। সংসার মূল কথা নয় বিবাহ বাণ্যিজ্যই তার পেশা। গত ৭ জুন মনিরা স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় শাজাহানপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তাঁর স্বামী মঞ্জুরুল হক।

জানা গেছে, উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের আতাইল মধ্যপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম মন্টুর মেয়ে মনিরা আকতার মনি’র ১৪/১৫ বছর বয়সে নটাগাড়ী গ্রামের মৃত. মফিজ উদ্দিনের পুত্র ইউসুফ আলীর সাথে বিবাহ হয়। ৭ বছর সংসারকালে তাঁদের একটি মেয়ে সন্তান হয়।

পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন প্রতিবেশী দুই সন্তানের জনক ট্রাক ড্রাইভার মঞ্জুরুল হক মঞ্জু’র সাথে। ১ম স্বামীকে ডির্ভোস দিয়ে মনিরা ২য় বিয়ে করেন পরকীয়া প্রেমের নায়ক মঞ্জুরুল হককে। দুই বছর ঘর সংসারের পর মোবাইল ফোন ফেসবুকের মাধ্যমে পাবনার জেলার আরিফ নামের এক প্রবাসীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২য় স্বামীকে ডির্ভোস দিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে করেন ওই প্রবাসী যুবককে।

তাঁর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ডির্ভোস দিয়ে আবার ঘর বাঁধেন ২য় স্বামী মঞ্জুরুল হকের সাথে। ফের ঘর সংসার চলাকালে আবারো ফেসবুকের মাধ্যমে সম্পর্ক করেন কিশোরগঞ্জের সোহাগ নামের এক যুবকের সাথে। গত ৭ জুন বাড়ি থেকে শহরে ভাড়া বাসা খোঁজার কথা বলে বের হয়ে ঢাকায় গিয়ে বিয়ে করে ওই যুবককে। খবরটি জানান দিতে মনিরা তাঁর নতুন স্বামীকে নিয়ে ছবি তুলে মঞ্জুরুল হকসহ এলাকার বিভিন্ন জনের ফেসবুক আইডির ম্যাসেনজারে প্রেরণ করে।

বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য সোহাগের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন। মনিরার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি । তবে মনিরার পিতা নুরুল ইসলাম মন্টু মুঠোফোনে জানান, তিনি ঢাকায় চাকরি করায় মেয়ের সম্পর্কে তেমন খোঁজ খবর রাখেন না । মেয়েও তাঁর সাথে যোগাযোগ করে না।

মঞ্জুরুল হক জানান, ৭ জুন মনিরা বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় থানায় একটি জিডিও করা হয়েছে। গত কয়েকদিন পূর্বে মনিরা তাঁর ফেসবুক আইডির ম্যাসেনজারে একযুবকসহ তাঁর ছবি প্রেরণ করে । খোঁজ নিয়ে জানতে পারি মনিরা ওই যুবককে বিয়ে করেছে।

তবে এখনো ডির্ভোসের কাগজ হাতে পাইনি। তিনি আরো জানান, মনিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর সংসারের কিছু গচ্ছিত টাকাও নিয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, মনিরা ছোট থেকেই দুষ্ট প্রকৃতির মেয়ে। অভিভাবকদের কথা মনিরা কর্ণপাত করে না।

চেহারা সুন্দর হওয়ায় খুব সহজেই যে কোন ছেলেকে সে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে আবার ডির্ভোস দেয় । তাঁর সংসার মূল উদ্দেশ্যে নয় বিয়ে কেই মনে হয় সে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। 

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
বগুড়া বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর