• বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৭ ১৪২৭

  • || ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

৪৪

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন আনজুমান আরা

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  

স্বামী সংসার চালিয়েও একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের চন্দ্রখানা গ্রামের উদ্যোমী নারী আনজুমান আরা বেগম ওরফে হিরা।

অর্থনীতিতে অনার্স পাস করা এই নারী তার ১২ বছরের চাকরি জীবনের ইতি টানেন তার ছোট মেয়ে জন্ম হওয়ার পর। দুই সন্তান জন্ম হওয়ার পরেই স্বামীর সংসারে আত্ম নিয়োগের মাধ্যমেই মূলত তার চাকরি জীবনের ইতি ঘটে। এরপর ঢাকায় তার স্বামীর চাকরির সুবাদে বসবাস শুরু হয় ঢাকার মিরপুরের শ্যাওড়া পাড়ায়। 

আন্জুমান আরা বেগম হিরা স্বামীর সংসার দেখভাল করলেও অর্থনীতির শিক্ষা তাকে কিছু একটা করার জন্য বারবার তাগিদ দিতো। একপর্যায়ে তিনি কিছু একটা করার উদ্যোগ নেন। 

স্বামী জাহিদুল ইসলাম, বড়ভাই হাবিবুর রহমান হাবীব ও বন্ধু রেজাউর রহমান রাজীব, ভাগনী শারমিন সুলতানা বন্যার প্রেরণায় শুরু করেন কাপড়ের উপর সুই-সুতা আর হ্যান্ড পেইন্টের কাজ। 

বাজার থেকে এক কালারের শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, বেডশিট কিনে এনে সে গুলোতে সুই-সুতা ও রঙ তুলির নৈপুণ্যতায় বিভিন্ন ডিজাইন করা শুরু করেন। মাত্র কয়েক মাস আগে শুরু হওয়া এ কাজে তার শৈল্পিক মননশীলতায় সুই-সুতা ও হ্যান্ড পেইন্টে ওইসব কাপড়ের পোশাক ফিরে পায় নজরকাড়া সৌন্দর্য। গ্রাহক এসব পোশাকগুলো এক নজর দেখে চোখ ফেরাতে পারেন না। কিনে নেন অনেকটা সুলভ মূল্যে। মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে এসব পোশাক কিনতে পারছেন। 

আনজুমান আরা বেগম হিরার স্বামী জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রীর উদ্যোমী প্রচেষ্টাকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। তার মাঝে একটা প্রতিভা আছে তা আমি আগেই জানতাম। কিন্তু পরিবার সামলার বিষয়টির কারণে প্রতিভা বিকাশের কালক্ষেপণ হয়। 

গত কোরবানির এক সপ্তাহ আগে স্ত্রী হিরা সুই-সুতার ও হ্যান্ড পেইন্টের কাজ শুরু করে। তার স্ত্রী হিরার এ কাজটি শুরুর মাত্র অল্প দিনের সাড়া পেতে থাকে। একজন নারী হিসেবে তার এ কাজটি নিঃসন্দেহে ভালো। 

জাহিদুল ইসলাম আরো বলেন, শিক্ষিত নারী হিসেবে আমার স্ত্রীর নিজে কিছু করার ইচ্ছাকে আমি প্রেরণা দিচ্ছি। অর্থনৈতিক ও মনসিক সাপোর্ট দিচ্ছি। আমার স্ত্রীর মতো দেশের সকল শিক্ষিত নারীরা এভাবে নিজে কিছু করার উদ্যোগ নেয়া জরুরি বলেও জানান তিনি। 

উদ্যোক্তা আনজুমান আরা বেগম হিরা বলেন, আমি সুই-সুতা আর হ্যান্ড পেইন্টে থ্রি-পিস. পাঞ্জাবি, তাঁতের শাড়ি, বেডশিট, বেবি কাঁথা, নকশী কাঁথার কাজ করছি। আপাতত একাই এসব কাজ ঢাকায় বসে দিনে ২ থেকে ৪টা পর্যন্ত কাপড়ের কাজ করছি। গ্রাহকরা আমার ডিজাইনকে পছন্দ করে মাত্র মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে এসব প্রডাক্ট কিনছেন। 

তিনি বলেন, জিমি’স কালেকশন নামে আমার একটি অনলাইন শপিং পেজ আছে। এখান থেকে ও ফেসবুক পেজ থেকে অর্ডার করে প্রডাক্ট কিনতে পারছেন। আমি ভবিষ্যতে আমি ভবিষ্যতে আমার প্রডাক্টগুলো নিয়ে একটি শো-রুম দিব।

আনজুমান আরা বেগম হিরা আরো বলেন, আমার এসব প্রডাক্ট দেশের বিভিন্ন স্থানসহ দেশের বাইরেও যাচ্ছে। আমি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। সফল উদ্যোক্তা হয়ে আমার মতো বেকারদের কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করবো। আমি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাসহ দেশ-বিদেশের মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি। 

এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সোহেলী পারভীন বলেন, আনজুমান আরা বেগম হিরা একজন নারী উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এটা ভালো দিক। তিনি উদ্যোক্তা হয়ে নারীদের নিয়ে একটি সমিতি করতে পারেন। এই সমিতির সদস্যদের ওই কাজের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে তার কাজকে বেগবান করতে পারেন। এতে পোশাক তৈরি ও প্রডাক্ট বিক্রি দুটোই হবে। কর্মসংস্থান পাবে বেকার নারীরা। আমরা তার সমিতিকে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর থেকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য সহযোগিতা করতে পারবো।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর