বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রথমবারেই ব্রি ৯৮ চাষে আশানুরূপ ফলন

প্রথমবারেই ব্রি ৯৮ চাষে আশানুরূপ ফলন

আউশ মৌসুমে নতুন জাতের ব্রি ৯৮ জাতের ধান চাষ করে প্রথমবারেই আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন কৃষক। কম সময়ে অধিক ফলন ও খরচ কম হওয়ায় কৃষকদের এ জাতের ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে। সাধারণত আউশ মৌসুমের অন্যান্য জাতের ধানে ১৬-১৭ মণ ফলন হলেও নতুন এ ধানে বিঘাপ্রতি গড়ে ২২ মণ ফলন পাওয়া যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় গত আউশ মৌসুমে সদর উপজেলায় পরীক্ষামূলক ১০ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের ব্রি ধান ৯৮ চাষ করে ৪৮ টন ধান উৎপাদন হয়েছিল। আশানুরূপ ফলন পেয়ে ওই বীজ থেকে চারা তৈরি করে চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৪৮৮ হেক্টর জমিতে এ ধানের আবাদ করেন কৃষক। তাতে ৭ হাজার ১৪৩ টন ধান উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আউশ ধানের আবাদ হয়েছে ৪৩ হাজার ১৭ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৫ হাজার ৬৫০ হেক্টর, আলমডাঙ্গায় ৮ হাজার ৭৬৭, দামুড়হুদায় ১০ হাজার ৬০০ ও জীবননগরে ৮ হাজার হেক্টর। গত আট বছরের ব্যবধানে আউশের আবাদ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে নতুন জাতের ব্রি-৯৮ ধানের চাল লম্বা, চিকন, সাদা ও দাম বেশি হওয়ায় কৃষকের মধ্যে জনপ্রিয়তা বাড়ছে। গত বছরই প্রথম ১০ হেক্টর জমিতে এ ধানের আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৪৮৮ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১০ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৪৪০, দামুড়হুদা উপজেলায় ৮৯১ ও জীবননগর উপজেলায় ৪৭ হেক্টর।

দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জগবন্ধু বোস জানান, মোক্তারপুর ও কানাইডাঙ্গা গ্রামে ২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছর আউশ মৌসুমে ৪০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে আসছেন তিনি। গত বছর পুরো জমিতে ব্রি-৪৮ আবাদ করেছিলেন। এ বছর ২০ বিঘা জমিতে ব্রি-৪৮ এবং ২০ বিঘা জমিতে ব্রি-৯৮ আবাদ করেছেন। কার্পাসডাঙ্গা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ বলেন, ‘উন্নত জাতের ধানের অভাব, খরা, বন্যা ও অতিবৃষ্টি এবং তুলনামূলক ফলন কম হওয়ায় আউশ ধান চাষ দিন দিন কমছিল। কৃষিবিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টায় আউশ মৌসুমের জন্য উদ্ভাবিত ব্রি ধান ৯৮ অনেক সম্ভাবনাময়। সাধারণত অন্যান্য জাতের ধান বীজতলা থেকে চারা তুলে লাগানোর পর ১০৫-১২০ দিন সময় লাগে। সেখানে ব্রি ৯৮ ধান ৯০-১০০ দিনে কৃষক ঘরে তুলতে পারছেন।’

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, ‘এর আগে এ জেলায় ব্রিধান ৯৮ চাষ হয়নি। গত মৌসুমের শুরুতে আউশ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি কার্যক্রমের অংশ হিসাবে ব্রি ধান ৯৮ নিয়ে কাজ শুরু করি। ১০ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের ব্রি ধান ৯৮ চাষ করে ৪৮ টন ধান উৎপাদন হয়। এমন ফলন দেখে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে।’

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, ‘ব্রি ধান-৯৮ মাঠ পর্যায়ে জনপ্রিয় করতে পারলে দেশে আউশ আবার বড় ফসলে পরিণত হবে। একই সঙ্গে এটি লাভজনক ফসলও হবে। এ ধানে সেচ ও সার কম লাগে। এতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।’ ধানের আকার চিকন ও লম্বা এবং উৎপাদনে সময় কম লাগায় কৃষক এ জাতের ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ব্রি-৯৮ জাতের ধান দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।’

দৈনিক বগুড়া

সর্বশেষ: