• শুক্রবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

  • || ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

পিরোজপুরে অভাবনীয় পরিবর্তন

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২১  

১৮৫৯ সালে পিরোজপুর মহকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সবচেয়ে পুরাতন এ মহকুমা শহরটি ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ জেলায় উন্নীত হয়। ধান, চাল, পেয়ারা, আমড়া, নারকেল, সুপারি, মাল্টা এ সবের জন্য বিখ্যাত। এ জেলার সবজিভা-ার বলে খ্যাতি রয়েছে এবং অন্যান্য জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। দক্ষিণ অঞ্চলের এক সময়ের অবহেলিত পিরোজপুর জেলায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। সময়ের ব্যবধানে উন্নয়নযজ্ঞে এখন পাল্টে গেছে জেলার রূপ। এ জেলায় ১২ লাখ মানুষের বসবাস। ৭ টি উপজেলা নিয়ে ৩টি সংসদীয় আসন রয়েছে। পিরোজপুর-১, পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-নেছারাবাদ, পিরোজপুর-২, ভা-ারিয়া-কাউখালী-ইন্দুরকানী এবং মঠবাড়িয়া একটি উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-৩ আসন। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে জেলার সর্বত্র। চরাঞ্চলের গ্রামগুলো বসবাসের জন্য শহরের মতো বসবাসযোগী। সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন পার্ক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদে উন্নয়নবঞ্চিত পিরোজপুরের অভাবনীয় পরিবর্তনে আনন্দে উচ্ছ্বসিত পিরোজপুরবাসী। বর্তমান সরকার দুঃখ-বেদনার অবসান ঘটিয়ে একের এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলছে। এত উন্নয়ন স্বাধীনতার পরবর্তীতে আর কখনও দেখা যায়নি। উন্নয়নের সুবিধাভোগীদের কাছে এখন শেখ হাসিনার প্রশংসা ছাড়া আর কোন কথা নেই। একনেকে এ অঞ্চলের কোন প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন মহল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রী শ ম রেজাউলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ও অভিনন্দন জানানো হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলের উন্নয়ন বঞ্চনা ও বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকা পিরোজপুরের বর্তমান পরিস্থিতি অবলোকনে বিস্ময়কর পরিবর্তন দৃশ্যমান।

যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রকৃতিক কারণেই বিচ্ছিন্ন জেলার বিভিন্ন উপজেলা। বিশেষ করে পিরোজপুর জেলা সদর থেকে নেছারাবাদ, ভা-ারিয়া, কাউখালী ও মঠবাড়িয়া বিশাল নদী দ্বারা বিভাজিত। জেলা শহরে আসা-যাওয়ায় ভোগান্তির শেষ ছিল না। বেকুটিয়ায় বাংলাদেশ-চীন অষ্টম মৈত্রী সেতুর নির্মাণ শেষের পথে। পিরোজপুর সদর উপজেলার সাথে নেছারাবাদ উপজেলার সংযোগের জন্য কলাখালীতে কালীগঙ্গা নদীর উপরে বিশাল সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। নেছারাবাদ উপজেলার দীর্ঘদিনের বিভাজিত অবস্থা, নেছারাবাদ-ইন্দেরহাট এবং নাজিরপুর উপজেলার সঙ্গে কালীগঙ্গা ও বেলুয়া নদী দ্বারা বিভাজিত। নেছারাবাদ উপজেলার দুই প্রান্ত সংযুক্ত করা এবং নাজিরপুর উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য নেয়া হয়েছে মেগা প্রকল্প। ইতোমধ্যে প্রাথমিক সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই সেতু ও সড়ক নির্মাণের ফলে নেছারাবাদ উপজেলার দুইপ্রাপ্ত এক হয়ে নাজিরপুর ও ঢাকা মহাসড়কে সংযুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে অবসান হতে যাচ্ছে প্রায় ১০০ বছরের যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপন্নতা। চলমান এ সকল প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিস্ময়কর পরিবর্তন নিয়ে আসছে। সড়কপথে একইভাবে পিরোজপুর-ঢাকা মহাসড়ক মজবুত ও প্রশস্তকরণ, গ্রামীণ রাস্তা প্রশস্ত ও মজবুত করার ব্যাপক প্রকল্পের কাজ দিনরাত এগিয়ে চলছে। নাজিরপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও নেছারাবাদ উপজেলার চারটি ইউনিয়ন এতই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল যে, হাঁটা বা যন্ত্র চালিত নৌকা চলাচলের উপযোগী ছিল না। ঝুঁকিপূর্ণ ছোট নৌকা বা কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া করতে হতো এলাকাবাসীদের। সে সকল এলাকায় এখন কার্পেটিং রাস্তাসহ কালভার্ট, ব্রিজ, লোহার পুল নির্মাণের মধ্য দিয়ে অভাবনীয় উন্নতি হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার। জেলার বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলে বাঁশ ও কাঠের পুল, পুরাতন জরাজীর্ণ লোহার পুল, ছোট্ট পরিসরের পাকা কালভার্ট পরিবর্তন করে সময় উপযোগী ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের মধ্য দিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উপজেলা সদর ও জেলার সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রীরামকাঠি-ভরতকাঠি এবং নেছারাবাদ ও ইন্দেরহাটে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক ফেরি পারাপার। অতীতে যা কল্পনাও করতে পারেনি এলাকার জনসাধারণ।

বিদ্যুতে হাসি ॥ বিদ্যুত ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থা থেকে উন্নয়ন আর এক বিস্ময়কর পরিবর্তন এনেছে। বিদ্যুত বণ্টনের উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলমান। জেলার সাতটি উপজেলা এখন শতভাগ বিদ্যুতায়িত হওয়ায় হাসি ফুটেছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মুখে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ধনী-দরিদ্র সকলেই এখন বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছে নানাভাবে। আর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ॥ পিরোজপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি সরকারী বিশ^বিদ্যালয়। ইতোমধ্যে পিরোজপুরে বরাদ্দ হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়’। এলাকার শিক্ষা উন্নয়নে এ অভাবনীয় অবদান বর্তমান সরকারের। এর বাইরে পিরোজপুরে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, টেক্সটাইল টেকনোলজি ইন্সটিটিউট, সরকারী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বরাদ্দ হয়েছে। জরাজীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে একের পর এক ভবন, দেয়াল ও অপরাপর অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। পিরোজপুর সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারী গার্লস কলেজ, টাউন স্কুলসহ ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এছাড়া নেছারাবাদ উপজেলায় ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নাজিরপুর উপজেলার ৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রক্রিয়াধীন কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, একইভাবে অন্যান্য উপজেলায়ও অভাবনীয়ভাবে চলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ।

পিরোজপুর হাসপাতাল ॥ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সংস্কার করে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পিরোজপুর সদর হাসপাতাল আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরিত করার জন্য বিপুল অর্থে বহুতল ভবন নির্মাণ শেষের পথে। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নাজিরপুর-নেছারাবাদে হাসপাতালের আধুনিক ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন। প্রায় অধিকাংশ হাসপাতালের আধুনিক এ্যাম্বুলেন্সসহ চিকিৎসার উন্নত সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন ॥ বিচার বিভাগীয় আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল বিশিষ্ট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের নির্মাণ কাজ এগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে। আবাসিক ব্যবস্থার দুরবস্থা দূর করতে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সরকারী আবাসন প্রকল্প। শিল্প ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া পিরোজপুরে বরাদ্দ করা হয়েছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। যেখানে দেশী ও বিদেশী শতাধিক বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হবে। বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন প্রকার ভাতা প্রদানকে শতভাগে উন্নীত করা হয়েছে। হয়রানি এড়িয়ে সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে পিরোজপুরে ইতোমধ্যে পাসপোর্ট অফিসের নিজস্ব ভবন স্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃতিক কারণেই বিশুদ্ধ পানীয় জলের সঙ্কট ছিল দীর্ঘদিনের। বর্তমান সরকার আমলে পিরোজপুর-নেছারাবাদ-নাজিরপুরে গভীর নলকূপ, রেইন হার্ডভেস্টার ও অন্যান্য আধুনিক পদ্ধতির পানি সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণ করায় এখন পানীয় জলের অভাব কমে আসছে। সকল উপজেলা সদরে এবং জেলা সদরে ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (মডেল মসজিদ) নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও ব্যাপক কাজ এগিয়ে চলছে। সরকারী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে গুণগতমানের উন্নয়ন হচ্ছে। আধুনিক পিরোজপুর বিনির্মাণের ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেয়া হয়েছে একের পর এক প্রকল্প। বর্তমান পিরোজপুরের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় গেলেই উন্নয়নের চিত্র দেখে হতবাক হতে হয়। পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প পিরোজপুরে আনার জন্য কাজ করছেন। ফলশ্রুতিতে পিরোজপুরের সামগ্রিক উন্নয়ন এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে, স্বাধীনতা পরবর্তীতে এত উন্নয়ন পিরোজপুরবাসী কখনও দেখেনি।

৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু ॥ পিরোজপুরের বেকুটিয়া কচা নদীর ওপর ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সামগ্রিকভাবে সেতুটির দৈর্ঘ্য ২.৯৬ কিলোমিটার, যাতে ১.৪৯৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১৩.৪ মিটার প্রস্থ একটি বড় সেতু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেতুর দুই পাড়ের সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১.৪৬৭ কিলোমিটার। বর্তমানে সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে সেতুটির সুপার স্ট্রাকচারের কাজ চলমান রয়েছে এবং সবমিলিয়ে কাজের অগ্রগতি ৮২.৫%। আশা করা হচ্ছে যে সেতুটির নির্মাণ কাজ আগামী বছরের জুন মাসে সম্পন্ন এবং ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করা হবে। ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু বরিশাল এবং খুলনা বিভাগের মধ্যে স্থল যাতায়াত সংযুক্ত করবে যা এই দুই অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নতি ও সংস্কৃতির বিনিময় এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মৎস, কৃষি, শিল্প এবং পর্যটন শিল্প উপকৃত হবে। সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অন্যতম ফরচিউন গ্লোবাল ৫০০ কোম্পানির আওতায় চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিঃ চায়না রেলওয়ে ১৭ ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিঃ। মহামারী চলাকালীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে প্রয়োজনীয় সম্পদ একত্রীকরণ, যুক্তিসঙ্গত পরিকল্পনা এবং পদক্ষেপ প্রণয়ন করেছিল এবং দুই ধাপে মহামারী প্রতিরোধ এবং প্রকৌশল নির্মাণ অর্জন করেছিল। প্রকল্পের কাজ ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে এবং মহামারীর কারণে কখনও বন্ধ হয়নি। নির্মাণকাজ চলাকালীন প্রক্রিয়ার সময় ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু প্রকল্প আঞ্চলিক সরকার এবং পিরোজপুরের মানুষের কাছ থেকে শক্তিশালী সমর্থন পেয়েছে। অনেক স্থানীয় অধিবাসী সক্রিয়ভাবে সেতুর নির্মাণ কাজে অংশ নিয়েছে এবং প্রকল্পের উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রেখেছে। প্রকল্প এলাকায় সব সময়ই চীন ও বাংলাদেশের শ্রমিকদের সহযোগিতায়। উভয় দেশের নির্মাতারা যৌথভাবে কাজ করছেন এবং দেখছেন ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু ।

গণপূর্ত বিভাগ ॥ গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ সুলতান মাহমুদ সৈকত জানান, পিরোজপুর শহরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। যা ইতোমধ্যে ৭ তলা সম্পন্ন হয়েছে। ১০ বেডের আইসিইউ, স্পেশাল করোনা ইউনিট, পিসিআর ল্যাব নতুন সংযোজন, ১২ তলা বিশিষ্ট আদালত ভবন চীফ জুডিসিয়াল, নতুন জেলা কারাগার ভবন, মডেল মসজিদ, ভা-ারিয়া, মঠবাড়িয়া, কাউখালী, ইন্দুরকানী, স্বরূপকাঠীসহ জেলা সদরে ৪ তলা ভবন, ৩ তলা মুক্তিযোদ্ধা ভবন, এনএসআই জেলার নতুন ভবন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৪টি বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সরকারী টেকনিক্যাল সেন্টার, ভা-ারিয়া থানা ভবন, কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল, মঠবাড়িয়া,ভা-ারিয়া ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভূমি অফিস নির্মাণ ও ভিটাবাড়িয়া ১ কোটি টাকা ভূমি অফিস নির্মাণ ।

এলজিইডি ॥ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আঃ ছাত্তার হাওলাদার জানান, ৩ বছরে পিরোজপুর জেলায় ৭৬৫ কোটি টাকার সড়ক, ব্রিজ, কালভার্টের কাজ সমাপ্ত হয়। বর্তমানে ৯৮৯ কোটি টাকার কাজ চলমান আছে। উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ৩২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫১টি সাইক্লোন শেল্টার, ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০০ মিটার কলাখালী ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলমান আছে। তা ছাড়া ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পিরোজপুর জেলার সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় ৭টি উপজেলায় শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ কাজ চলমান।

জেলা পরিষদ ॥ পিরোজপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে জেলা পরিষদের রাজস্ব আয় থেকে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মাঝে ৫৭টি ঘর তৈরি করে দেয়া হয়েছে। মানুষের দুঃখ-বেদনার অবসান ঘটিয়ে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে জেলা পরিষদ। ভাণ্ডারিয়ায় ৪ তলা মাকের্ট নির্মাণ, জেলা সদরে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শেখ রাসেল শিশু পার্ক নির্মাণ, জেলা পরিষদ অফিসের পুকুরে গোল ঘর সহ ফোয়ারা নির্মাণ, পিরোজপুর জেলার ৭টি উপজেলায় ৭টি সীমানা গেট নির্মাণ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি উপলক্ষে পিরোজপুর সদরসহ ৭টি উপজেলায় স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণসহ এ জেলায় এমন কোন প্রতিষ্ঠান নেই উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। মসজিদ, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে সর্বস্তরের উন্নয়ন হয়েছে।

ভা-ারিয়া-কাউখালী-ইন্দুরকানী ॥ ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী, ইন্দুরকানী এলাকায় উন্নয়নে খুশি এ এলাকার নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। সাবেক জ¦ালানি, যোগাযোগ, পানিসম্পদ, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বরাবরই উন্নয়নের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। তার নির্বাচনী এলাকায় একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ করে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচার ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মরহুম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিঞার কনিষ্ঠ পুত্র আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। ভা-ারিয়ায় জাতীয় পার্টি ও মহাজোট থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অবহেলিত এলাকার উন্নয়ন কাজে আত্মনিয়োগ করে দুর্দশা লাঘব করেন। আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরহুম জননেতা মোহাম্মদ নাসিম ভা-ারিয়ায় সফরে এসে উন্নয়ন কাজের প্রশাংসা করে ভা-ারিয়াকে আমেরিকার টেক্সাস শহরের সাথে তুলনা করেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেন, ৩৬ বছর আগে ভাণ্ডারিয়ায় কি ছিল আর এখন কি হয়েছে, এলাকার জনগণ কাদা পায়ে হাঁটত আর এখন গ্রামেগঞ্জে কার্পেটিং রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট। তিনি বলেন, এলাকার ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত উন্নয়নের সাথে সংযুক্ত করেছি। এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলে কখনও তিনি ফিরিয়ে দেননি। বর্তমানে ভা-ারিয়াসহ তার নির্বাচনী এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু তার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজগুলো স্বপ্নের মতো বাস্তবায়ন করে চলছেন।

মঠবাড়িয়া উপজেলা ॥ মঠবাড়িয়াবাসী সহজে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অভাবনীয় সুবিধা ভোগ করছেন। ভোগান্তি নেই পণ্য পরিবহনেও। মঠবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের মহাসড়কে বর্তমানে মঠবাড়িয়াবাসী পিছিয়ে নেই। দৃশ্যমান নানা উন্নয়ন গ্রামীণ যোগাযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন। মঠবাড়িয়া পৌরসভার ১০০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে সদরে প্রধান সড়কের উন্নয়ন, পানি প্রকল্প, সাইক্লোন শেল্টার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ব্রিজ-কালভার্ট ও সড়ক উন্নয়ন। জলবায়ু প্রজেক্টের সোলার লাইট, ডাস্টবিন। সড়ক জনপথ বিভাগের ২২ কোটি টাকার অর্থায়নে সড়ক উন্নয়ন দৃশ্যমান। তিনি আরও জানান, মঠবাড়িয়া পৌরসভা ব্যতীত উপজেলার অন্যান্য এলাকায় এলজিইডির তত্ত্বাবধানে শত শত কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন ও কালভার্ট-ব্রিজ নির্মাণ দৃশ্যমান ও চলমান রয়েছে।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া