• শুক্রবার   ২১ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ৮ ১৪২৮

  • || ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

করোনাকালে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে রেকর্ড

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০২১  

করোনা মহামারির মধ্যে নভেম্বরে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে নতুন রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত নভেম্বরে এক লাখ ২ হাজার ৮৬৩ জন বিদেশগামী কর্মীকে ছাড়পত্র দিয়েছে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ আশা প্রকাশ করেছেন—আগামী দিনগুলোতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান আরও বাড়বে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিএমইটি আশা করছে, এই বছর সাড়ে পাঁচ লাখ লোকের বিদেশে কর্মসংস্থান হবে।

বিএমইটি সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০১৭ সালের মার্চে এক লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন। ওই বছর মোট গিয়েছিলেন ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জন, যা ছিল দেশের জন্য রেকর্ড। পরের বছর ২০১৮ সালে সাত লাখ ৩৪ হাজার এবং ২০১৯ সালে সাত লাখ কর্মী বিদেশে যায়।

কিন্তু মহামারির কারণে ২০২০ সালে বৈদেশিক কর্মসংস্থান থমকে যায়। ওই বছর মাত্র ২ লাখ ১৭ হাজার কর্মী বিদেশে যায়।

বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের ১১ মাসে মোট চার লাখ ৮৫ হাজার ৮৯৫ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। কোভিড পরিস্থিতিতে প্রায় পাঁচ লাখ কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের হার কোভিড আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই প্রবাহ চলমান থাকলে একদিকে যেমন বৈদেশিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে, তেমনি রেমিট্যান্স প্রবাহও ঊর্ধ্বমুখী হবে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক শহীদুল আলম এনডিসি জানান, মহামারির মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ লোকের বিদেশে কর্মসংস্থানের ঘটনা খুবই ইতিবাচক। আমরা মনে করি, বিদেশগামীদের নিবন্ধন ও ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা, কোয়ারেন্টিনের জন্য ২৫ হাজার টাকা, বিমানবন্দরে আরটিপিসিআর বসানো, প্রবাসীদের কোভিড পরীক্ষার খরচ দেওয়াসহ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান দফতর, রিক্রুটিং এজেন্সিসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অর্জন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এ বছর প্রায় ছয় লাখ কর্মী বিদেশে যাবেন। মহামারির মধ্যে এটি একটি অসাধারণ অর্জন হবে। 

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মাসে যে কর্মীরা বিদেশে গেছেন তার মধ্যে এককভাবে সৌদি আরবেই গেছেন তিন লাখ ৭০ হাজার ১৪ জন (৭৬ শতাংশ)। এছাড়া ওমানে ৪০ হাজার ৮৬ জন, সিঙ্গাপুরে ২১ হাজার ৩৩৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪ হাজার ২৭৪ জন, জর্ডানে ১১ হাজার ৮৪৫ জন এবং কাতারে ৯ হাজার ৭২৮ জন কর্মী গেছেন।

বিএমইটি জানিয়েছে, গত বছর করোনার কারণে বৈদেশিক কর্মসংস্থান দারুণভাবে বাধাগ্রস্ত হলেও এ বছর পরিস্থিতি ভালো। বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে ৩৫ হাজার ৭৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৯ হাজার ৫১০ জন এবং মার্চে ৬১ হাজার ৬৫৩ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।

দেশে দ্বিতীয় দফায় করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেলে এপ্রিলে আবার লকডাউনের কারণে কর্মী যাওয়া কমে যায়। ওই মাসে ৩৪ হাজার ১৪৫ জন, মে মাসে ১৪ হাজার ২০০ জন, জুনে ৪৫ হাজার ৫৬৭ জন, জুলাইতে ১২ হাজার ৩৮০ ও আগস্টে ১৯ হাজার ৬০৪ জন কর্মী বিদেশে যান। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হওয়ার পর সেপ্টেম্বর থেকে ফের কর্মী যাওয়া বাড়তে থাকে। ওই মাসে ৪২ হাজার এবং অক্টোবরে ৬৫ হাজার ২৩৩ জন বিদেশে যান।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া