শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১

আজীবন পেনশন মিলবে ১০ বছর চাঁদা দিলে

আজীবন পেনশন মিলবে ১০ বছর চাঁদা দিলে

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ১১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া এ অর্থবছর থেকে সুবিধাভোগীরা ১০ বছর চাঁদা দিলেই পাবেন আজীবন পেনশনের সুবিধা। গতকাল জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ প্রস্তাব করেন।

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এবার ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বরাদ্দ মোট বাজেটের ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

চালু হচ্ছে সর্বজনীন পেনশন : অর্থমন্ত্রী আরও জানান, এ অর্থবছর থেকেই সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করা সম্ভব হবে। দেশের বাইরে কর্মরত নাগরিকও অংশগ্রহণ করতে পারবেন এ স্কিমে। ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকেই বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হলে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী একজন সুবিধাভোগী ৬০ বছর পর্যন্ত এবং ৫০ বছরের অধিক বয়স্ক একজন সুবিধাভোগী ন্যূনতম ১০ বছর পর্যন্ত চাঁদা প্রদান সাপেক্ষে আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এতে প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকও অংশগ্রহণ করতে পারবেন। পেনশনে থাকাকালে ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যুবরণ করলে পেনশনারের নমিনি পেনশনারের ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত পেনশন প্রাপ্য হবেন। চাঁদাদাতা কমপক্ষে ১০ বছরের চাঁদা প্রদান করার আগেই মৃত্যুবরণ করলে জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ নমিনিকে ফেরত দেওয়া হবে। চাঁদাদাতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ হিসেবে উত্তোলন করা যাবে। পেনশনের জন্য নির্ধারিত চাঁদা বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিপরীতে কর রেয়াত সুবিধা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া মাসিক পেনশন বাবদ প্রাপ্ত অর্থ আয়কর মুক্ত থাকবে। এ ছাড়া এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে মাসিক বয়স্কভাতা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। আর বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, দেশে বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫৭ দশমিক ০১ লাখ থেকে ৫৮ দশমিক ০১ লাখে পৌঁছেছে এবং মাসিক ভাতার হার ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৪ দশমিক ৭৫ লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫ দশমিক ৭৫ লাখ। আর মাসিক ভাতার হার ৫০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৫০ টাকা। প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৩ দশমিক ৬৫ লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৯ লাখ। আর প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাসিক শিক্ষা উপবৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ৫০, মাধ্যমিকে ১৫০ ও উচ্চমাধ্যমিকে ১৫০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। হিজড়া জনগোষ্ঠীর ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৮১৫ থেকে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৬ হাজার করা হয়েছে। বিশেষ ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ করা হয়েছে।

দৈনিক বগুড়া

সর্বশেষ: