রোববার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নরসিংদীর চরাঞ্চলে পুলিশের কাজে আ.লীগের বাধা, ৬ সদস্য লাঞ্ছিত

নরসিংদীর চরাঞ্চলে পুলিশের কাজে আ.লীগের বাধা, ৬ সদস্য লাঞ্ছিত

সংগৃহীত

নরসিংদীর চরাঞ্চলে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০০-১২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাঁও ও সাতপাড়া এলাকার তাহসি বেগম, খোররেশদ মিয়া, রহিম মিয়া ও সোহাগী।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নরসিংদী সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রামকৃষ্ণ দাস, এসআই কামরুজ্জামান খান, এসআই আল নোমান মুন্সি, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নাজমুল হোসেন, এএসআই সুমন মিয়া ও কনস্টেবল হাদিস মিয়া স্পিডবোটে করে আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাঁও-সাতপাড়া এলাকায় একটি মামলার তদন্ত এবং আসামি গ্রেপ্তারে যান।

অভিযোগে বলা হয়, সেখানে পৌঁছানোর পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং অনুমতি ছাড়া এলাকায় প্রবেশের কারণ জানতে চান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া ও লাঞ্ছিত করে। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এএসআই মো. নাজমুল হোসেন বাদী হয়ে আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব রহমান হাবিকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। মামলায় আরও যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, দপ্তর সম্পাদক হুমায়ন মোল্লা, আওয়ামী লীগ নেতা মিটল, যুবলীগ নেতা মাইনুদ্দিন, হুমায়ন, হিমেল, ইসমাইল হোসেন একরাম ও ছাত্রলীগ নেতা সাজিদসহ মোট ৫২ জন।

খবর পেয়ে বিকেলে র‌্যাব, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রায় ৮০ সদস্যের একটি দল বাখননগর বীরগাঁও ও সাতপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী নারী বলেন, হঠাৎ হৈ হৈ শব্দ শুনে রাস্তার সামনে যাই। গিয়ে দেখি হাবি ও মাইনুদ্দিনের দলের লোকেরা ‘ধর ধর’ বলে কয়েকজনকে ধাওয়া দিচ্ছে। পরে তাদের মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়।

অভিযানে যাওয়া এক পুলিশ সদস্য বলেন, ওখানে যাওয়ার পরপরই স্থানীয় লোকজন আমাদের ওপর চড়াও হয়। ওই সময় পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি হয়।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. গুলসান আরা কবির বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে পাঁচ পুলিশ সদস্য চিকিৎসা নিতে সদর হাসপাতালে আসেন। আমরা যথারীতি তাদের চিকিৎসা দিয়েছি।

নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ আর এম আল মামুন বলেন, একটি মামলার তদন্ত ও চারটি গরুর হাট পরিদর্শন করতে পুলিশ সদস্যরা আলোকবালীতে যায়। সেখানে যাওয়ার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের কাজে বাধা দেয়।

পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, "সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার রয়েছে।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

জনপ্রিয়