রোববার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শেষ মুহূর্তে প্রাণ ফিরেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পশুর হাটে, নজর মাঝারি গরুতে

শেষ মুহূর্তে প্রাণ ফিরেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পশুর হাটে, নজর মাঝারি গরুতে

সংগৃহীত

শেষ মুহূর্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জমে উঠেছে গরুর হাট। প্রতিটি হাট ভরে উঠেছে দেশি জাতীয় গরু-ছাগলে। জেলাজুড়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছে ছোট-বড় নানা আকারের কোরবানিযোগ্য পশু। তবে, হাটগুলোতে এবার মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

এছাড়া বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ঈদের ছুটির দিনগুলো শুরু হলে হাটের বেচাবিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে এবং খামারিরা তাদের কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাবেন।

শনিবার (২৩ মে) সরেজমিনে শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তত্তিপুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতারা তাদের পালিত পশু নিয়ে হাটে হাজির হয়েছেন। ক্রেতারাও ভিড় করছেন। তবে এখনই কেনার চেয়ে দাম যাচাই-বাছাই করতেই বেশি পছন্দ করছেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, জেলায় মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৮টি গরু, ৫০৬টি মহিষ, ৮০ হাজার ৩৪৩টি ছাগল, ১২ হাজার ৪২২টি ভেড়া এবং ৫টি অন্যান্য গবাদিপশুসহ সর্বমোট ২ লাখ ২২ হাজার ৬৪৪টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। ২০২৬ সালে পুরো জেলার মোট পশুর চাহিদা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০টি, যার বিপরীতে জেলায় সর্বমোট ৫৫ হাজার ৮৯৪টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

এছাড়া উপজেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ৮৬ হাজার ৩৪৩টি পশুর বিপরীতে চাহিদা ৪৬ হাজারটি এবং উদ্বৃত্ত রয়েছে ৪০ হাজার ৩৪৩টি পশু। শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩৮ হাজার ৩১১টি পশু প্রস্তুত থাকলেও চাহিদা রয়েছে ৫১ হাজার ২২৯টি, ফলে এখানে ১৩ হাজার ৫৭টি পশুর ঘাটতি রয়েছে। নাচোল উপজেলায় ১৩ হাজার ৫২৫টি পশুর বিপরীতে চাহিদা ১২ হাজার ৫২০টি এবং উদ্বৃত্ত ১ হাজার ৫টি পশু। গোমস্তাপুর উপজেলায় ৫৭ হাজার ৮০৯টি পশু প্রস্তুত রয়েছে যেখানে চাহিদা ৪৫ হাজার ৪৫৩টি এবং উদ্বৃত্ত ১২ হাজার ৩৫৬টি পশু। সর্বশেষ ভোলাহাট উপজেলায় ১৬ হাজার ৭৭৬টি পশুর বিপরীতে চাহিদা ১১ হাজার ৫০০টি এবং উদ্বৃত্ত রয়েছে ৫ হাজার ২৭৬টি পশু।

ক্রেতা মোক্তার আলী বলেন, হাটে গরুর আমদানি বেশ ভালো। তবে বিক্রেতারা এখন দাম একটু চড়া চাচ্ছেন। আমার বাজেট মাঝারি সাইজের গরুর। তাই সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না কোনটা নেব।

খামারি ও বিক্রেতা ইসারুল বলেন, হাটে গরু তুলেছি। ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন, দাম করছেন। হাট পুরোদমে জমে উঠেছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার তত্তিপুর হাটের ইজারাদার হেলাল বলেন, আমাদের হাটে বেচাকেনা খুবই ভালো চলছে। আমাদের হাটে আগেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, এখনও ঘটেনি। এখানে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে এবং গরু ব্যাপারীদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। জাল টাকা শনাক্তকরণের জন্য ব্যাংক থেকে লোক মোতায়েন আছে। কোনো সমস্যা নাই, এছাড়াও গরুর ডাক্তার সব সময় আমাদের হাটে থাকে।

এদিকে হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছেন র‍্যাব-৫, সিপিসি-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প। এর ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার শিবগঞ্জ পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী তত্তিপুর গরুর হাট পরিদর্শন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‍্যাব-৫, সিপিসি-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ কাম্পের কমান্ডার ইফতেখার হোসেন মাহমুদ। এই সময় তিনি হাটটি ঘুরে দেখেন এবং জাল টাকা লেনদেন বন্ধ, পশুর হাটে নির্বিঘ্নে কেনা-বেচা ও অতিরিক্ত হাসিল আদায় বন্ধে কঠোর নিদের্শনা প্রদান করেন।

এছাড়াও পশুর হাটটি পরিদর্শনকালে হাট কমিটি বা হাট ইজারাদার এবং উপস্থিত স্থানীয় ক্রেতা বিক্রেতা ও জনসাধারণের সাথে বাজারের পরিবেশ, বাজারে নিয়ে আসা ক্রয়-বিক্রয়কৃত পশুর দাম, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, পশু ক্রয়-বিক্রয়ে সমস্যাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্তের বিষয়ে মত বিনিময়ও করেন।

র‍্যাব-৫, সিপিসি-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কমান্ডার এএসপি ইফতেখার হোসেন মাহমুদ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ হাটের পরিস্থিতি ভালো আছে। হাটে পর্যাপ্ত গরু আছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেশ কয়েকটি হাট আছে- তার মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলার তত্তিপুর হাট ঐতিহ্যবাহী হাট। 

 তিনি আরও বলেন, এই হাটসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাটগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের এখানে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা নজরদারিও আছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্রেতা ও বিক্রেতা যেন হাটে নির্বিঘ্নে বেচাকেনা করতে পারে, সেই বিষয়ে আমরা সবসময় সজাগ আছি। এছাড়া হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় বন্ধে আমরা তৎপর রয়েছি।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

জনপ্রিয়