• মঙ্গলবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৭ ১৪২৯

  • || ০৯ রজব ১৪৪৪

জুমের সঙ্গে ঠান্ডা আলুর চাষ করে লাভবান কৃষক

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩  

লামা উপজেলায় এখন বাণিজ্যিকভাবে ঠান্ডা আলুর চাষ হচ্ছে। ধান উৎপাদনের চেয়ে ঠান্ডা আলু চাষে লাভবান হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চাষিরা। অথচ একসময় এই ঠান্ডা আলু জুমের সাথী ফসল হিসেবে ধানের সাথে চাষ করা হতো। 

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ে ঢালু জমিতে জঙ্গল কেটে শুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলে পরিষ্কার করে পাহাড়িরা এক ধরণের চাষাবাদ করে সেটাকে  জুম চাষ বলা হয়। এই জুমচাষে ধানের সাথে ৩০ থেকে ৩৫ প্রকার সাথী ফসল করা হয়। এই সাথী ফসলের একটি ঠান্ডা আলু। এই আলু জুমের ধানের সাথে বপন করা হয়।

জুমের ধান সেপ্টেম্বর-অক্টেবরে কাটা শেষ হলে ঠান্ডা আলু ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে জুমিয়ারা যখন বিভিন্ন আলু, বেগুন, মরিচ তিল, যব  উত্তোলনের সময় যখন ক্লান্ত-ক্ষুধার্ত হতো ঠিক সে সময় ঠান্ডা আলু খেয়ে শরীরে প্রাণ শক্তি ফিরে পেত। আগে শুধু খাওয়ার জন্য চাষ করা হতো কিন্তু কালের আবর্তনে এখন উঁচু পতিত জমিতে ঠান্ডা আলুর চাষ হচ্ছে। আর হাট-বাজারে বিক্রি করে চাষিরা লাভবানও হচ্ছেন।  প্রথম যখন বাজারে উঠে কেজি প্রতি ১শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। শেষ পর্যন্ত ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।

ঠান্ডা আলুর আবরণ ফেলে দিয়ে এমনিতেই কাঁচা খাওয়া হয়। এটি খেতে মিষ্টি। এখন চাষিরা উঁচু জমিতে বাণিজ্যিকভাবে অনেকেই ঠান্ডা আলু চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। 

লামা উপজেলা গজালিয়া ইউনিয়নের গান্ধ্যা পাড়ার বাসিন্দা অংক্যচিং মারমা (৫৫) বলেন, উঁচু জমিগুলোতে অন্যান্য ফসল কম হওয়াতে গত দুইবছর ধরে ঠান্ডা আলু চাষ করছেন এবং লাভবান হচ্ছেন বলে জানান তিনি। ২০শতক জায়গায় ঠান্ডা আলুর চাষ করে ১৮মণ ঠান্ডা আলু পেয়েছেন। কেজি প্রতি ৩৫ টাকা। প্রতিমণ ১৪শ টাকায় বিক্রি করে এ বছর ২৫ হাজার টাকার বেশি আয় হয়েছে বলে জানান। 

আরেক চাষি উসাই মং মারমা (৪৫) বলেন, দেরকানি (৬০ শতক) জায়গায় ঠান্ডা আলু চাষ করেছি। প্রতি কানিতে ৪০ মণ উৎপাদন হয়েছে। এবছর প্রায় ৬০ মণ ঠান্ডা আলু পেয়েছি। পাইকারি প্রতিমণ ১৬শ টাকা করে প্রায় ৯৬ হাজার টাকার ঠান্ডা আলু বিক্রি করে এ বছর ভালো লাভ হয়েছে।

মিসেস নু হ্লামে মারমা (৫৫) বলেন, এক কানি (৪০ শতক) পতিত জমিতে ঠান্ডা আলু চাষ করে ৪০ মণ পাইকারি প্রতি কেজি ৩৫ টাকা করে বিক্রি করে ৫৬হাজার টাকা পেয়েছি। 

ঠান্ডা আলু ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৪০) বলেন, প্রতি বছর ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে মৌসুমী ব্যবসা করেন, ঠান্ডা আলুর সাইজ অনুসারে প্রতি কেজি ৩০টাকা থেকে ৪০ টাকায়   কিনে নিয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিক্রি করি। লাভও ভালো হয়। তিনি আরও বলেন, প্রতি শনি ও মঙ্গলবার লামা বাজারে এসে ৩০ থেকে-৪০ মণ ঠান্ডা আলু বস্তায় ভরে ট্রাকে করে পাইকারি কিনে যান। 

কৃষি সম্প্রসার অধিদফতরের উপপরিচালক এমএম শাহনেওয়াজ বলেন, ঠান্ডা আলু বাণুজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। আগামী বছর থেকে ঠান্ডা আলু চাষ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে জানান তিনি।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া