শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১

কেঁচো সার উৎপাদনে কৃষক আব্দুল হাসেমের সাফল্য!

কেঁচো সার উৎপাদনে কৃষক আব্দুল হাসেমের সাফল্য!

আখাউড়ায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন। এতে কৃষকদের রাসায়নিক সারের প্রতি ঝোঁক কমছে। সম্প্রতি কেঁচো সার উৎপাদনে সফল হয়েছেন কৃষক আব্দুল হাসেম মিয়া। তিনি তার বাড়ির আঙিনায় কেঁচো সার উৎপাদন করে সফলতা অর্জন করেছেন। এই সার জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ফসলের উৎপাদনও বাড়ে। তাই কৃষকরা এর ব্যবহার করায় সুফল পাচ্ছেন।

জানা যায়, কৃষক আব্দুল হাসেম মিয়া আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনয়নের নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাড়ির আঙিনায় ছায়াযুক্ত জমিতে কেঁচো সার তৈরি করে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন। তার কাছ থেকে কৃষকরা এই সার নিয়ে জমিতে ব্যবহার করে ফসলের অধিক ফলন পেয়েছেন। এছাড়াও এই সারের ব্যবহারের ফলে জমির মাটিতে রস থাকে এতে ফসল উৎপাদনে উর্বর শক্তি বেশি থাকে। একবার ব্যবহারে কয়েকবার ফসল ফলানো যায়।

কৃষক আবুল হাসেম বলেন, আমি ৭ বছর আগে উপজেলা কৃষি অফিস কর্তৃক সরকারি প্রশিক্ষণ নেই। তারপর প্রাথমিক ভাবে বাড়ির আঙিনায় কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করি। সর্বপ্রথম ৩টি রিং স্থাপন করি। তারপর মাটি প্রস্তুত, ইটের বেড়া, গোবর, কলাগাছ কটুরিপনা, সবজির খোসা এবং পাটের পরিত্যাক্ত ছালা দিয়ে বেড় তৈরি করি। এই বেড় তৈরিতে আমার প্রায় প্রায় দেড় হাজার টাকার খরচ হয়।

তিনি আরো বলেন, আমি সরকারিভাবে রিং, নগদ টাকা, টিন, নেটজাল ও কেঁচো দেয়া হয়। রিং বসানোর ৪৫ দিন পর বেড় থেকে ৩ মণ কেঁচো সার উৎপাদন করি। প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে বিক্রি করি। তারপর থেকে উৎপাদন আরো বাড়াতে থাকি। এখন মাসে ভাল আয় করতে পারছি। আগামীতে এর পরিধি আরো বড় করার পরিকল্পনা করছি।

স্থানীয় কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি একসময় জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতাম। কৃষি অফিসের পরামর্শে গত ২ বছর যাবত জমিতে কেঁচো সার ব্যবহার করছি। এই সার ব্যবহারে তুলনামূলক খরচ কম। এছাড়াও এতে রোগবালাইও কম। পাশাপাশি জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফলন বেশি পাওয়া যায়।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এই উপজেলায় অনেকেই কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার মধ্যে কৃষক আবুল হাসেমের তৈরি এই জৈব সার উপজেলা জুড়ে ভালো সাড়া ফেলেছে। এই সার ব্যবহারের জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ার পাশাপাশি ফলন বেশি পাওয়া যায়। তাই কৃষকরাও এই সার পছন্দ করছেন। আমরা জৈব সার উৎপাদনে নতুন উদ্যোক্তদেরকে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

দৈনিক বগুড়া

সর্বশেষ: