শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১

দিনাজপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষ

দিনাজপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষ

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষ পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি লাভজনক ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষ। বাড়ির উঠোনে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে সফলতা অর্জন করেছেন অনেক মৎস্য চাষি। পার্বতীপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম এখন ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষ পল্লী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রায় শতাধিক ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে প্রায় সহস্রাধিক মানুষের।

প্রতিটি ট্যাংকের উচ্চতা প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ ফুট। একটু কৌতূহল নিয়ে ট্যাংকের কাছে এগিয়ে গেলেই দেখা মিলবে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।তাহলে কি পুকুর ছাড়াও মাছ চাষ করা সম্ভব? কিন্তু কীভাবে? মনের মধ্যে এমন প্রশ্ন উঁকি দেওয়া খুব স্বাভাবিক। সম্পূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ পদ্ধতির নাম ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষ। এমনি দৃশ্যের দেখা মিলল দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের হয়বতপুর গ্রামে।অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম বাড়ির উঠোনেই করছেন, ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষ। তার এসব ট্যাংকে তেলাপিয়া,শিং.মাগুর ও পাবদা মাছ চাষ করা হচ্ছে।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো.সিরাজুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান,‘এই মাছ চাষ করে শুধু তার পরিবারের নয়,এলাকার অেেনকের মিটছে,আমিষের চাহিদা। সুস্বাদু হওয়ায় গ্রামে কারো বাড়িতে মেহমান বেড়াতে এলে তার কাছে,মাছ নিতে আসেন প্রতিবেশিরা। এমাছ ধরতেও অনেক সহজলভ্য হওয়ায় তিনি দ্রæত মাছ তুলে চাহিদা মাফিক দিতে পারেন। এতে তার বাড়তি আয় হয়। তিনি ভাবছেন,আরো দুটো ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষ করবেন তিনি।’

শুধু সিরাজুল নয়,একই পদ্ধতিতে যশাই মোড় এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান,সুশান্ত,রমিজ.পুরাতন বাজার এলাকার পিয়াস হোসেন,সোহেল,মোক্তার,মনমথপুর ইউনিয়নের মিশন এলাকার মাগদালিনা হাসদা,ফ্যমিলিয়ন হাসদা সহ অনেকেই করছেন ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষ। অনেকে গলদা চিংড়ি. গুলশা সহ একুরিয়াম ফিস অর্থাৎ রঙিন মাছও ট্যাংকে চাষ করছেন।

ফ্যামিলিয়ন হাসদা জানান,‘তার ট্যাংকে একুরিয়াম ফিস অর্থাৎ রঙিন জাতের মাছের, অরেন্ডা গোল্ড ফিস,কমেট,কইবার্প,ফাইটার,মিক্সড গাপ্নি, স্ক্রিন গাপ্নি, ব্র‌্যাক মলি,হোয়াইট মলি,গোল্ডেন মলি রয়েছে মাছ রয়েছে। তার বাড়িতে এসেই অনেকে ক্রয় কওে নিয়ে যান এই রঙিন মাছ। জাত ভেদে একজোড়া অর্থাৎ দু’টি মাছ তিনি বিক্রি করেন, আড়াই’শ টাকা থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। এতে প্রচুর লাভ থাকে তার।’

পার্বতীপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম এখন প্রায় শতাধিক ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে প্রায় সহ¯্রাধিক মানুষ। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি উদ্বৃদ্ধ ও সহযোগিতা করছে গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র-জিবিকে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন নামে দু’টি বে-সরকারি প্রতিষ্ঠান।

গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র-জিবিকের মৎস্য কর্মকর্তা মো.জাহেদুল হক জানান,এ পদ্ধতিতে চাষের ফলে মাছ দ্রæত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাছের গুণগত মান উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত হয় এবং মাছের মৃত্যুহার নেই বললেই চলে।প্রাাথমিক অবস্থায় খরচটা একটু বেশি হলেও লাভজনক এই মাছ চাষ পদ্ধতি।এ পদ্ধতিতে বেশি ঘনত্বে মাছ চাষ করা সম্ভব। যেখানে খাদ্য খরচ প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অনেক কম। মাছের উৎপাদন হার পুকুর বা জলাশয়ের চেয়ে অনেক বেশি।

পার্বতীপুর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু জাফর মো.সায়েম জানান, ‘পানির গুণাগুণ বৃদ্ধি ও রোগ সুৃষ্টিকারী ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ন্ত্রণ করার সম্ভব এই পদ্ধতিতে মাছ চাষে।এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে দেশে আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বেকারত্ব দূর করা সম্ভব।চাষের সময় খামারকে রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয় । এ পদ্ধতিতে পার্বতীপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম এখন ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষ পল্লী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রায় শতাধিক ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে প্রায় সহস্রাধিক মানুষের।’

নিজেদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞদের পরামর্শেই তারা ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষ করছেন।মাছ চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত আগ্রহী উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিজ্ঞানীরা প্রায়শ ট্যাংকে উচ্চমূল্যের মাছ চাষ পরিদর্শনে আসছেন।

দৈনিক বগুড়া

সর্বশেষ: