শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ত্বীন ফল চাষ করে সাড়া ফেলেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের আবু

ত্বীন ফল চাষ করে সাড়া ফেলেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের আবু

মরুভূমির মিষ্টি ফল ত্বীন এখন চাষ হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভাউলার হাট এলাকার স্মার্ট কৃষক নামে পরিচিত আবু বক্কর সিদ্দিক (আবু) এই ত্বীন ফলের চাষ করছে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন।

আয়তনের দিক থেকে দেশের উত্তরের কয়েকটি জেলার মধ্যে এটিই বড় বাগান বলে দাবি করছেন মালিক। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ের এ বাগান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ত্বীন ফল ও চারা বিক্রি হচ্ছে। দিনদিন চাহিদা বাড়ার কারণে বাগান কর্তৃপক্ষ ফার্মটির সম্প্রসারণ করে এ ফল গাছের চারা উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছেন।

সৌদি আরব ও বাংলাদেশে এই ফলকে ত্বীন নামে ডাকলেও অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে ভারত, তুরস্ক, মিসর, জর্দান ও যুক্তরাষ্ট্রে এটি আঞ্জির নামে পরিচিত। ডুমুর জাতীয় এ ফলটির বৈজ্ঞানিক নাম বৈজ্ঞানিক নাম Ficus carica। এ ফলটি পুরোপুরি পাকলে রসে ঠাসা ও মিষ্টি হয়ে ওঠে।

বাগানের মালিক আবু বলেন, লেখাপড়া শেষ করে আমি অন্যদের মত চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম। নিজের জমানো মাত্র ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে এ বাগানের যাত্রা শুরু করি। প্রথমে এক বিঘা জমিতে চাষ করি। শুরুর দিকে গাছের সংখ্যা কম থাকলেও বর্তমানে শতাধিক বড় গাছ রয়েছে। বাগান তৈরিুর ছয়মাস পরেই ফল আর চারা বিক্রি করেই দেড় লাখ টাকা আয় হয় আমার। এবার ২য় বার চারা এবং ফল বিক্রি করে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় আশা করছেন তিনি।

tin

খুরতামনি, মিশরীয়, ব্রাউন তুর্কি এ তিন জাতের গাছ রয়েছে বাগানে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি গাছ থেকে ছয় থেকে আট কেজি বা ন্যূনতম ৭০ থেকে ৮০টি ফল পাওয়া যায়। এখানকার গাছে প্রতিটি ত্বীন ফল ওজনে ৭০ থেকে ১১০গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। স্থানীয়ভাবে ছয়শ টাকা কেজি দরে এই ফল বিক্রি করছি। একবার চারা রোপণ করা হলে ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। মাদার প্ল্যান্ট (মূল গাছ) থেকে তৈরি করা কলমের তিন মাস বয়স থেকেই ফল দেওয়া শুরু করে। ফল ধরার এক থেকে দু সপ্তাহের মধ্যেই খাওয়ার উপযোগী হয়। শুধুমাত্র শীতের সময়টা বাদ দিয়ে সারাবছরই গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছ ছয় থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।

ত্বীন ফল ও গাছের ব্যাপক চাহিদার কারণে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন আবু। এখান থেকে কলম তৈরি করে নিজেদের প্ল্যান্ট ছাড়াও আগ্রহী চাষিদের মধ্যে বিক্রি করছেন চারা। তার ফলের ফার্মে স্থানীয়রা ছাড়াও প্রায় প্রতিদিনই পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ফল বিক্রেতাসহ ভোজন রসিকরা ত্বীন কিনে নিয়ে যান। ফলের পাশাপাশি সৌখিন চাষিরা চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

tin

বাগান মালিক বলেন, ত্বীন গাছে রোগ জীবাণু সংক্রমনের মাত্রা একদমই কম। ত্বীন চরম জলবায়ু অর্থাৎ শুষ্ক ও শীত প্রধান দেশে চাষ হলেও আমি প্রমাণ করেছি নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতেও ৩৬৫ দিনে ফল উৎপাদন করা সম্ভব। গার্মেন্টের বিকল্প আরেকটা সম্ভাবনা এ ত্বীন চাষ। সরকারের সহযোগিতা পেলে তা রফতানি করে আন্তর্জাতিকভাবে বাজার ধরা সম্ভব। যা চাষ করে দেশের বেকরাত্ব দূর এবং রফতানি করে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আয়তনের দিক থেকে উত্তরের জেলাগুলির মধ্যে এটিই তুলনামূলক বড় বাগান। বাণিজ্যিক ভাবে ছোট পরিসর থেকে বড় হচ্ছে এ বাগানটি। আমরা এই প্রকল্পটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। প্রচার-প্রচারণা মাধ্যমে ত্বীন ফলের চাষ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে চাষিরা লাভবান হবেন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এছাড়া বিদেশ থেকে ত্বীনের আমদানি নির্ভরতা কমে আসার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

দৈনিক বগুড়া

সর্বশেষ: