মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কাঠলিচু দারুণ সুস্বাদু ফল, উপকারিতাও অনেক

কাঠলিচু দারুণ সুস্বাদু ফল, উপকারিতাও অনেক

সংগৃহীত

কাঠলিচু গাছ মধ্যম আকারের চিরসবুজ গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Dimocarpus longan, যা ক্রান্তীয় অঞ্চলের বৃক্ষ। এই গাছ ৪০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এদের পুষ্প পুংপুস্পক এবং উভলিঙ্গ, পুংকেশর ৮টি। কাঠলিচুর ফল ঝুলন্ত এবং আঙ্গুরের মতো গুচ্ছাকার।

কাঠলিচু এক প্রকার লিচু জাতীয় সুস্বাদু ফল। এ ফলে প্রচুর শর্করা, ভিটামিন-সি এবং খনিজ উপাদান আছে। বেলেমাটি এই গাছের জন্য ভালো। কাঠলিচু এবং লিচু গাছের ফল ধরার সময় একই। স্বাদ ও ঘ্রাণে লিচুর কাছাকাছি থাকা এই ফলকে বাচ্চারা মুঠোয় ভরে খেতে খুবই পছন্দ করে। লংগান বা আঁশফল নামেও অনেক এলাকায় এর পরিচিতি আছে। বিদেশেও কাঠলিচুকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। যেমন- মিয়ানমারে কিয়েট মৌক, ভিয়েতনামে নাহান, কম্বোডিয়ায় মিয়েন, ইত্যাদি।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে কাঠলিচুর আদি নিবাস মালয় উপদ্বীপ। থাইল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া ও তাইওয়ানে কাঠলিচুর প্রচুর চাষ হয়। এই গাছ বাংলাদেশেও জন্মে। বাণিজ্যিকভাবে চাষ না হলেও গ্রামের হাট-বাজারে কাঠলিচু বিক্রি হতে দেখা যায়। আমিষগুণে ভরা এ ফলের কদর থাকলেও পরিচিতি কম। শহরাঞ্চলেও কাঠলিচু গাছ দেখা যায়। তবে শহরের অনেকেই জানেন না, এ ফল খাওয়া যায়।

কাঠলিচুতে নানা ভেষজ গুণাগুণ রয়েছে-

১. কাঠলিচুতে থাকা কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার হজমে দারুণভাবে সহায়তা করে।
২.  মনোপোজ পরবর্তী নারীদের শরীরে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম সরবরাহে কাঠ লিচু খুবই উপকারী।
৩. কাঠলিচুর আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে বিটা ক্যারোটিনসহ প্রয়োজনীয় ভিটামিন শোষণে সহায়তা করে।
৪. কাঠলিচু প্রচণ্ড ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
৫. কাশি ও টিউমার দমনে কাঠ লিচু খুবই কার্যকর।
৬. কাঠলিচুর শুকনো শাঁস পাকস্থলীর প্রদাহে, অনিদ্রা দূর করতে এবং বিষের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
৭. কাঠলিচু গাছের পাতা অ্যালার্জি, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও কার্ডিওভাসকুলার রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
৮. এই ফল উদারাময় নিবারক ও কৃমিনাশকে দারুণ কার্যকর।
৯. এই ফল শারীরিক দুর্বলতা তাড়াতে অতুলনীয়। অবসাদ দূর করতেও এর দারুণ সুনাম।
১০. কাঠলিচুতে থাকা লৌহ দেহের ক্ষয়পূরণে সহায়ক। দেহের মাংসপেশির ক্ষয় রোধ করতে কাঠলিচু খুবই উপকারী।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বশেষ: