শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

ঔষধি গুণে ভরপুর হাতিশুঁড় গাছ

ঔষধি গুণে ভরপুর হাতিশুঁড় গাছ

সংগৃহীত

হাতিশুঁড় গাছের আদিনিবাস এশিয়া মহাদেশ। ঝোপঝাড়ে বা রাস্তার ধারে, একটু উঁচু জায়গায় অযত্নে এই আগাছা বেড়ে ওঠে। ভেষজ চিকিৎসায় এর অনেক ব্যবহার হয়ে থাকে। এর পাতার রস ক্ষত, ফোঁড়া, চোখের কনজাংটিভাইটিস-এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এ গাছের বাঁকানো পুষ্পদণ্ডে ফুটে থাকে সাদা সাদা ফুল। গজদণ্ড অর্থাৎ হাতির দাঁতের মতো শুভ্র এই ফুল পুষ্পদণ্ড হাতির শুঁড়ের মতো বাঁকানো, তাই গাছটির এরকম নাম। এই গাছের অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। 

হাতিশুঁড় গাছের উপকারিতা :

১. বিষাক্ত কোনো পোকার কামড়ে শরীরের কোনো স্থান ফুলে গেলে এবং সে স্থানে জ্বালাপোড়া হলে এ উদ্ভিদের পাতা বেটে রস লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

২. সর্দি লাগলে এর পাতা ছেঁচে দুই চামচ পরিমাণ রস খেলে সর্দি ভালো হবে।

৩. অ্যাকজিমা থেকে মুক্তি পেতে হাতিশুঁড় গাছের পাতা থেতলে আক্রান্ত স্থানে দিলে কিছুদিন ব্যবহারে অ্যাকজিমা সেরে যাবে।

৪. টাইফয়েড রোগে এর পাতা হতে পারে কার্যকরী সমাধান। পাতার রস হালকা গরম করে পানিতে মিশিয়ে খেলে টাইফয়েড ভালো হয়।

৫. দাঁতের মাড়ি ফোলা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি হাতিশুঁড়ের মূল চিবালে মাড়ি ফোলা কমে যায়।

৬. ব্রণ হলে বা এর দাগ হয়ে গেলে হাতিশুঁড় গাছের পাতা ও তার কচি ডাল থেঁতো করে দুপুরে গোসল করতে যাওয়ার ১ ঘণ্টা আগে ব্রণের ওপর প্রলেপ দিলে ব্রণ সারে এবং নতুন করে আর ব্রণ হয় না।

৭. জ্বর ও কাশিতে এই গাছের মূল পানির সঙ্গে ফুটিয়ে ব্যবহার করা হয়।

৮. কাটা, ছেঁড়া ও আঘাত প্রশমনে এই গাছের ব্যবহার রয়েছে।

৯. আঘাতজনিত ফোলায় পাতা বেটে অল্প গরম করে লাগালে ফোলা এবং ব্যথা কমে যায়।

১০. ঠান্ডা লেগে হাতে পায়ের গাঁট ফুলে গেলে বা বাগী ফোলা অর্থাৎ উরু ও তলপেটের মাঝখানে, কুঁচকির ডান ও বাম দিকে যে কোনো দিক ফুলে গেলে এ গাছের পাতা বেটে হালকা গরম করে আক্রান্ত জায়গায় লাগালে ফোলা ও ব্যথা কমে যায়।

১১. দেহে ছত্রাকজনিত সংক্রমণে লাল চাকা চাকা দাগ নিরাময়ে এর পাতার রস ব্যবহার করা হয়।

১২. কোনো কারণে চোখ টকটকে লাল হলে, কড় কড় করছে, মনে হচ্ছে বালি পড়েছে- এমনটা হলে হাতিশুঁড় গাছের পাতার রস অব্যর্থ ওষুধ।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বশেষ: