• মঙ্গলবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯

  • || ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মহুয়া খেয়ে মাতাল হয়ে গভীর ঘুমে হাতির পাল, জাগাতে হলো ড্রাম বাজিয়ে

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর ২০২২  

মহুয়া গাছের ফুল পানিতে ভিজিয়ে রেখে একধরনের মদ তৈরি করা হয় ভারতের বিভিন্ন অংশে। এই মদকে স্থানীয় ভাষায় মহুয়াই বলে। সম্প্রতি মহুয়া সংগ্রহ করতে জঙ্গলে গিয়েছিলেন কিছু গ্রামবাসী। কিন্তু গিয়ে দেখেন, সেখানে হাজির হাতির পাল। তারা সব মহুয়া খেয়ে ফেলেছে। শুধু তা-ই নয়, মহুয়া খেয়ে মাতাল হাতিরা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েও পড়েছে। আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মদের ভাঙা পাত্রগুলো। এরপর হাতিগুলোকে জাগাতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে গ্রামবাসী ও বনকর্মীদের।

সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার কেওনঝাড়ে। জানা যায়, স্থানীয় শিলিপদ জঙ্গলে ঢুকেছিল ২৪টি হাতির একটি দল। সেই জঙ্গলে মহুয়া সংগ্রহ করতে গিয়ে গ্রামবাসীরা দেখেন, হাতিগুলো শুয়ে রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। পাশে পড়ে রয়েছে মহুয়া ভেজানো পানির পাত্রগুলো। সেখানকার সব মহুয়া খেয়ে ফেলেছে হাতির পাল। এরপর মাতাল হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে জঙ্গলেই।

নারিয়া শেঠি নামে এক গ্রামবাসী বলেন, ভোর ৬টার দিকে আমরা জঙ্গলে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি, মহুয়া রাখা সব পাত্র ভেঙেচুরে একাকার। এক ফোঁটা পানিও নেই। হাতিগুলো সেখানেই ঘুমাচ্ছিল। সম্ভবত ওরা মহুয়া ভেজানো পানি খেয়ে মাতাল হয়ে পড়েছিল। ওই পালে নয়টি পুরুষ, ছয়টি স্ত্রী ও নয়টি বাচ্চা হাতি ছিল। সবাই মহুয়ার নেশায় ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল।

প্রথমে গ্রামবাসীরাই হাতিদের ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। পরে বন দপ্তরে খবর দেওয়া হয়। বনকর্মীরা এসেও হাতিগুলোর ঘুম সহজে ভাঙাতে পারেননি। রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে তাদের জাগাতে হয়েছে। ঘুম ভাঙার পর হাতির পাল হেলেদুলে আবার জঙ্গলের গভীরে ফিরে যায়। গত মঙ্গলবার ভোরবেলা থেকে হাতিদের ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। অবশেষে সকাল ১০টার দিকে তাদের ঘুম ভাঙে।

তবে বন কর্মকর্তা ঘাসিরাম পাত্র বলেছেন, মহুয়া খেয়েই যে হাতিগুলো ঘুমিয়ে পড়েছিল, এমনটা না-ও হতে পারে। হয়তো এমনিই তারা জঙ্গলে বিশ্রাম নিতে এসেছিল। কিন্তু গ্রামবাসীর দাবি, হাতির পাল মহুয়া খেয়েই মাতাল হয়েছিল। ঘুমন্ত হাতিগুলোর পাশে মদের ভাঙা পাত্রগুলোর টুকরো পড়ে থাকতে দেখেছেন তারা।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া