• বৃহস্পতিবার   ২০ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ৭ ১৪২৮

  • || ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বাংলা চ্যানেল জয়ী ১৩ বছরের ‘রাব্বী’ পাড়ি দিতে চায় ইংলিশ চ্যানেল

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০২১  

বগুড়ার ছেলে রাব্বী রহমান মাত্র সাড়ে ১৩ বছর বয়সে টেকনাফের বাংলা চ্যানেল শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন তিন ঘন্টা ২০ মিনিটে পাড়ি দিয়ে নাম লেখালেন ইতিহাসের কনিষ্ঠ সাতারু হিসেবে। রাব্বী রহমান বগুড়া শহরের ফুলবাড়ি এলাকার আলালুর রহমানের ছেলে। রাব্বীর বাবা একজন প্রাক্তন জাতীয় সাঁতারু ও সাঁতার প্রশিক্ষক হিসেবে রয়েছেন। করোনাকালে খন্ডকালীন সাঁতার প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকায় কাজ করছেন স্থানীয় ঢাকাগামী বাস কাউন্টারের টিকিট মাস্টার হিসেবে। পরিবারের স্ত্রী আমেনা বেগম, ২ মেয়ে ও ১ ছেলে আলালুর রহমানের। রাব্বী সবার ছোট।

রাব্বী রহমান বগুড়ার শহরের সুবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তান হয়েও এপর্যন্ত বাংলা চ্যানেলে পাওয়া স্বর্ণসহ রাব্বীর অর্জন মোট চারটি স্বর্ণপদক। সোমবার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে বাংলা চ্যানেলে সাঁতার শুরু হয়। বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে অংশ নেন ৪৩ জন সাঁতারু। ফরচুন বাংলা চ্যানেল সাঁতার-২০২০ এ ১৫তম বাংলা চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় রাব্বী রহমান।

এবারের প্রতিযোগিতায় ৪৩ জনের মধ্যে ১ জন বিদেশি, ২ জন নারী ও ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। ভবিষ্যতে সাড়ে ২২ কিলোমিটারের ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে চায় রাব্বী। রাব্বী সাড়ে ৩ তিন বছর বয়স থেকে বাবার কাছে তালিম নেয়া শুরু করে। বাড়ির পাশেই অবস্থিত স্থানীয় মাদ্রাসার পুকুরে শুরু করে প্রশিক্ষণ। বুধবার বিকেলে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া বাস টার্মিনালে বাস থেকে নামার পর কথা হয় তার সাথে।

২০১৬ সালে রাব্বী জাতীয় বয়স ভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্বর্ণ পদক অর্জন করে। তারপর ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে শেখ রাসেল সুইমিং ক্লাব জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে। ২০১৯ সালে ঢাকায় শিশু একাডেমি আয়োজিত সাঁতার প্রতিযোগিতায় রাষ্ট্রপতি পদক অর্জন করে যার পদক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ তার হাতে তুলে দেন এবং সর্বশেষ ২০২০ সালে ফরচুর বাংলা চ্যানেল-২০২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেছে।

রাব্বী রহমান ভবিষ্যতে দেশের হয়ে বিশ্বের বড়বড় আসরে অংশ নিয়ে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তান রাব্বী রহমানের সাফল্যের অনুপ্রেরণায় রয়েছেন বাবা আলালুর রহমানের কাছে নেয়া প্রশিক্ষণ। মায়ের ভালোবাসা ও বোনদেন সার্পোট।

রাব্বী বাবা আলালুর রহমানের আশা, ‘তার ছেলে যেন ভবিষ্যতে অলিম্পিকের মত বড় আসরে বিজয়ী হয়ে লাল সবুজের পতাকাকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাব্বীর জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে সে আরও ভাল একজন সাতারু হয়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে নিয়ে আসবে।’

বাংলা চ্যানেল জয়ী রাব্বি রহমান বলেন, ‘বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেয়া স্বপ্ন ছিল বাবার তা আমি পাড়ি দিয়ে বাবার স্বপ্নকে সত্যি করতে পেরেছি। আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। এখন লাল সবুজের পতাকা মাথায় নিয়ে বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখতে চাই।  সবার সহযোগিতা ও ভালবাসা থাকলে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারবো সারা বিশ্বের কাছে।’

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া