• শুক্রবার   ২১ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ৮ ১৪২৮

  • || ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বগুড়ার কোটি টাকার ঝিনুকের গুঁড়া যাচ্ছে ১৬ জেলায়

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ৮ ডিসেম্বর ২০২১  

শামুক বা ঝিনুকের খোসা থেকে তৈরি গুঁড়া বিক্রি করে কোটি টাকা আয়! বিষয়টি অবাক হওয়ার মতো হলেও সত্য। কারণ এই খোসা থেকে তৈরি গুঁড়া মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে। ক্রমাগত বাড়ছে এর চাহিদা। আগে ঝিনুকের গুঁড়া শুধু বগুড়ায় বিক্রি হলেও এখন যাচ্ছে উত্তরের ১৬ জেলায়। বগুড়ায় শামুক বা ঝিনুকের খোসা থেকে মাছ বা মুরগীর খাদ্য তৈরির জন্য সদরের নওদাপাড়া এলাকায় কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্নভাবে চাহিদার দিক বিবেচনা করেই গ্রামের মানুষজন শামুক বা ঝিনুকের খোসা সংগ্রহ শুরু করেন। পরে স্থানীয় ছোট ছোট ব্যবসায়ী বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতি মণ খোসা ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় কিনে নিয়ে আসেন। তারপর এই ব্যবসায়ীরা বগুড়ার ওই কারখানায় বিক্রি করেন। বেশিরভাগ খোসা পাওয়া যায় বগুড়া, নীলফামারি , দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট নাটোর ও নওগাঁয়। পরে কারখানায় মেশিনের মাধ্যমে শামুক বা ঝিনুকের গুঁড়া করে মুরগি বা মাছের খাদ্যের উপাদান তৈরি করা হয়।

বগুড়া সদর উপজেলার ৪২ বছর ধরে শামুক-ঝিনুকের গুঁড়া তৈরি করছেন সামছুল আলম। এখানে উৎপাদিত ঝিনুকের গুঁড়া উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলাতেই কদর রয়েছে। এই কারখানা থেকে বর্তমানে মাসে ২ হাজার বস্তা ঝিনুকের গুঁড়া বিক্রি হচ্ছে। ফিড ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মুরগীর খামারি ও মাছচাষিরা তাদের কাছ থেকে ঝিনুকের গুঁড়া কেনেন।

কারখানার মালিক সামছুল আলম জানান, ঝিনুকের গুঁড়া মুরগী ও মাছের জন্য পুষ্টিকর খাবার হওয়ায় দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে। কারখানা শুরুতে লাভের মুখ না দেখলেও পরবর্তীতে সফল হয়েছেন তিনি। বর্তমানে তার কারখানায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৫ জন মানুষের কর্মস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। কাজের চাপ বাড়লে শ্রমিক বাড়ানো হয়।

কারখানার মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝিনুকের গুঁড়ার প্রতি বস্তা বিক্রি হয় ৪৫০ টাকায়। প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি গুঁড়া থাকে। মাসে গড়ে তাদের ২ হাজার বস্তা গুঁড়া বিক্রি হয়। এই হিসেবে এক মাসে কারখানা থেকে ৯ লাখ টাকার ঝিনুকের গুঁড়া বিক্রি হচ্ছে, যা এক বছরের হিসাব করলে দাঁড়ায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকা।

সামছুলের শুরু থেকেই শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন আমিনুর রহমান। এই কারখানায় বর্তমানে ১৫ জন শ্রমিক রয়েছেন। তারা সবাই এই কারখানায় কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে এখানে কারও মাসিক বেতন নেই, কাজ করতে হয় চুক্তিভিত্তিক। তারপরও তাদের প্রতি মাসে গড়ে ১৫ হাজার টাকা আয় হয়।

কারখানার মালিক সামছুল আলম জানান, বর্তমানে সিরাজগঞ্জের এসিআই ফিড মিলে নিয়মিত ঝিনুকের গুঁড়া সরবরাহ করছেন তিনি। এখন সারাদেশে মাছ চাষ ও মুরগী খামারের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে। এই কারণে ঝিনুকের গুঁড়ার চাহিদাও বাড়ছে। এখন নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হলে এই শিল্পও বেকারত্ব নিরসনে অবদান রাখতে পারবে।

ঝিনুকের গুঁড়ায় নিয়ে ভালো খবরের পাশাপাশি অল্প বিস্তর শঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন পরিবেশবিদেরা। তাদের এই গুঁড়া শিল্পে কাজের ক্ষেত্রে সচেতন না হলে শ্রমিকরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

সরকারি আজিজুল হক কলেজের পরিবেশ ও ভূগোল বিভাগের প্রধান আব্দুল হাই জানান, ঝিনুকের গুঁড়া কেমন পরিবেশে তৈরি হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। এমন স্থানে ঐ কারখানা থাকতে হবে, যেখানে বায়ু দূষণ কম হবে। ঝিনুকের গুঁড়া বাতাসে মিশে গেলে স্বাস্থ্যর জন্য তা ক্ষতিকর। কারখানার আশেপাশের মানুষরা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ন নীতি মেনে যদি এই কারখানাগুলো চালু রাখা যায় তাহলে দেশে বেকারত্ব কমবে।

অধ্যাপক হাই আরও জানান, এ ধরণের কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে হবে। কারণ তারা সবচাইতে বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকেন।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া