• রোববার   ০৩ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৯ ১৪২৯

  • || ০৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

বর্ষা আসন্ন, নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সারিয়াকান্দির যমুনাপারের মানুষ

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২২  

বর্ষা মৌসুম আসন্ন। বগুড়ার যমুনা নদীর দুই কূল পানিতে ভরে উঠেছে। নদী পারাপারে নৌকাই হবে একমাত্র ভরসা। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে যমুনা নদীর পারে নৌকা মেরামত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকার মাঝিরা। যমুনা নদীর দুই পার মিলিয়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার যাত্রী পরাপার হয়ে থাকে।

নৌকার কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একসময় ডিঙি নৌকা বেশি ব্যবহার হতো। এখন মানুষের প্রয়োজনে বড় বড় নৌকা তৈরি হচ্ছে। এখন আর নাম থাকে না নৌকার। নৌকা তৈরিতে বিশেষ কোনো কাঠ ব্যবহার হয় না। তবে সাধারণত নৌকার ক্ষেত্রে কড়ই, হিজল, মেহগনি কাঠ বেশি ব্যবহার হয়। কেউ কেউ ছোট নৌকা তৈরির ক্ষেত্রে কাঁঠাল গাছের কাঠও ব্যবহার করে থাকে। নৌকা তৈরিতে আলকাতরা, তারকাঁটা, গজাল, পাতাম ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। ৪ থেকে ৫ জন শ্রমিক লাগে একটি ডিঙি নৌকা তৈরি করতে। ১২ হাতের নৌকা তৈরিতে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ পড়ে। নৌকা তৈরিতেই খরচ কম। আবার তৈরি করা নৌকা কিনতে গেলে দাম বেশি পড়ে। সে কারণে বগুড়ার মাঝিরা নৌকা তৈরি করে নেন।

বগুড়া সারিয়াকান্দির পারতিত পরল গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, আমার বেশ কয়েকটি গরু এবং ১৪টি ছাগল আছে। প্রতিনিয়ত আমার নৌকায় চরে যেতে হয় ঘাস আনতে। পুরানো হয়ে যাওয়া নৌকা তাই বন্যা আসার আগেই মেরামত করে নেওয়া হচ্ছে।

কাস্টিয়ার চরের নৌকার মাঝি হয়রত আলী জানান, যমুনায় ধীরে ধীরে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুম এলে নদীতে বন্যা দেখা দেয়। আর সে সময় নৌকার চাহিদা দ্বিগুণ হয়। প্রতিবছর শতাধিক নৌকা মেরামত হয়, আবার শতাধিক নৌকা নতুন করে তৈরি করা হয়। নতুন নৌকা দিয়ে বেশিরভাগ সময় শুধু যাত্রী পারাপার করা হয়ে থাকে। 

সারিয়াকান্দি পৌর মেয়র মতিউর রহমান মতি জানান, বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে প্রতিবছর সারিয়াকান্দি নদীপারের মানুষ নৌকা তৈরি করেন। আবার পুরনো নৌকা মেরামত করে থাকেন। যাত্রী পারাপার হতে ভালো মানের নৌকা হলে আয় রোজগার ভালো হয় বলে মাঝিরা নিজ দায়িত্ব থেকে সেটা করে থাকেন। আর পৌরসভা থেকে বলা হয়েছে যমুনা নদীতে সব সময় ভালো মানের নৌকা নামাতে হবে, যেন দুর্ঘটনা না ঘটে। ভালো নৌকা না হলে নদীতে নামানো নিষেধ রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলতে মাঝিদের বলা হয়েছে।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া