• রোববার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১০ ১৪২৯

  • || ২৮ সফর ১৪৪৪

বগুড়া শেরপুরে জমকালো আয়োজনে চার প্রতিবন্ধীর বিয়ে সম্পন্ন

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২  

বগুড়ার শেরপুরে জমকালো আয়োজনে দুই জোড়া প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীর বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শেরপুর সার্বিক উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত কাদের সুফিয়া অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের উদ্যোগে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। সম্পূর্ণ যৌতুকবিহীন এই বিয়ে স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। এই বিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন নানা শ্রেণিপেশার চার শতাধিক মানুষ।

পৌরশহরের ঘোষপাড়ায় অবস্থিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিয়ের আয়োজন করা হয়। বরের সাজে শতাধিক বরযাত্রী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান (২৫)। সেখানে স্থাপিত অস্থায়ী সংবর্ধনা মঞ্চে মাথায় টিকলি পরে কনের সাজে আগেই বসেছিলেন কনে বাকপ্রতিবন্ধী সাথী আক্তার (১৮)। বরকে সাদরে গ্রহণ শেষে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেইসঙ্গে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। এরপর সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ওই দুই প্রতিবন্ধী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়েতে দেনমোহর ধার্য করা হয় ৫০ হাজার ৫০০ টাকা।

বর মিজানুর রহমানের বাড়ি উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের চকপাথালিয়া গ্রামে। বাবার নাম আব্দুল মান্নান। তিনি জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। পেশা কৃষিকাজ। কনে সাথী আক্তার শহরের পূর্বঘোষ পাড়া এলাকার আব্দুস সালামের মেয়ে। পাশের এই কাদের সুফিয়া প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি দর্জির কাজও শিখেছেন। তিনি জন্ম থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী।

একই মঞ্চে আরেক প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীর বিয়ে সম্পন্ন হয়। তারা হলেন শাহীন আলম (২৪) ও সীমা খাতুন (১৮)। তারা দুজনই জন্ম থেকে বাক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। শাহীন আলমের বাড়ি উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে। বাবার নাম রোস্তম আলী। তবে সংসারের প্রয়োজনীয় কাজসহ কৃষিকাজ ভালো করতে পারেন তিনি।

কনে সীমা খাতুন শহরের খন্দকার পাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার মেয়ে। তিনিও কাদের সুফিয়া প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি দর্জির কাজও শিখেছেন। তাদের বিয়েতে দেনমোহর ধার্য করা হয় এক লাখ টাকা। অন্যান্য বিয়ের মতো সাক্ষীদের উপস্থিতিতেই এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। বর ও কনেরা বাক-শ্রবণ ও মানসিক প্রতিবন্ধী হলেও মাথা ঝুঁকিয়ে ঝুঁকিয়ে বিয়ের কবুল সম্মতি প্রকাশ করেন। বিয়ের পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই সন্তোষ প্রকাশ করে বর-কনেদের জন্য দোয়া করেন।

বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক মো. কাওছার আহম্মেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ওবায়দুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আব্দুর রউফ, শেরপুর অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আব্দুস সবুর, শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, শেরপুর কাদের সুফিয়া অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উম্মে সুফিয়া বিউটিসহ নানা শ্রেণিপেশার অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বর ও কনেকে নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান তারা। সম্পূর্ণ যৌতুকবিহীন এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান কাদের সুফিয়া প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উম্মে সুফিয়া বিউটি। তিনি বলেন, বরযাত্রী ও অতিথিদের আপ্যায়নসহ বিয়ের সব খরচ বিদ্যালয় থেকে বহন করা হয়। সেইসঙ্গে নবদম্পতিদের সংসারের যাবতীয় আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছে। এজন্য তার নিজেরও এই বিয়ে অনুষ্ঠানে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক মো. কাওছার আহম্মেদ বলেন, প্রতিবন্ধীদের সমাজে বোঝা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আসলে তারা বোঝা নয়। তাদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে তারাও দেশের সম্পদ। আজকের এই আয়োজন আরেকটি অনুপ্রেরণা।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া