রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০

খামার করেই ওরা টাকাওয়ালা,আছে উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার

খামার করেই ওরা টাকাওয়ালা,আছে উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার

তৌহিদ পারভেজ বিপ্লব উচ্চশিক্ষা নিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন বগুড়া থেকে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে। 'ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস' বিষয়ে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে বেড়াতেন বনেবাদাড়ে, তুলতেন জীবজন্তুর ছবি। ছবি তুলে মিলেছে আন্তর্জাতিক পুরস্কারও। তাঁর আরেকটি শখের জায়গা দুগ্ধ খামার। ২০১১ সালে দেশে ফিরে সাতটি এঁড়ে বাছুর কিনে প্রায় ১২ বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন বিশাল খামার। নাম দেন বগুড়া ভান্ডার ডেইরি অ্যান্ড এগ্রো ফার্ম লিমিটেড। এর বাইরে ৩৫ বিঘা জমিতে করছেন ধান ও বিদেশি জাতের ঘাস চাষ। এখন ওই খামারে তিন শতাধিক উন্নত জাতের গরু। খামারের দুধ থেকে দই-মিষ্টি উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে গত ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে 'মিঠাই মেলা'। বগুড়া ও ঢাকায় আছে প্রতিষ্ঠানটির শাখা। তাঁর সব প্রতিষ্ঠানে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

সাত গাভি দিয়ে ইমরান হোসেন ২০০৮ সালে যে স্বপ্নবীজ পুঁতেছিলেন, ১৫ বছর পর এখন তা মহিরুহ। পশুর সংখ্যা সাত থেকে এখন প্রায় তিন হাজার। ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে বিবিএ পাস করে পৈতৃক ঢেউটিনের ব্যবসায় নিজেকে জড়ান ইমরান। সেই ব্যবসায় মন টেকেনি। ২০০৮ সালে নিজেই হাঁটেন নতুন পথে, একা। রাজধানীর বছিলায় ১০ কাঠা জমিতে গড়ে ওঠা ইমরান হোসেনের 'সাদেক এগ্রো' এখন সফল প্রতিষ্ঠান।

তৌহিদ পারভেজ বিপ্লব ও ইমরান হোসেনের মতো এমন ২৫০ সফল উদ্যোক্তা গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলা মাঠে দুই দিনের প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। খামারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রাণী নিয়ে সারাদেশ থেকে মেলায় অংশ নেন তাঁরা। এ প্রদর্শনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। সহযোগিতায় বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএ) ও বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)। প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা মো. এমদাদুল হক তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব ড. নাহিদ রশিদ, ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সৈয়দ বোরহান কবির প্রমুখ।

প্রদর্শনীতে দেখা যায়, এক হাজার কেজির বেশি ওজনের গরুও আছে মেলায়। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, উটপাখি, পাখি, কবুতর, কুকুর, বিড়াল, দুম্বা, ঘোড়া, খরগোশ, হাঁস-মুরগিসহ কয়েকশ প্রজাতির পশুপাখি মেলায় এসেছে। মাঠের বটতলার পাশে ছিল সচেতনতামূলক জারিগান ও নাটক।

প্রথম দিনে যে সাড়া মিলেছে, তাতে খুশি আয়োজকরা। সকাল থেকেই জমে ওঠে মেলা। শিশুদের ঘুরতে নিয়ে আসেন অভিভাবকরা। সন্ধ্যার পর পুরো মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। কংক্রিটের নগরীতে একসঙ্গে এত পশুপাখি আগে কখনও দেখেননি বলে জানান ফার্মগেটের বাসিন্দা নাসিমা আক্তার। তিনি তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে প্রদর্শনীতে ঘুরতে এসেছেন। পশুপাখির সঙ্গে খুনসুটি করে কেটেছে তাঁদের ঘণ্টা তিনেক।

বিডিএফএ সভাপতি ইমরান হোসেন জানান, প্রবেশমূল্য না থাকায় সকাল থেকেই দলে দলে দর্শনার্থীরা মেলায় এসেছেন। প্রথম দিন লাখো দর্শনার্থী হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের আগ্রহ ছিল বেশি। পুরো প্রাঙ্গণ খামারিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। খামারিদের ব্র্যান্ডিং ও নিজেদের মধ্যে পরিচিতিও যেন থাকে, সে জন্য এ মেলার আয়োজন। তিনি বলেন, উন্নত দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে আসা তরুণরা খামার করে এখন সফল। এমন সফল উদ্যোক্তাদের আমরা প্রদর্শনীতে মানুষের সামনে হাজির করেছি। যাতে তাঁদের দেখে অন্যরাও উৎসাহী হন।

মেলায় ঘুরতে আসা ধানমন্ডির বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, দেখতেই ভালো লাগছে, আমাদের দেশের উচ্চ শিক্ষিত তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে খামার করে কোটিপতি হয়েছেন। তাঁরা দামি গাড়ি হাঁকিয়ে মেলায় আসছেন। এমন উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে দেশের বেকারদের শেখার আছে।

বগুড়ার সূরা অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম। তিনি শোনান তাঁর সফলতার গল্প। বগুড়া শহরের কাছেই সদর উপজেলার বানদীঘি সোনারপাড়ায় বাবার জায়গায় আধুনিক খামার গড়েছেন তিনি। পরে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন ছোট ভাই শাহারিয়ার। দুই ভাই মিলে দেখভাল করেন খামার। এক ভাই যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল শহরের কেলে ইউনিভার্সিটিতে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে স্নাতক করেছেন। অন্যজন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে (সিএসই) স্নাতক।

বিলেত থেকে পড়ালেখা শেষ করে এসে গরুর খামার কেন? তাও কম্পিউটার প্রকৌশলী ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে? রাকিবুল ইসলামের সোজাসাপটা জবাব, 'বড় কিছু করার স্বপ্ন নিয়েই তো দেশে ফিরেছিলাম। ২০২০ সালের মার্চ থেকে করোনার ঘরবন্দি, একঘেয়ে জীবন শুরু হলো। এর মধ্যে বগুড়ার তৌহিদ পারভেজ ভাইয়ের খোঁজ পেলাম। নিউজিল্যান্ড থেকে পড়ালেখা করে এসে তিনি সফল খামারি হয়েছেন। তাঁর খামারে মাসখানেক কাজ করে গরু লালন-পালনের কৌশল শিখলাম। গরুকে খাওয়ানো, গোসল করানো থেকে শুরু করে সব হাতে-কলমে শিখেছি। এরপর নিজ গ্রামে খামারের শেড ও অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করি।'

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষিত তরুণরা পড়ালেখা শেষ করে গরুর খামার গড়েছেন, এটা নিশ্চয়ই একটা ভালো উদাহরণ। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে উদ্যোগী হলে বেকারত্ব দূর হবে, চাঙ্গা হবে দেশের অর্থনীতি।

মেলায় দর্শনার্থীদের সবচেয়ে মোহিত করে গরু-ছাগলের র‌্যাম্প শো। গতকাল সন্ধ্যার আগেই মাঠের মাঝখানে র?্যাম্প প্রস্তুত করা হয়। চারপাশ ঘিরে থাকেন দর্শক। জমকালো আলো, বাজছে মাইক। উচ্ছ্বসিত দর্শক হাততালি। ছোট ভুট্টি প্রজাতির গরু থেকে বিশালাকার মহিষ, রংবেরঙের 'পোশাকে' সাজানো গবাদি পশু নিয়ে দর্শকের সামনে দিয়ে হেঁটে যান খামারের সদস্যরা।

কেবল ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরে থেকেও বহু মানুষ হাজির হন প্রদর্শনীতে। আয়োজকদের দাবি, এটাই বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় আয়োজন।

দৈনিক বগুড়া

সর্বশেষ:

শিরোনাম:

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন
ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চিরতরে বন্ধ হবে: রেলমন্ত্রী
ঈদের ছুটিতে বগুড়ায় যমুনার পাড়ে বিনোদনপ্রেমীদের ঢল
১৪ কিলোমিটার আলপনা বিশ্বরেকর্ডের আশায়
বান্দরবানে পর্যটক ভ্রমণে দেয়া নির্দেশনা চারটি স্থগিত
তাপপ্রবাহ বাড়বে, পহেলা বৈশাখে তাপমাত্রা উঠতে পারে ৪০ ডিগ্রিতে
নেইমারের বাবার দেনা পরিশোধ করলেন আলভেজ
বো*মের মতো সিলিন্ডার বি*স্ফোরণ, করণীয় কী
আয়ারল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন
স্মার্টফোন থেকে ছবি মুছে গেলে উদ্ধার করবেন যেভাবে
বৈসাবি উৎসবের আমেজে ভাসছে ৩ পার্বত্য জেলা
জুমার দিনে যেসব কাজ ভুলেও করতে নেই