রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বগুড়ায় গাজর চাষে অল্প সময়ে ভালো ফলন এবং বেশি লাভ হচ্ছে

বগুড়ায় গাজর চাষে অল্প সময়ে ভালো ফলন এবং বেশি লাভ হচ্ছে

 

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর মোতাবেক, জেলা সদর, সোনাতলা, গাবতলী, সারিয়াকান্দি ও শিবগঞ্জ উপজেলায় গাজর চাষ করা হয়। এক বিঘা জমিতে গাজর চাষ করে ফলন উঠানো পর্যন্ত কৃষকের খরচ পড়ে ৩২-৩৪ হাজার টাকা। ফসল উঠানোর সময় কৃষক এক বিঘা জমির গাজর বিক্রি করতে পারে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। সেখানে চলতি বছর গাজর চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩০ হেক্টর জমিতে।

এক বিঘা জমি থেকে কৃষক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাভ করতে পারে। গাজরের বীজ বপন করার পর আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যে ফসল উঠানো যায়।

এদিকে,  অল্প সময়ে ভালো ফলন এবং বেশি লাভ হওয়ায় বগুড়ায় গাজর চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মাঝে। একারণে গত ৫ বছরে বগুড়ায় গাজর চাষ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এপর্যন্ত জেলায় ১১২ হেক্টর জমিতে গাজর চাষ করা হয়েছে। গত ৫ বছর আগে ২০১৬ সালে বগুড়ায় ৮৫ হেক্টর জমিতে গাজর চাষ করা হয়েছিল।

বগুড়া সদরের মানিকচক গ্রামের এক জানান, তিনি ২৬ শতক জমিতে এবারই প্রথম গাজরের চাষ করেছেন। গাজর চাষে পরিশ্রম কম। গ্রামের আরও বেশ কিছু কৃষক গত কয়েক বছরে গাজর চাষ করে লাভবান হয়েছেন। যে কারণে তিনিও লাভের আশায় জমিতে গাজরের বীজ বুনেছেন। যদি ফলন ভালো হয় এবং দাম ভালো পায় তাহলে আগামী বছর তিনি গাজর চাষে জমি বাড়াবেন।

একই গ্রামের আরেক কৃষক জানান, তিনি গত ৫ বছর যাবত গাজর চাষ করছেন। এবারও তিনি দেড় বিঘা জমিতে গাজর লাগিয়েছেন। তিনিই প্রথম ওই এলাকায় গাবতলী উপজেলার এক ব্যক্তির পরামর্শে গাজর চাষ করেন। তার দেখাদেখি গ্রামের অনেকেই এখন গাজর চাষ করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) শাহাদুজ্জামান জানান, অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত গাজর চাষের উপযুক্ত সময়। তিন মাস পর ফসল মাঠ থেকে উঠানোর উপযোগী হয়। এতে ফলন বেশি। তবে কেউ কেউ ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যেও ফসল উঠায়।

এ বছর লক্ষ্যমাত্রা আছে ১৩০ হেক্টর জমি। তবে আশা করা যাচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে গাজর চাষ হবে। যেহেতু সারা বছরই গাজরের ভালো বাজার থাকে।

দৈনিক বগুড়া

সর্বশেষ: