রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

শুরু হচ্ছে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের নির্মাণকাজ

শুরু হচ্ছে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের নির্মাণকাজ

বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ দুই জেলার মধ্যে রেলপথ সংযোগের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। আগামী মাসে শুরু হচ্ছে রেলপথের উভয় পাশের জমি অধিগ্রহণ। নকশা প্রণয়ন শেষ করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের জন্য ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণে গতকাল সকালে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রকল্পটির সার্বিক বিষয়ে এক বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, রেলসড়কটি নির্মাণ হলে ঢাকার সঙ্গে ১১২ কিলোমিটার পথ কমে যাওয়ার সঙ্গে সময় বেচে যাবে প্রায় ৪ ঘণ্টা। গতকাল সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন বগুড়া-৬ সদর আসনের এমপি রাগেবুল আহসান রিপু, জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম ফিরোজী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক, রেলকর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম ফিরোজী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, প্রকল্পটির নকশা প্রণয়ন শেষ করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ে প্রকেল্পর কাজ শুরু করা হবে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের জন্য ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রেলপথের ডুয়েল গেজের জন্য এসব জমি অধিগ্রহণ করা হবে। প্রথমে ডুয়েল গেজ লাইন এবং পরবর্তীতে ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচল করবে।

এ রেলপথে মোট ৯টি স্টেশন তৈরি করা হবে। এগুলো হলো- এম মনসুর আলী স্টেশন, রায়পুর স্টেশন, নলকা কৃঞ্চদিয়া স্টেশন, চান্দাইকোনা স্টেশন, রায়গঞ্জ স্টেশন, ছোনকা স্টেশন, শেরপুর স্টেশন, আড়িয়া বাজার স্টেশন ও রানিরহাট স্টেশন। এর মধ্যে মনসুর আলী স্টেশনে তিনটি জংশন তৈরি হবে। বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত আরও তিন কিলোমিটার রেলপথ তৈরি করায় ট্রেনগুলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু পার হয়ে সারা দেশের সঙ্গে চলাচল করবে। এসব স্টেশনের বাইরে বগুড়ার কাহালুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হবে রেলপথের।

বর্তমানে বগুড়া থেকে ট্রেনে সিরাজগঞ্জ যেতে সান্তাহার জংশন, নাটোর ও ঈশ্বরদী হয়ে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেশি পথ ঘুরতে হয়। নতুন রেলপথ নির্মাণ হলে দূরত্ব কমে যাবে প্রায় ১২২ কিলোমিটার। জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণের যেসব কার্যক্রম রয়েছে তা শুরু হয়েছে। এসব বিষয় নিয়েই মূলত প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

প্রকল্পটি শেষ হলে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও প্রসার হবে। সময়, খরচ ও দূরত্ব কমে গিয়ে কম সময়ের মধ্যে মানুষ যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে। বগুড়া-৬ সদর আসনের এমপি রাগেবুল আহসান রিপু জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি মতে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা হবে। বগুড়ার উন্নয়নে কোনো কমতি থাকবে না। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণে সব ধরনের কাজ করা হবে। এ কাজ শেষ হলে বগুড়ার উন্নয়ন দ্রুত হবে। প্রকল্প কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি)-এর যৌথ অর্থায়নে এ রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

২০২৬ সালে নির্মাণকাজ শেষ হবে। এ রেলপথ নির্মাণে প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও তা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলা অবস্থায় বাড়তে পারে। দুই জেলায় মোট ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া অংশে প্রায় ৫০০ একর ও সিরাজগঞ্জ অংশে ৪৬০ একর। জমি অধিগ্রহণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। নকশা তৈরির কাজও শেষ হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দুটি রেলপথ নির্মাণ করা হবে। বগুড়া রেললাইন থেকে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার এবং অন্যটি বগুড়ার কাহালু স্টেশন থেকে রানিরহাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার নির্মাণ করা হবে।

দৈনিক বগুড়া

সর্বশেষ: