শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

বগুড়ায় জমজমাট কোরবানির মাংসের হাট

বগুড়ায় জমজমাট কোরবানির মাংসের হাট

সংগৃহীত

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বগুড়া শহরে বসেছে কোরবানির মাংসের হাট। তবে পেশাদার কোনও মাংস ব্যবসায়ী এ হাট বসাননি। মৌসুমি কসাই, দিনমজুর, দুস্থ্, ভিখারি-গরিব, শিশু যারাই কিছু মাংস জোগাড় করতে পেরেছেন, তা নিয়েই বসে গেছেন বিক্রি করতে।

এসব হাটে মাংসের ক্রেতা হিসেবে ছিলেন শহরে বসবাসীকারী নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরা। রিকশাওয়ালা, টং-দোকানি, খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষ ও যারা কম বেতনে শহরে চাকরি করেন তারাই ছিলেন মূল ক্রেতা। এছাড়া খাবার হোটেল ব্যবসায়ীদেরও এই হাট থেকে মাংস কিনতে দেখা গেছে।সোমবার (১৭ জুন) ঈদের দিন শহরের সাতমাথা ও থানা মোড় এলাকায় এই দৃশ্য দেখা গেছে। মূলত বিকাল তিনটা থেকে এই হাটগুলো জমতে শুরু করে।

বেচাকেনা চলে সন্ধ্যা-রাত পর্যন্ত।মাংসের প্রকারভেদে দাম কেজিপ্রতি ৬৮০ থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত। ক্রেতাদের অভিযোগ আগের বছরগুলোতেও এ ধরনের মাংস সস্তায় কিনতে পারতেন তারা। এবার দালাল-ফড়িয়ার আধিপত্য থাকায় মাংসের দাম চলে গেছে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।মাংস বিক্রেতা হালিমা বেওয়া জানান, তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করে চলেন। কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেছেন প্রায় ৯ কেজি। একা মানুষ। এতো মাংস খাব কি করে তাই বিক্রি করতে আসছি ৷ যা টাকা পাবো তাতে আমার অন্য কিছু কিনে খেয়ে চলতে পারব। রইচ উদ্দিন নামে এক বিক্রেতা বলেন, 'আমাদের কাজ যারা বিভিন্ন বাড়ি থেকে কোরবানির গোশত সংগ্রহ করে আনে তাদের থেকে কিনে নেওয়া। কেনার পর আমরা আবার সেগুলো কিছু লাভের আশায় বিক্রি করে দিই।

এবার দাম গতবারের চেয়ে বেশি।' মাংস কিনতে আসা এক নারী জানান,  দিনমজুর আর পরিছন্নতাকর্মীর কাজ করে সংসার চলে। কোরবানি দেওয়ার সাধ্য নাই। তাই পরিবারের জন্য দু এক কেজি মাংস কিনেছি। তাও ৭০০ টাকা করে রেখেছে।আরেক ক্রেতা বলেন, ‘এই মাংসের স্বাদ বেশ ভালো। আমি প্রতি বছর কিনি। এখানে বিভিন্ন বাড়ির নানা ধরনের গরুর মাংস মিশ্রিত থাকে। তাই স্বাদে ভিন্নতা থাকে।’

সর্বশেষ: