• রোববার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১০ ১৪২৯

  • || ২৮ সফর ১৪৪৪

ইনডেমনিটি: খুনি মোশতাক-জিয়ার অভিশপ্ত ও বেআইনি আইন

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২২  

পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরতম আইনগুলোর মধ্যে একটি কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের পর খুনিদের যাতে বিচার করা না যায় এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা ছিল তাদের নাম যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্য ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে খুনি মোশতাক।

পরে ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে আইন হিসেবে অনুমোদন পায়। এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশে খুনি মোশতাকের স্বাক্ষর থাকলেও এই অধ্যাদেশ জারির পেছনে মূল ক্রীড়নক ছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৯ দিনের মাথায় সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহকে হটিয়ে নতুন সেনাপ্রধান বনে যাওয়া জিয়াউর রহমান। মূলত, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করে জিয়া প্রমাণ করেছে সে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রক্ষাকারী এবং এই হত্যার ষড়যন্ত্রের মূল কুশিলবদেরই একজন।

এতে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িত অথবা পরিকল্পনায় যুক্ত কারো বিরুদ্ধে কোন আদালতে মামলা করা যাবে না। এমন কি সুপ্রিমকোর্ট কিংবা কোর্টমার্শালেও তাদের বিচার করা যাবে না। অফিসে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পথও রুদ্ধ করা হয় অধ্যাদেশে।

বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত বিচারপ্রাপ্তির মৌলিক অধিকারটিকে খর্ব করে অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করে জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষায় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করেই ক্ষান্ত হননি জিয়াউর রহমান, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দুজনকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রদূত করাসহ বিভিন্ন দূতাবাসে নিয়োগ দেয়া হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় থাকাকালীন কালো আইন ইনডেমনিটি বাতিলে অস্বীকৃতি জানায় খালেদা জিয়া। স্বামীর মতো বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছিল খালেদাও।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া