রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

বিএনপির সমাবেশ

বাসের দেখা মিলছে না, ভোগান্তিতে কর্মজীবী মানুষেরা

বাসের দেখা মিলছে না, ভোগান্তিতে কর্মজীবী মানুষেরা

নয়াপল্টনে বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে হাতে গোনা কিছু গণ-পরিবহন চলছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষেরা। তারা অফিসের কাজে কিংবা প্রয়োজনীয় কাজের জন্য রাস্তায় বের হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু বাসের দেখা পাচ্ছেন না। গন্তব্যে পৌঁছাতে কেউ যাচ্ছেন রিকশা, মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজি করে। আবার কেউ কেউ যাচ্ছেন পায়ে হেঁটে হেঁটে।

রাজধানীর বেশকয়েকটি এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে এ চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর রাস্তা ফাঁকা। যাত্রীবাহী বাস চলাচল করছে খুবই কম। কিন্তু প্রতিটি স্টপেজে লাইনে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা। বাসের দেখা মিলছেই না। মাঝে মধ্যে দুই-একটি বাস আসছে তাও আবার স্টপেজে দাঁড়াচ্ছে না। বাসের মধ্যে যাত্রী দাঁড়ানোর জায়গা নেই।

রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়াটার থেকে মিরপুরে চলা পরিবহন আলিফ, আছিম, রবরব, রাজধানী পরিবহনগুলোর মধ্যে আলিফ ও আছিম পরিবহনের দু-একটি পরিবহন চলতে দেখা গেছে। মধ্যবাড্ডায় পৌনে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কোনো গাড়ি পাননি মিরপুরগামী যাত্রী সুজন হাওলাদার। জানতে চাইলে তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজকে আমার চাকরির ইন্টারভিউ রয়েছে। এ জন্য সকাল সোয়া ৯টায় এসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু মিরপুরে যাওয়ার জন্য কোনো বাসই পাচ্ছি না। যে কয়েকটি বাস দেখা মিলেছে, তাতে ওঠার মতো কোনো জায়গা ছিল না। আমার পকেটের অবস্থাও ভালো না, যে সিএনজি কিংবা বাইকে করে যাব।

রামপুরা থেকে আব্দুল্লাহপুরের যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন সালমা আক্তার। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সালমা বলেন, প্রতিদিন আকাশ এবং ভিক্টর পরিবহনসহ অনেক পরিবহন এই রাস্তায় চলাচল করে কিন্তু আজকে কেবল রাইদা পরিবহনে দুয়েকটি গাড়ি দেখতে পেয়েছি। কিন্তু গাড়িতে ঝুলে যাচ্ছেন অনেক মানুষ। আমি মেয়ে মানুষ, আমিতো পুরুষের মতো ঝুলে যেতে পারছি না। তাই আধা ঘণ্টা ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি।

দুই ঘণ্টায় সাভার পরিবহনে করে আমিন বাজার থেকে ধানমন্ডিতে আসা সাদেকুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার পায়ে সমস্যার কারণে সকাল সাড়ে ৭টায় আমিন বাজার এসে বাসের জন্য দাঁড়িয়েছি। এক ঘণ্টা পর সাড়ে ৮টার দিকে বাসে উঠেছি। গাবতলী পয়েন্টে চেকিং শেষে সকাল ১০টায় অফিসে পৌঁছেছি।

মধ্যবাড্ডা থেকে বারিধারা পায়ে হেঁটে অফিসে যান শাওন হাসান। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রতিদিন ৯টার দিকে অফিসের জন্য রওয়ানা দেই। আজকে সকাল ৮টার দিকে রওনা দিয়েছি। রাস্তায় বাসের দেখা না মেলায় রিকশায় আসতে চাইলাম। কিন্তু রিকশাওয়ালা ১২০ টাকা ভাড়া চেয়েছে তাই পায়ে হেঁটে অফিসে আসলাম।

তারমতোই বনশ্রী থেকে পায়ে হেঁটে গিয়ে অফিস করেন আলমগীর হোসেন। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাস না পেয়ে দুই ঘণ্টা হেঁটে অফিসে আসলাম।

আমিন বাজার পুলিশ পয়েন্ট থেকে পায়ে হেঁটে শত শত মানুষ অফিসে যাচ্ছেন। গাবতলীতে আসা শিপন মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাসের প্রতিটি যাত্রীকে পুলিশ তল্লাশি করে তারপর বাস ছাড়ছেন। ফলে অফিসে আসতে দেরি হচ্ছে এ কারণে পায়ে হেটেই অফিসে আসছি।

দৈনিক বগুড়া

সর্বশেষ: