• শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৪ ১৪২৭

  • || ০১ সফর ১৪৪২

৯৫

যে কারণে নবীজির (সা.) উম্মতের তালিকা থেকে মুছে যাবে নাম

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২০  

আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) । তিনিই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ নবী। আমরা তার উম্মত। আর উম্মতে মুহাম্মাদীর অনুসারী ও দাবিদার হিসেবে আমাদের ওপর নবী করিম (সা.) এর কিছু অধিকার রয়েছে। যেগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন ছাড়া একজন মানুষ প্রকৃত মুসলমান বা নবীর (সা.) উম্মতের দাবিদার হতে পারে না।  

মহানবী (সা.) এর উম্মতের সংখ্যা অতীতের সব নবীর চেয়ে বেশি। তবে বিশেষ কিছু মানুষ রয়েছে, যারা মুসলমান হলেও নবীজি (সা.) তাদের ব্যাপারে বলেছেন যে এরা আমার উম্মত নয়। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুলাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার সুন্নতের প্রতি বিমুখ, সে আমার উম্মতভুক্ত নয়। ( বুখারি, হাদিস: ৪৭৭৬)।  

এখানে দু’টি বিষয়। একটি হলো যে ব্যক্তি সুন্নাহের ওপর আমল করতে পারে না, তবে নিজেকে এ জন্য অপরাধী মনে করে। ফলে সে মনে মনে লজ্জিত থাকে। আলোচ্য হাদিসে এমন ব্যক্তির কথা বলা হয়নি।

বরং যারা নবীজির (সা.) সুন্নাহ দেখতে পারে না এবং সুন্নাহের নাম শুনলে, সুন্নতি কাজ দেখলে সে খুব বাজেভাবে প্রতিক্রিয়া করে। আলোচ্য হাদিসের অভিশাপ সেসব মানুষের জন্য প্রযোজ্য।

যে বড়দের সম্মান করে না:

উবাদা ইবন সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সে আমার উম্মতভুক্ত নয়, যে আমাদের বড়দের সম্মান করে না এবং আমাদের ছোটকে স্নেহ করে না, আর আমাদের আলেমের অধিকার বিষয়ে সচেষ্ট নয়।’ (মাজমাউজ জাওয়াইদ: ৮/১৪)।

যে ব্যক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে ভাগ্যের ভালো-মন্দ যাচাই করে:

ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি পাখি উড়িয়ে ভাগ্যের ভালো-মন্দ যাচাই করল, ভাগ্য গণনা করল, জাদু করল,   কোনো গণকের কাছে এলো, অতঃপর সে (গণক) যা বলল তা বিশ্বাস করল সে ব্যক্তি মুহাম্মদ (সা.) এর ওপর যা নাজিল করা হয়েছে তা অস্বীকার করল। (মাজমাউজ জাওয়াইদ : ৫/১২০)।

যে ব্যক্তি অমুসলিমদের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে:

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি অমুসলিমদের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সঙ্গে সাদৃশ্য অবলম্বন কোরো না। কেননা ইহুদিদের অভিবাদন হলো আঙুল দ্বারা ইশারা করা আর খ্রিস্টানদের অভিবাদন হলো হাতের তালু দিয়ে ইশারা করা।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৩৮)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যেসব নারী পুরুষের সঙ্গে সাদৃশ্য অবলম্বন করে এবং যেসব পুরুষ নারীর সাদৃশ্য অবলম্বন করে। তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (মুসনাদে আহমদ,  হাদিস: ৬৫৮০)। 

যে ব্যক্তি প্রতারণা করে:

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, একদিন স্তূপ করে রাখা খাদ্যশস্যের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্তূপের ভেতর হাত প্রবেশ করালে আঙ্গুলগুলো ভিজে গেল। স্তূপের মালিককে জিজ্ঞাসা করলেন, ব্যাপার কি? মালিক জবাব দিল, হে, আল্লাহর রাসূল! বৃষ্টির পানিতে তা ভিজে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তবে তা ওপরে রাখলে না কেন, যেন মানুষ তা দেখতে পায়? যে ব্যক্তি প্রতারণা করে সে আমার দলভুক্ত নয়। (মুসলিম শরিফে হাদিস: ১০১)। 

যে ব্যক্তি মুসলমানের বিপক্ষে অস্ত্র ধারণ করে:

রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ওই ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়। যে আমার ওপর অর্থাৎ মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তোলে। আর যে  আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে,  সেও আমাদের দলভুক্ত নয়।  (মুসলিম শরিফ হাদিস: ১০২)।  

মৃত্যুর শোক প্রকাশ যে নারী বিলাপ করে কাঁদে: 

রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, মৃত্যুশোক প্রকাশে যে নারী মাথা মুড়িয়ে বিলাপ করে কাঁদে এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলে সে আমাদের মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত নয়।  (আবু দাউদ হাদিস: ৩১৩০)। 

অন্য হাদিসে এসেছে, যারা মৃত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশে গালে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে বা জাহিলি যুগের মতো চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। ( বুখারি, হাদিস: ১২৯৭)। 

সুতরাং মৃত্যুবরণ করার সংবাদ আসা মাত্র,  ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন  (إِنَّا لِلَّٰهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ‎‎‎)  পড়বে এবং ধৈর্য ধারন করবে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের উপর ছবরের পা বন্দি করবে। 

যে ব্যক্তি কারো স্ত্রীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে প্ররোচিত করে:
 
আবু হুরায়রা (রা.)  থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কারো স্ত্রীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে অথবা দাসকে তার মনিবের বিরুদ্ধে প্ররোচিত করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।  (আবু দাউদ, হাদিস: ২১৭৫)।  

যে ব্যক্তি ছিনতাই করে তার ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে:
 
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলপাক (সা.) বলেছেন,  যে ব্যক্তি অন্যের সম্পদ ছিনতাই করে,  সে আমাদের দলভুক্ত নয়।  (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৩৪০)।

যে ব্যক্তি সুন্দর স্বরে কোরআন পাঠ করে না: 

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দর স্বরে কোরআন পাঠ করে না,  সে আমাদের দলভুক্ত নয়।  ( বুখারি, হাদিস: ৭০১৯)। 

অথচ আমাদের মধ্যে এমন মানুষও আছে, যারা সুন্দর করে কোরআন তেলাওয়াত করা তো দূরের কথা বরং তেলাওয়াত করতে পারে না কিংবা পারলেও বিশুদ্ধভাবে করতে পারে না।  আর এভাবেই কবরে চলে যাচ্ছে!  

যে ব্যক্তি সাম্প্রদায়িকতার প্রতি মানুষকে প্ররোচিত করে: 

জুবাইর ইবনে মুতইম থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আসাবিয়াতের তথা (সাম্প্রদায়িকতা, জাতীয়তাবাদ, গোত্রবাদ) দিকে ডাকে বা আসাবিয়াতের কারণে লড়াই-যুদ্ধ করে কিংবা আসাবিয়াতের ওপর মৃত্যুবরণ করে,  সে আমার দলভুক্ত নয়। ( আবু দাউদ হাদিস: ৫১২১)।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া
ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর