• বুধবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৮

  • || ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

কৃমি দূর করার ঘরোয়া উপায়

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১  

কৃমি হচ্ছে একরকমের পরজীবী প্রাণী, যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দেহে বাস করে সেখান থেকে খাবার গ্রহণ করে বেঁচে থাকে।
 
লক্ষণ: কৃমি হলে কিছু কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন-বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, পেট মোটা বা ভারি হওয়া, খাবারে অরুচি, মুখে থুথু ওঠা এবং কোনো কোনো কৃমিতে পায়খানার রাস্তার পাশে চুলকানি হতে পারে। কৃমি হলে সাধারণত অপুষ্টি দেখা দেয়। রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। হুক ওয়ার্মের একমাত্র খাদ্য হচ্ছে আক্রান্ত রোগীর রক্ত। অনেক সময় বক্র কৃমির এক মুখ শিশুদের এপেনডিক্সের মধ্যে প্রবেশ করে।ফলে এপেনডিসাইটিসের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। শিশুর নাক, মুখ দিয়েও কৃমি পড়তে পারে। পেটে কৃমির আধিক্যে অন্ত্রনালীর পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া অন্ত্র ফুটো করে মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। তাই উপরোক্ত উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
 
কৃমির কীভাবে ছড়ায়: কৃমির ডিম খাবার, পানি, বাতাস, মল, বিড়াল ও গৃহপালিত পশুর শরীর, বাথরুমের কমোড, দরজা ও হাতলে মিশে থাকে। কৃমির ডিম সেখান থেকে মুখ, নাক ও পায়ুপথ দিয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। শরীরে প্রবেশ করার পর অন্ত্রে এরা বংশবিস্তার করে সেখান থেকে কখনও কখনও শরীরের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।
 
কৃমির ক্ষতিকর প্রভাব: কৃমি মানুষের শরীরে নানা ধরনের বিরূপ প্রভাব ফেলে।
 
এর মধ্যে রয়েছে—
> পেটে ব্যথা
> বমি
> শরীর দুর্বল লাগা
> ডায়রিয়া
> রক্তশূন্যতা
> ওজন কমে যাওয়া।
 
জেনে নিন কৃমি দূর করার ঘরোয়া সমাধান
নানা কারণে হতে পারে পেটে ব্যথা। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো পেটে কৃমি থাকা। অনেকে ওষুধ খেয়ে কৃমি দূর করেন। তবে ওষুধ ছাড়াও ঘরোয়া উপায় মেনে দূর করা যায় এই সমস্যা। তাতে কৃমির পাশাপাশি দূর হবে পেটে ব্যথাও। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক কৃমি হলে কী করবেন-
 
মধু ও কাঁচা পেঁপেতে মিলবে সমাধান
মধু কিংবা কাঁচা পেঁপের উপকারিতার কথা সবারই জানা। এই দুই খাবার একসঙ্গে খেলে তা কৃমি দূর করবে দ্রুতই। সেজন্য একগ্লাস হালকা গরম দুধের সঙ্গে এক চা চামচ মধু ও এক চা চামচ কাঁচা পেঁপে কুড়ানো মিশিয়ে সকালবেলা খালিপেটে খেতে হবে। এভাবে সপ্তাহখানেক খেলেই উপকার মিলতে শুরু করবে।
 
লবঙ্গ খান
আমাদের পেটে ব্যথার অন্যতম কারণ হতে পারে অন্ত্রে থাকা কৃমি ও প্যারাসাইট। ঘরোয়া উপায়ে এর সমাধান করতে চাইলে এককাপ পানিতে তিন-চারটি লবঙ্গ ফুটিয়ে সেই পানীয় সারাদিন অল্প অল্প করে পান করতে থাকুন। লবঙ্গ কৃমি নষ্ট করার পাশাপাশি কৃমির ডিমও নষ্ট করে। এর ফলে পেটে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়। 
 
কাঁচা হলুদ খাবেন যে কারণে
কাঁচা হলুদ শুধু রূপচর্চার কাজেই লাগে না, বরং আপনার পেট থেকে কৃমি তাড়াতেও সমান কার্যকরী। প্রতিদিন সকালে উঠে এক টুকরো কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খেতে পারেন। দাঁত হলদে হয়ে যাওয়ার ভয় করছেন? দাঁত ভালোভাবে মেজে নিলেই আর সমস্যা হবে না। কাঁচা হলুদ জীবানু নাশক ও প্রদাহ নিবারক। এটি হজমশক্তি ভালো করতেও কাজ করবে।
 
উপকারী কুমড়োর বীজ
বাড়িতে কুমড়ো রান্না হলে তার বীজগুলো ফেলে দেন? এই উপকারিতাগুলো জানার পর থেকে আর ফেলবেন না! নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দূর করার জন্য কাজে লাগে কুমড়োর বীজ। এটি আপনাকে কৃমির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেও সাহায্য করবে। কুমড়োর বীজে রয়েছে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান যেগুলো কৃমি ও প্যারাসাইট মেরে ফেলতে কার্যকরী। সেজন্য প্রথমে সম পরিমাণ নারিকেলের দুধ ও পানি মিশিয়ে তাতে এক চা চামচ ভেজে গুঁড়া করে নেওয়া কুমড়োর বীজ মিশিয়ে নিন। পানীয়টি সকালে উঠে খালি পেটে পান করুন। এভাবে সপ্তাহখানেক ধরে খেলে কৃমি দূর হবেই।
 
নিমপাতা খান
রোগ-জীবাণু দূর করতে নিমপাতা কার্যকরী একথা সবারই জানা। এটি কৃমি দূর করতেও সমান কার্যকরী। বেশি করে নিমপাতা বেটে এয়ার টাইট বক্সে করে ফ্রিজে রেখে দিন। এরপর প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে আধা চা চামচ নিমপাতা বাটা মিশিয়ে খালি পেটে পান করুন। খেতে একদমই ভালোলাগবে না, কিন্তু কৃমির কারণে কষ্ট পেতেও নিশ্চয়ই ভালোলাগে না? এভাবে নিয়মিত পান করলে কৃমির সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন দ্রুতই।
দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া