শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১

অসময়ে চুল পেকেছে

অসময়ে চুল পেকেছে

বয়স হলে চুল পাকবে, এটাই স্বাভাবিক। অসময়ে চুল পাকবে, এটা মোটেই স্বাভাবিক নয়। কিন্তু এ ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। আমাদের ত্বকে মেলানোসাইট নামে একধরনের কোষ থাকে, যা মেলানিন উৎপাদন করে।

যাঁদের ত্বকে কম মেলানিন উৎপন্ন হয়, তাঁদের গায়ের রং সাদা হয়। যাঁদের ত্বকে মেলানিন বেশি উৎপাদন হয়, তাঁদের গায়ের রং কালো হয়। চুলের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। যদি কোনো কারণে চুলের গোড়ার মেলানোসাইট কোষ নিষ্ক্রিয় হয়ে মেলানিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, তবে চুলের রং সাদা হয়, যাকে আমরা চুল পাকা বলি। এটি যেকোনো বয়সেই ঘটতে পারে।

অকালে চুল পাকার কারণ

  • বংশগত কারণটি উল্লেখযোগ্য। পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের অকালে চুল পাকার ইতিহাস থাকলে এমন হতে পারে।
  • হরমোনের সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে। রক্তে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ বেড়ে গেলে বা হাইপার-থাইরয়েডিজম হলে কিংবা রক্তে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কমে হাইপো-থাইরয়েডিজম হলে অকালে চুল পাকতে পারে।
  • আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবার কিছু না কিছু দুশ্চিন্তা আছে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ঘুম কম হওয়া ইত্যাদি হতে পারে অকালে চুল পাকার কারণ।
  • কয়েকটি রোগের কারণে কম বয়সে চুল পেকে যেতে পারে। যেমন ভিটিলিগোর কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশ সাদা হয়ে যেতে পারে।
  • ভিটামিনের ঘাটতিও অকালে চুল পাকার কারণ হতে পারে। ভিটামিন১২, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই-এর অভাবে অকালে চুল পেকে যেতে পারে।
  • কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানের কারণেও চুল পাকতে পারে।
  • অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া, অতিমাত্রায় কোমল পানীয় পান, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বেশি থাকলে চুল অকালে পাকতে পারে।
  • চুলে অতিমাত্রায় ডাই ও রং ব্যবহার করলে অকালে চুল পাকতে পারে। এ জন্য চুলে রাসায়নিক ব্যবহার করলে ভেবেচিন্তে করা উচিত।

প্রতিরোধের উপায়

  • যদি বংশগত কারণে চুল পেকে থাকে, তবে তা প্রতিরোধ করা যাবে না।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন খেতে পারেন, যেগুলো আপনার চুলের জন্য উপকারী।
  • মানসিক অবসাদ বা দুশ্চিন্তা থেকে যত দূর পারা যায় দূরে থাকুন।
  • দিনে অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।
  • হরমোনের সমস্যা আছে কি না, নির্ণয়ের জন্য হরমোন বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে পারেন।
  • চুল পাকা রোধে কারও কাছে শুনে বা নিজের ইচ্ছেমতো কোনো ওষুধ খাবেন না। তাতে উল্টো শরীরের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাবে।

লেখক: ডায়াবেটিস ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ, ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

দৈনিক বগুড়া

সর্বশেষ: