সংগৃহীত
পেশাদার ফুটবলে প্রায় দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন সার্জিও ‘চিকুইতো’ রোমেরো। ৩৯ বছর বয়সে অবসরের ঘোষণা দিলেন আর্জেন্টিনা ও ম্যানইউর সাবেক তারকা। কোচ হিসেবে নতুন অধ্যায়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন তিনি।
আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমের খবর, রোমেরো ইতোমধ্যে তার কোচিং স্টাফদের গুছিয়ে ফেলেছেন এবং ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব পুরোপুরি নিতে প্রস্তুত। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ তিনি খেলেছেন গত ডিসেম্বরে, কোপা আর্জেন্টিনায় আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের সঙ্গে।
তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে রোমেরোর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলকিপার হিসেবে অবসর নিলেন তিনি। এই কিপার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ৯৬টি। জাতীয় দলের পোশাকে ৪৭ ম্যাচ জাল অক্ষত রেখেছিলেন। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার বীরোচিত পারফরম্যান্স কখনো ভোলার নয়। শুটআউটে দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে তিনি জাতীয় বীরে পরিণত হয়েছিলেন। ২৪ বছরে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
পরে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালেও খেলেন রোমেরো। বিশ্বকাপের মতো এই দুটি টুর্নামেন্টেও রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। ২০১৮ বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হাঁটুর ইনজুরিতে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান।
তার আন্তর্জাতিক সাফল্য শুরু হয়েছিল আরও আগে। আর্জেন্টিনার হয়ে কানাডায় ২০০৭ অনূর্ধ্ব-২০ ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকেও সোনার পদক গলায় ঝুলান।
রেসিং ক্লাব থেকে বের হয়ে রোমেরোর ইউরোপিয়ান ফুটবলে যাত্রা শুরু হয়। নেদারল্যান্ডসে এজেড আল্কমারের হয়ে দারুণ সময় কাটান। পরে সাম্পদোরিয়া, মোনাকো হয়ে ম্যানইউতে পা রাখেন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইউরোপের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ গোলকিপার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০১৭ সালে ইউনাইটেডের উয়েফা ইউরোপা লিগ জয়ে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ম্যানইউতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬১ ম্যাচে ৩৯টিতেই ক্লিনশিট ধরে রেখেছিলেন রোমেরো। ক্লাবটির হয়ে ইউরোপা লিগ ছাড়াও এফএ কাপ, লিগ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড জেতেন তিনি। ইতালিয়ান ক্লাব ভেনেজিয়াতে এক মৌসুম খেলে ইউরোপ অভিযান শেষ করেন রোমেরো।
পরে বোকা জুনিয়র্সে তিন মৌসুম এবং আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে মাত্র ২ ম্যাচ খেলে রোমেরো তার ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিলেন।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

















.webp)
.webp)

