শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

মবোক্রেসির প্রভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়ে উঠছে

মবোক্রেসির প্রভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়ে উঠছে

সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে অনেকগুলো সমস্যার মধ্যে একটি অন্যতম সমস্যা হিসেবে মবোক্রেসির বিষয়টি মোটেই এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। এ বিষয়টি অনেকের মনেই এক ধরনের আতঙ্ক, উদ্বেগ ও সামাজিক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।

মবোক্রেসি শব্দটি নতুন হলেও এর সামাজিক বাস্তবতা মোটেও নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এর বিস্তার, স্বাভাবিকীকরণ এবং জনমনে এর গভীর মনস্তাত্ত্বিক অভিঘাত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একে নিছক বিচ্ছিন্ন সহিংসতা বলে উড়িয়ে দেওয়ার আর সুযোগ নেই। এটি এখন একটি সামাজিক ব্যাধি, রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয় এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।

মবের ভীতি বা শঙ্কা বাংলাদেশের প্রতিটি স্তরের নাগরিকদের আক্রান্ত করেছে। এখনো আমরা সেই আক্রান্ত পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসতে পারিনি। শঙ্কা এবং ভীতির পরিস্থিতি প্রতিটি সময়ে আমাদের মনকে নাড়া দিচ্ছে। এ বিষয়টি অনুধাবন করতে আমি একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে লেখাটির ভেতরে প্রবেশ করতে চাই।

২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে কৌতূহলবশত আমি একজন সহকর্মীকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি ইদানীং কেন ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে আসেন না? উত্তরে তিনি জানালেন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর যেকোনো সময় ক্যাম্পাসে মব হতে পারে। এতে পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে খারাপ হলে গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটতে পারে!

এমন শঙ্কায় তিনি ব্যক্তিগত গাড়ি এড়িয়ে চলছিলেন বলে আমাকে জানালেন। এমনকি এ বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের প্রতিটি সদস্য উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠায় থাকেন। তার শিশু সন্তানও শঙ্কা নিয়ে বাসায় অপেক্ষায় করে। অথচ আমাদের এই ক্যাম্পাসে  কেমালমতি শিক্ষার্থীরাই পড়াশোনা করে।

প্রকৃত শিক্ষার্থীরা কি গাড়ি ভাংচুর করতে পারে? আমার এখনো বিশ্বাস হয় না। তারপরও বিশ্বাস করতে হয়। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের বদৌলতে অসংখ্য মবের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। আর সেগুলো হয়েছে কিছু উগ্র এবং মূল্যবোধ বিবর্জিত অপরাধীদের দ্বারা।

আমরা লক্ষ করেছি অভ্যুত্থানের পরপরই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের দোসর তকমা দিয়ে শিক্ষক লাঞ্ছনা কিংবা চাঁদাবাজি নিত্যকার বিষয় হয়ে উঠেছিল। এসব কারণে শিক্ষকদের মধ্যেও এক ধরনের শঙ্কা কাজ করে প্রতিটি মুহূর্তে। তারা স্বাধীনভাবে পাঠদান করতেও শতভাগ আত্মবিশ্বাসী থাকতে পারছেন না।

মবোক্রেসি বলতে আমরা এমন এক পরিস্থিতিকে বুঝি, যেখানে কোনো ঘটনা, গুজব, অভিযোগ, মতভেদ কিংবা রাজনৈতিক-সামাজিক ক্ষোভের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জনতা নিজেরাই বিচারক, সাক্ষী, আদালত ও শাস্তিদাতা হয়ে ওঠে। অভিযোগ সত্য কি না, প্রমাণ আছে কি না, আইন কী বলে-এসব প্রশ্ন সেখানে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়। মুহূর্তের আবেগ, সংখ্যার জোর এবং তাৎক্ষণিক ক্ষোভই হয়ে ওঠে ‘ন্যায়বিচারের’ বিকল্প ভাষা।

বাংলাদেশে বিগত কয়েক বছরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্যে এই প্রবণতা ভয়ংকরভাবে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। এমন এক মানসিকতা তৈরি হয়েছিল যেন-‘কিছু ভালো লাগল না, মব করে দিলাম।’

কোনো ব্যক্তি সন্দেহভাজন, কোনো মত অপছন্দনীয়, কোনো গুজব ধর্মীয় আবেগকে উসকে দিলো, কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি এডিট করা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ল-এরপরই কয়েক মিনিটের মধ্যে মানুষ জড়ো হচ্ছে, স্লোগান উঠছে, ফোনের ক্যামেরা চালু হচ্ছে, আর শুরু হয়ে যাচ্ছে তাৎক্ষণিক ‘শাস্তি’। এই প্রবণতা শুধু আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতার লক্ষণ নয়; এটি রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতার জন্যও হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলো নাগরিককে এই বিশ্বাস দেওয়া যে বিচার আদালতে হবে, রাস্তায় নয়। কিন্তু যখন মানুষ সেই বিশ্বাস হারায়, তখন তারা আইনের শাসনের জায়গায় জনতার শাসনকে দাঁড় করায়। আর সেখানেই গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে।

আধুনিক অপরাধবিদ্যা আরও বলছে, মব বাড়ার পেছনে থাকে তিনটি প্রধান কারণ। সেগুলো হলো-বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা, ডিজিটাল গুজবের দ্রুত বিস্তার এবং রাজনৈতিক নীরবতা বা পরোক্ষ প্রশ্রয়।

মবের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রভাবগুলোর একটি প্রভাব দৃশ্যমান হয় না। এটি মানুষের মনে জন্ম নেয়। একটি শিশু যখন দেখে বাজারের মোড়ে শত মানুষ কাউকে ঘিরে রেখেছে, চিৎকার করছে, কেউ অভিযোগ করছে, আর কিছু না বুঝেই মারধর শুরু হয়ে যাচ্ছে, তখন তার মনে একটি নতুন সামাজিক শিক্ষা তৈরি হয়।

সে শেখে, মানুষ হঠাৎ ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে; আইন নয়, শক্তিই শেষ কথা; সংখ্যাগরিষ্ঠ মানেই সত্য। এই শেখা নিছক একটি মুহূর্তের অভিজ্ঞতা নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদে তার নাগরিক চেতনা, নৈতিক বোধ এবং সামাজিক আস্থাকে প্রভাবিত করে।

ধরা যাক, একটি শিশু তার বাবার হাত ধরে বাজারে যাচ্ছে। হঠাৎ দেখে শত মানুষ একজনকে ঘিরে চিৎকার করছে। কেউ বলছে চোর, কেউ বলছে ধর্ম অবমাননা করেছে, কেউ বলছে ছেলেধরা, কেউ বলছে দোসর, কেউ বলছে ফ্যাসিস্ট। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মারধর শুরু।

শিশুটি বাড়ি ফিরে সেদিন হয়তো কিছু বলে না। কিন্তু তার মনের ভেতরে একটি নতুন শিক্ষা জন্ম নেয় ‘মানুষ হঠাৎ ভয়ংকর হয়ে যেতে পারে।’ এই শেখাটাই দীর্ঘমেয়াদে সমাজের জন্য ভয়ংকর।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, এ ধরনের সহিংসতা প্রত্যক্ষ করা শিশু ও কিশোরদের মধ্যে পরোক্ষ মানসিক আঘাত (vicarious trauma) তৈরি করে। তারা নিজে আক্রান্ত না হলেও, সহিংসতার স্মৃতি তাদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ভয়, উদ্বেগ ও অবিশ্বাসের বীজ বপন করে। এর ফল হয় আরও গভীর এবং সুদূরপ্রসারী।

তারা ধীরে ধীরে বিশ্বাস করতে শেখে যে ন্যায়বিচার মানে প্রমাণ নয়, বরং সংখ্যার জোর। ভবিষ্যতে তারাও ভিন্নমতকে ভয় পায়, নীরবতা বেছে নেয়, অথবা বিপরীতভাবে একই সহিংসতার অনুকরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে একটি সমাজের ভবিষ্যৎ নাগরিক চরিত্র ক্ষয়ে যেতে থাকে।

ইতিহাস আমাদের বলে, মবের ক্ষত কখনোই তাৎক্ষণিক নয়; এটি প্রজন্ম পেরিয়ে বেঁচে থাকে। আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলে একসময় বর্ণবাদীদের বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মধ্যে শুধু তাৎক্ষণিক প্রাণহানি ঘটায়নি, বরং বহু প্রজন্ম ধরে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ভয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবিশ্বাস, অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা এবং সামাজিক আতঙ্ক তৈরি করেছে। সেই ভয়ের সম্মিলিত স্মৃতি আজও অনেক সম্প্রদায়ের মধ্যে টিকে আছে।

নাইজেরিয়ায় মব জাস্টিস এতটাই স্বাভাবিকীকৃত হয়েছে যে গবেষকরা একে ‘বিচারব্যবস্থার বিকল্প’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর ফলে আদালত ও পুলিশের প্রতি আস্থা ক্ষয়ে গিয়ে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

কেনিয়ার কিছু এলাকায় শিশুরা ছোটবেলা থেকেই শুনে বড় হচ্ছে-চুরি করলে জনতা পেটাবে। অর্থাৎ সহিংসতার বিষয়টি সাংস্কৃতিক বৈধতা পাচ্ছে। একটি সমাজের জন্য এর চেয়ে বড় বিপদ আর কী হতে পারে?

বাংলাদেশের জন্য এই ঘটনাগুলো সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। যদি আজ আমরা মবকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাই, তাহলে কাল এটি আমাদের সামাজিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে যাবে। তখন গুজব, ভুল বোঝাবুঝি, রাজনৈতিক অপছন্দ কিংবা ধর্মীয় উত্তেজনা-সবকিছুই তাৎক্ষণিক জনরোষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

মবের আরেকটি গভীর প্রভাব অর্থনীতিতে। একটি দেশে যদি যেকোনো গুজব, শ্রম অসন্তোষ, ধর্মীয় ভুল বোঝাবুঝি বা রাজনৈতিক উত্তেজনায় মুহূর্তে জনতা সহিংস হয়ে উঠতে পারে, তাহলে বিনিয়োগকারীরা সেই দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে। বিদেশি বিনিয়োগ কমে, পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা ব্যয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে, উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া এবং আবেদন হারালে অর্থনীতির ওপর অনিশ্চয়তার অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। কাজেই মব শুধু মানুষকে আঘাত করেই শেষ হয় না; এটি অদৃশ্যভাবে অনেক কিছুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সমাজ মনোবিজ্ঞানী গুস্তাভ লা বোঁ বহু আগেই দেখিয়েছিলেন, মবের মধ্যে ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত নৈতিক সত্তা হারিয়ে ফেলে। সে ভিড়ে সংক্রমণের অংশ হয়ে যায়। আধুনিক অপরাধবিদ্যা আরও বলছে, মব বাড়ার পেছনে থাকে তিনটি প্রধান কারণ। সেগুলো হলো-বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা, ডিজিটাল গুজবের দ্রুত বিস্তার এবং রাজনৈতিক নীরবতা বা পরোক্ষ প্রশ্রয়।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই তিনটি উপাদানই বিভিন্ন মাত্রায় উপস্থিত। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে একটি গুজব, একটি এডিট করা ভিডিও বা উদ্দেশ্যমূলক অপতথ্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজারো মানুষকে উত্তেজিত করতে পারে।

ধরা যাক, একটি ছোট শহরের বাজারে একজন দোকানদারকে চুরির সন্দেহ করা হলো। কেউ একজন ফেসবুকে লিখল, ‘এই লোকটাই চোর।’

কয়েক মিনিটের মধ্যে ৫০ জন মানুষ জড়ো হলো। কেউ যাচাই করল না, পুলিশ ডাকল না; বরং ‘শাস্তি’ দেওয়ার নামে শুরু হলো মারধর। পরে জানা গেল, ঘটনাটি ছিল ভুল বোঝাবুঝি। এই গল্প কাল্পনিক হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় এমন অসংখ্য ঘটনার প্রতিধ্বনি আছে।

আজ যদি শিশুরা দেখে যে সত্য যাচাইয়ের আগেই শাস্তি হয়ে যায়, তাহলে তারা বড় হয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, বরং শক্তির প্রতি অনুগত নাগরিক হবে। তখন গণতন্ত্রের জায়গায় জন্ম নেবে ভয়ভিত্তিক নাগরিকত্ব।

যুবসমাজের ওপর এক জরিপে দেখা গেছে, ৭১ শতাংশের বেশি তরুণ মনে করে মব জাস্টিস এখন দৈনন্দিন সামাজিক বাস্তবতার অংশ হয়ে যাচ্ছে (ডেইলি স্টার, ৭ জুলাই ২০২৫)। এভাবেই সমাজ ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচারের বদলে তাৎক্ষণিক প্রতিশোধকে গ্রহণ করতে শেখে।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কাছে তাই সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা- মবের সংস্কৃতিকে ‘জিরো টলারেন্স’- এর আওতায় আনা। এ জন্য কেবল আইন প্রয়োগ করেই নয়, আমাদের গোটা সমাজকে মানসিকভাবে সেই ধরনের প্রস্তুতি গড়ে তুলতে হবে। সব স্তরের মানুষকে বিশ্বাস করাতে হবে যে দেশ এবং দেশের মানুষ আইন ও বিচার সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে ধাবিত হবে।

কোনো গোষ্ঠীর রায়ে নয়। কোনো শক্তির রায়ে নয়। কোনো চাপে নয়। কোনো নেতিবাচক প্রভাবে নয়। রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবার-সব ক্ষেত্রেই এই বার্তাটি একযোগে পৌঁছাতে হবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

কারণ মব একবার সামাজিক বৈধতা পেয়ে গেলে তা দ্রুত অনুকরণীয় আচরণে পরিণত হয়। একটি এলাকায় যা ঘটে, অন্য এলাকায় সেটি পুনরাবৃত্তি হতে থাকে। এ যেন আচরণগত সংক্রমণ। বলা যেতে পারে, এটি এক ধরনের সামাজিক ব্যাধি বা সামাজিক ভাইরাস। সময়মতো প্রতিরোধ না করা গেলে এটি সমাজের নৈতিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকেই ধ্বংস করে দিতে পারে।

বর্তমান বাস্তবতায় আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে যে, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেমন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছি। আজ যদি শিশুরা দেখে যে সত্য যাচাইয়ের আগেই শাস্তি হয়ে যায়, তাহলে তারা বড় হয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, বরং শক্তির প্রতি অনুগত নাগরিক হবে। তখন গণতন্ত্রের জায়গায় জন্ম নেবে ভয়ভিত্তিক নাগরিকত্ব।

রাষ্ট্রের জন্য এর চেয়ে বড় সংকট আর নেই। কারণ রাষ্ট্র একবার আদালত ছেড়ে রাস্তায় নেমে এলে, সেখানে আর নাগরিক থাকে না- থাকে শুধু ভয় পাওয়া মানুষ, নীরব মানুষ এবং একদিন হয়তো সেই একই মবের সম্ভাব্য শিকার।

বাংলাদেশের সামনে এখন তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো আমরা কি আইনের শাসনের রাষ্ট্র গড়ব, নাকি জনতার আবেগের রাষ্ট্রে পরিণত হব? এই প্রশ্নের উত্তরই আমাদের গণতন্ত্র, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক নিরাপত্তা নির্ধারণ করবে।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট