• রোববার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১০ ১৪২৯

  • || ২৮ সফর ১৪৪৪

জানাজায় মৃতব্যক্তির প্রশংসা করলে কী হয়?

দৈনিক বগুড়া

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২  

প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য কোনো মৃতব্যক্তিকে নিয়ে যদি জানাজায় প্রশংসা করা হয়; তার জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার। এ প্রশংসা হতে পারে জানাজা নামাজের পুরো জামাতের ব্যক্তিদের। আবার হতে পারে কোনো প্রতিবেশি। আবার পরিচিত কমপক্ষে দুইজন ব্যক্তির প্রশংসাও মৃতব্যক্তিকে উত্তম প্রতিদানের হকদার করতে পারে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে এমনটিই ওঠে এসেছে।

মৃত ব্যক্তির প্রতি সত্যবাদী এক জামাত মুসলিমের উত্তম প্রশংসা, কমপক্ষে দুই জন পরিচিতি সামর্থ্যবান ও জ্ঞানসম্পন্ন প্রতিবেশীর প্রশংসা; যা মৃত ব্যক্তির জন্য জান্নাত অপরিহার্য করে দেয়। হাদিসে পাকে দুটি জানাজার ঘটনা থেকে তা প্রমাণিত। হাদিসে এসেছে-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ দিয়ে একটি জানাজা গেলো। এরপর তার (মৃতব্যক্তির) উত্তম প্রশংসা করা হলো, উত্তম প্রশংসা মুখে মুখে হতে থাকলো; তারা বললো আমাদের জানা মতে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসতো। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (তিনবার) বললেন, অপরিহার্য হয়ে গেলো। অপরিহার্য হয়ে গেলো। অপরিহার্য হয়ে গেলো।’

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ দিয়ে (অন্য) একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হলো, ঐ জানাজায় (মৃতব্যক্তির) নিন্দা জ্ঞাপন করা হলো (ঐ জানাজার নিন্দা মুখে মুখে লেগে থাকলো, তারা বললো লোকটি আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কতই না খারাপ ছিল!) এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (একই কথা তিনবার) বললেন, অপরিহার্য হয়ে গেলো। অপরিহার্য হয়ে গেলো। অপরিহার্য হয়ে গেলো।

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমার বাবা-মা আপনার জন্য কোরবান হোক। একটি জানাজার প্রশংসা করায় আপনি তিনবার ‘অপরিহার্য হয়ে গেলো’ বললেন। অপর জানাজায় নিন্দা জ্ঞাপনেও আপনি তিনবার ‘অপরিহার্য হলে গেলো’ বললেন? (এর কারণ কী?)

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা যার উত্তম প্রশংসা করলে তার জান্নাত অপরিহার্য হয়ে গেলো এবং তোমরা যার নিন্দা করলে তার জন্য জাহান্নাম অপরিহার্য হয়ে গেলো। আর তোমরা পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী। (মুসলিম)

প্রকৃত কথা হলো, কোনো মানুষ মারা গেলে তার ভালো গুণের প্রশংসা করা। ভালো ভালো গুণগুলোর কথা বলা তার জন্য অনেক বড় উপকারী। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ হাদিস সব মুমিনের জন্য অনেক বড় একটি শিক্ষা। কোনো মুসলিমের জন্যই উচিত নয় যে, দুনিয়ার জীবনে খারাপ বা মন্দ কাজে জীবন অতিবাহিত করা। এমন জীবন-যাপন করা জরুরি যে, জীবনের জন্য মৃত্যুর পরও মানুষ ভালো কথা ও কাজরে কথা বলবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আমলি জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দৈনিক বগুড়া
দৈনিক বগুড়া