শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

আনারসের গ্রাম আশাউড়া

আনারসের গ্রাম আশাউড়া

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের গ্রাম আশাউড়া। ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা এ গ্রাম সবার কাছে আনারসের গ্রাম হিসেবেই বেশি পরিচিত। কারণ গ্রামের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়বে ছোট-বড় টিলায় লাগানো আনারসের সাড়ি। গ্রামের সড়কের পাশে কিংবা বাসা বাড়ির আঙিনায় কিছু না পেলেও আনারসের দেখা মিলবেই। বাংলাদেশের ভেতরে থাকা অন্তত ১০০ টিলায় এ বছর আনারস চাষ হয়েছে।

তবে চাহিদা বেশি থাকায় অধিক উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশের টিলা ছাড়াও আনারস চাষে ব্যবহার করা হচ্ছে ভারতের সীমানায় থাকা টিলাগুলো। ভারতের কাছ থেকে জায়গা লিজ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করছেন বাংলাদেশের চাষিরা।

dhakapost

অধিক মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় আশাউরার আনারসের খ্যাতি রয়েছে সুনামগঞ্জ জুড়ে। প্রতিবছর জেলার মানুষ অপেক্ষায় থাকেন কবে আশাউরার আনারস বাজারে আসবে। তাই এই আনারস বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আনারস চাষিরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিপক্ক আনারস সংগ্রহ করছেন তারা। এরপর সেই আনারস বাগান থেকে সরাসরি চলে আসে সুনামগঞ্জের বাজারে। সারা জেলার মানুষের চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও যাচ্ছে আশাউড়ার আনারস।

স্থানীয় বাসিন্দা আজমত আলী বলেন, আমাদের এলাকার আবহাওয়া ও মাটি আনারসের জন্য উপযোগী। তাই আমাদের এলাকা আনারসের জন্য বিখ্যাত। সবাই আনারসের গ্রাম হিসেবে এক নামে আমাদের গ্রামকে চেনে।

dhakapost

আনারস বাগানের শ্রমিক অমিত রায় বলেন, এখন আনারস তোলার সময়। সারাবছর পরিচর্যা শেষে এখন আনারস কাটতে ব্যস্ত আমরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আনারস গাছ থেকে কেটে আনি। আনারসের গ্রাম হিসেবে পরিচিত হলেও আনারস বাজারজাত করণের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। প্রত্যেক বাগান সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন। জেলা শহরে যাওয়ার মূল সড়কের অবস্থাও নাজুক। ফলে অনেকটা বিপাকে পড়েছেন আনারস চাষিরা। তবে, সড়ক যোগাযোগ ভালো হলে আনারস চাষের প্রতি কৃষকরা আরও উৎসাহিত হবেন।

কৃষক নিতাই দাস বলেন, গত বছরের মতো এ বছরও আমাদের ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে দামও ভালো আছে। আমি এ বছর প্রায় ১০ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করতে পারব। তবে আমাদের যে প্রধান সমস্যা তা হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। যদি প্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণ করা হতো তাহলে সহজে শহরে আনারস পাঠাতে পারতাম। জেলা থেকে বিভিন্ন উপজেলায় যেত। আমাদের এলাকার কৃষক আনারস চাষে আরও উৎসাহ পেত।

dhakapost

উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর সদর উপজেলার প্রায় ৫০০ কেয়ার জায়গায় আনারসের আবাদ হয়েছে। যেখান থেকে কৃষক ৬ কোটি টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে। বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে এসে যার মূল্য হবে অন্তত ১০ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো রাকিবুল আলম বলেন, সুনামগঞ্জের আশাউরা গ্রামে সবচেয়ে বেশি আনারস চাষ হয়। বাংলাদেশের জায়গার পাশাপাশি ভারতের জায়গা লিজ নিয়েও আনারস উৎপাদন করা হচ্ছে। এ বছর বাম্পার ফলন হওয়ায় ও বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষক খুশি। এই আনারস রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় এর খ্যাতিও বেশি। পুরো জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলাতেও যাচ্ছে এই আনারস।

দৈনিক বগুড়া

সর্বশেষ: